শরীরে এইসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনি হরমোনাল সমস্যায় ভুগছেন, সচেতন হোন

আমরা সবাই কমবেশি হরমোনাল সমস্যায় ভুগে থাকি। কেউ সমস্যাগুলো বুঝতে পারেন আবার কেউ কোনো লক্ষণই বোঝেন না। কিছু বিষয় খেয়াল করলে আপনি বুঝবেন, যে আপনি হরমোনজনিত জটিলতায় ভুগছেন কিনা।

১. শারীরিক-মানসিক ক্লান্তি কমবেশি সবারই শারীরিক ও মানসিক অবসাদের অনেক কারণ থাকে। নারীদের এই সমস্যা প্রকট। একে শুধুমাত্র মন খারাপ মনে করে উড়িয়ে দেন অনেকেই। সারা সপ্তাহ কাজ বা পড়াশোনার ধকলের পর মানসিক বা শারীরিক ক্লান্তি আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু সারাক্ষণই ক্লান্ত থাকা এবং তার পাশাপাশি ওজন বেড়ে যাওয়া, রুচির ঝামেলা এবং বদহজমের উপসর্গ থাকলে সেটা হতে পারে আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের লক্ষণ। তাই কোনো কারণ ছাড়াই সবসময় ক্লান্ত অনুভব করলে তা ডাক্তারকে জানাতে হবে।

২. অনিয়ম ঋতূচক্র অবসাদের মতই অনিয়মিত পিরিয়ডের পেছনেও থাকতে পারে অনেক কারণ। যেমন স্ট্রেস, থাইরয়েডের সমস্যা, ইস্ট্রোজেনের অভাব অথবা PCOS (polycystic ovary syndrome)। PCOS এর লক্ষণ হলো অনিয়মিত পিরিয়ড, অনিয়ন্ত্রিত ওজন বাড়া অথবা শরীরে পশমের আধিক্য। তবে পিরিয়ড অনিয়মিত হবার পেছনে এটাই কি কারণ কিনা তা জেনে নিতে হবে, এরপর বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এর প্রতিকার করা যায়।

৩. ত্বকের সমস্যা ত্বকে ব্রণ ওঠার ব্যাপারটাকে অনেকেই হেলাফেলার দৃষ্টিতে দেখেন। কিন্তু মুখের নিচের অংশে ব্রণ ওঠার সাথে শরীরে উঁচুমাত্রার টেস্টোস্টেরনের সংযোগ থাকতে পারে।

৪. দ্রুত পশম বা চুলের বৃদ্ধি শরীরের এখানে সেখানে হঠাৎ করে পশম জন্মাতে শুরু করতে পারে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাবার কারণে। আর টেস্টোস্টেরন এভাবে বেড়ে যেতে পারে যদি শরীরে এক ধরণের টিউমার থেকে থাকে। তাই হঠাৎ এরকম লোমের বৃদ্ধি দেখলে ডাক্তারের শরনাপন্ন হোন।

৫. ঘুমের মাঝে ঘেমে যাওয়া ইলেক্ট্রিসিটি যদি চলে না যায় বা আপনার বেডরুম যদি কোনো কারণে অতিরিক্ত গরম না হয়, তাহলে ঘেমে-নেয়ে ঘুম ভেঙ্গে যাবার কারণ হতে পারে ইস্ট্রোজেনের অভাব এবং অনিয়মিত ডিম্বপাত। এই জটিলতাকে বলা হয় পেরিমেনোপজ। মেনোপজ হবার মতো বয়স হবার আরও বছর দশেক আগেই দেখা দিতে পারে পেরিমেনোপজ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন সমস্যাটি আরও গুরুতর কি না।