আদরের সন্তানকে ডিপ্রেশন থেকে বাঁচাতে মা-বাবার করণীয় জেনে নিন

প্রতি ৫ জনের ১ জন কিশোর-কিশোরীর অবসাদ ডিপ্রেশনে ভোগে। বিশেষ করে বয়সন্ধির সময় তাদের মধ্যে এই সমস্যাগুলো গুরুতর আকার ধারণ করে। এছাড়াও বর্তমানে বেশিরভাগ পরিবারই দেখা যায়। শিশু বাবা-মায়ের থেকে দূরে থাকছে। বাবা-মা কর্ম ক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকায় শিশু বড় হচ্ছে আয়ার কাছে। এতে করে তার সব কথা কারো সঙ্গে শেয়ারও করতে পারে না।

আসক্ত হচ্ছে ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তির ওপর এতে করে দেখা দিচ্ছে শিশুর শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি মানসিক সমস্যাও। অনেক সময় দেখা যায় মনের কথা কাউকে বলতে না পারার ফলে নিজেরাই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। মানসিক অবসাদে এতটা গ্রাস করে ফেলেছে আত্মহত্যার মতো কাজ করে ফেলে। এসময় তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন তাদের বাবা-মায়েরাই।

কিশোর-কিশোরীকে তার অবসাদ থেকে মুক্ত করার জন্য বাবা-মা হিসেবে আপনি অনেক কিছুই করতে পারেন। জেনে নিন আপনার করনীয় কী এই সময়…

সন্তানের পছন্দের গুরুত্ব দিন: সন্তানকে গান গাইতে ভালোবাসে বা ছবি আঁকতে? তারা তার শখ পূরণ করতে সাহায্য করুন। এতে পজিটিভ এনার্জির পরিমাণ বাড়বে। মন ভালো থাকবে। পছন্দের বিষয় নিয়ে আসে যত ব্যস্ত থাকবে, তার মনের অবসাদ তত দূর হবে।

দরকার সঠিক ঘুম: আপনার কি মনে হচ্ছে আপনার সন্তান অবসাদে ভুগছি? তাহলে লক্ষ করুন রাতে তার ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা? ঘুম ভালো না হলে অবসাদ বাড়বে। বিশেষজ্ঞ ষরা বলছেন, যারা রাতে কম জাগেন তাদের মধ্যে অবসাদের পরিমাণ কম হয়। তাই বাবা মা হিসেবে চেষ্টা করুন সন্তানকে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে বাধ্য করতে। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর কম সকালে তাড়াতাড়ি উঠার অবসাদ কমানোর জন্য অন্যতম উপায়।

পরিসংখ্যান বলছে, যারা রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান এবং সকালে তাড়াতাড়ি উঠে পড়েন। তাদের মধ্যে পজিটিভ এনার্জি পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। মন খারাপকে তারা সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারেন।

শরীরচর্চা অভ্যস্ত করতে পারেন: আপনার সন্তান কি স্বাস্থ্যসচেতন? তা যদি না হয় তাহলে তাকে বাধ্য করুন স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠতে। নিয়মিত এক্সারসাইজ ব্যায়াম করার জন্য সময় বেঁধে দিয়ে। যারা নিয়মিত এক্সারসাইজ করেন, তাদের শরীরে সে সমস্ত হরমোনের ক্ষরণ অনেক বেশি হয় যে হরমোন মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। এতে অবসাদ ডিপ্রেশনে পরিমাণ কমে।

নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন: প্রত্যেক মানুষের মধ্যে কিছু না কিছু সহজাত ক্ষমতা থাকে। যে ক্ষমতাগুলো ব্যবহার করে তারা হয়ে উঠতে পারেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। আপনার সন্তানের মাঝে তেমনি অনেক ক্ষমতা আছে। সে হয়তো এখনো সেগুলো আবিষ্কার করে উঠতে পারেনি। বাবা মা হিসেবে আপনার কর্তব্য সেই কিশোর-কিশোরীর পাশে দাঁড়ানো। তার ক্ষমতাগুলো তাকে চিনতে সাহায্য করা।