খুব সহজে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন তিন রকমের অ্যান্টি-এজিং ক্রিম, দেখুন বিস্তারিত

বয়স পঁচিশের ঘর পেরোলেই অ্যান্টি-এজিং ক্রিম, ফেসমাস্ক, বা ফেসপ্যাক প্রতিদিনের স্কিন কেয়ার রুটিনে রাখা উচিত। বাজারের অ্যান্টি-এজিং ক্রিম সবসময় সবার স্কিনে স্যুট করে না। উল্টো ওগুলোতে থাকা বিভিন্ন কেমিক্যাল স্কিনের আরো ক্ষতি করতে পারে। তাই আর্টিফিশিয়ালের চাইতে হোমমেইড অ্যান্টি-এজিং ক্রিম সবচাইতে নিরাপদ এবং কার্যকরী। আজকের আয়োজনে থাকছে ৩টি হোমমেইড অ্যান্টি-এজিং ক্রিম বানানোর পদ্ধতি, ব্যবহারবিধি, এবং সেগুলোর উপকারিতা।

১. কমলার অ্যান্টি-এজিং ক্রিম

কি কি লাগবে?

কমলার কোয়া – ৩-৪টি

গ্লিসারিন – ১ চা চামচ

অ্যালোভেরা জেল – ২ টেবিল চামচ

কিভাবে বানাবেন?

প্রথমে কমলার কোয়াগুলো বিচি ও আঁশ ফেলে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। রস করা হয়ে গেলে আধা টেবিল চামচ রস নিন৷ একটি বাটিতে প্রথমে কমলার রসের সাথে গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। এরপরে অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে সব মিশিয়ে নিন। সবশেষে অ্যালোভেরা জেল দিয়ে মসৃণ পেস্ট বানিয়ে ফেলুন।

ব্যবহারবিধিঃ

তৈরি করা কমলার অ্যান্টি-এজিং ক্রিম একটি এয়ার টাইট কাচের কৌটায় রেখে দিন। এই ক্রিম ১৫ থেকে ২০ দিন ব্যবহার করা যাবে। ফ্রিজে রাখতে হবে অবশ্যই। রাতে মুখ ধোয়ার পরে অল্প একটু ক্রিম নিয়ে আলতো করে মুখে মেখে নিবেন।

উপকারিতাঃ

কমলার ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানগুলো ত্বকের দাগছোপ কমায়, ব্রণ ও বয়সের ছাপ দূর করে, ত্বককে রাখে টানটান। এছাড়াও ত্বককে করে উজ্জ্বল, ঝকঝকে, এবং ন্যাচারালি সুন্দর।

অ্যালোভেরার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এটি শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। যা ত্বকের বলিরেখা হালকা করে এবং ত্বকের চামড়া ঝুলে যাওয়া রোধ করে।

২. তেলের অ্যান্টি-এজিং ক্রিম

কি কি লাগবে?

অ্যাভোকাডো তেল – ১ কাপের আট ভাগের এক ভাগ

নারিকেল তেল – ২ টেবিল চামচ

বিসওয়াক্স – ১ টেবিল চামচ

শিয়া বাটার – ১ টেবিল চামচ

ভিটামিন ই তেল – ৫ ফোঁটা

ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল – ৩ ফোঁটা

ফ্রাঙ্কিনসেন্স (লোবান) এসেনশিয়াল অয়েল – ১ ফোঁটা

এরোরুট পাউডার – ১ টেবিল চামচ

কিভাবে বানাবেন?

একটি কাচের জারে ভিটামিন ই তেল, এসেনশিয়াল তেল, এবং এরোরুট পাউডার বাদে সব উপকরণ ঢেলে মিশিয়ে নিন। একটি ছোট সসপ্যানের অর্ধেক অংশ পানিভর্তি করে চুলায় বসান। চুলার আঁচ মাঝারি রাখুন।

এবারে জারটা সসপ্যানের মাঝখানে বসিয়ে দিন। জারের উপকরণ গলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। মাঝে হালকা একটু নেড়ে দিবেন। সব গলে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।

রুম টেম্পারেচারে জারটা ঠান্ডা হতে দিন। হালকা ঠান্ডা হওয়ার পরে ভিটামিন ই তেল, এসেনশিয়াল তেল, এবং পাউডার মিশিয়ে নাড়তে থাকুন। ভালোমতো মেশানো হয়ে গেলে এয়ার টাইট করে সংরক্ষণ করুন।

ব্যবহারবিধিঃ

মুখ ধোয়ার পরে মুখে অ্যাপ্লাই করুন ক্রিম
এই ক্রিমটা শুষ্ক ত্বকের জন্য বিশেষ উপযোগী। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে এক বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। প্রতিদিন রাতে মুখ ধোয়ার পরে ব্যবহার করবেন। খুব সামান্য পরিমাণে নিয়ে মুখে অ্যাপ্লাই করুন। ব্যবহারের পরে তেল বাড়তি থাকলে ভেজা সুতি কাপড় দিয়ে আলতো করে চেপে মুছে নিন।

উপকারিতাঃ

অ্যাভোকাডো তেলে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বেটা ক্যারোটিন, ভিটামিন ই, এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান। এই তেল শুষ্ক ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে, চুলকানি ভাব কমায়, ত্বকের মৃত কোষ সরায়, ত্বককে হাইড্রেট করে, এবং টানটান রাখে।

নারিকেল তেল ত্বকের ফাইন লাইন আর রিঙ্কেল কমায়। এর অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান স্কিনকে গভীর থেকে পরিষ্কার করে।

ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান সমৃদ্ধ বিসওয়াক্স প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটরের কাজ করে, ত্বকে হাইড্রেশন যোগায়, বয়সের ছাপ কমায়, এবং দাগছোপ দূর করে।

শিয়া বাটার স্কিন ড্যামেজ কমায়, বলিরেখা কমায়, ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে, এবং উজ্জ্বল করে তোলে।

ভিটামিন ই তেল ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষার পাশাপাশি কোষ পুনরুজ্জীবিত করে, জ্বালাভাব কমায়, এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে।

ল্যাভেন্ডার এবং ফ্রাঙ্কিনসেন্স তেল দুটোই স্কিনের জন্য সর্বোত্তম উপযোগী অ্যান্টি-এজিং উপাদান। ল্যাভেন্ডার তেল ত্বকের যেকোন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। লোবান তেল ত্বক থেকে বয়সের দাগ, বিবর্ণ ভাব, এবং রোদে পোড়া দাগ দূর করে, স্কিন টানটান রাখে।

৩. গোলাপের অ্যান্টি-এজিং ক্রিম

কি কি লাগবে?

গোলাপের পাপড়ির রস – ১ টেবিল চামচ

আমন্ড অয়েল – ১ কাপের চার ভাগের এক ভাগ

বিসওয়াক্স – ২ টেবিল চামচ

ভিটামিন ই অয়েল – আধা চা চামচ

অ্যালোভেরা জেল – ১ টেবিল চামচ

লেমন/রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল – ৩-৪ ফোঁটা

কিভাবে বানাবেন?

একটি বাটিতে প্রথমে গোলাপের রস, অ্যালোভেরা জেল, এবং ভিটামিন ই অয়েল মিশিয়ে রাখুন। আরেকটি কাচের বোতলে বাকি উপকরণগুলো মিশিয়ে উপরে গোলাপের রসের মিশ্রণটা ঢেলে দিন। চুলায় একটি সসপ্যান চার ভাগের তিন ভাগ পানিভর্তি করে বসিয়ে দিন। অল্প আঁচে পানি ফুটতে দিন।

এরপরে বোতলটা সসপ্যানে বসিয়ে দিন। বোতলের মিশ্রণটি নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না পর্যন্ত সব গলে সুন্দরমতো মিশে যাচ্ছে। গলে গেলে চুলা থেকে বোতলটা নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। মিশ্রণটা জমে গেলে বোতলের মুখ ঢাকনা দিয়ে ভালো করে ঢেকে ফ্রিজে রেখে দিন।

ব্যবহারবিধিঃ

ফ্রিজে রেখে এই ক্রিম সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ মাস ব্যবহার করা যাবে। প্রতিদিন রাতে পরিষ্কার মুখে ব্যবহার করবেন, সকালেও করলে আরো ভালো হয়। স্কিনে লাগানোর পরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন। বাড়তি তেল থেকে গেলে ভেজা কাপড় দিয়ে চেপে নিবেন।

উপকারিতাঃ

আমন্ড অয়েল একটি ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার যা সব ধরণের স্কিনের জন্য মানানসই। স্কিনকে নরম ও উজ্জ্বল করে, স্কিনের যেকোন সমস্যা দূর করে।
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গোলাপের রস কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, ফ্রি র্যাডিকেল এবং এজিংয়ের বিরুদ্ধে কাজ করে।
লেমন এসেনশিয়াল অয়েল ত্বক থেকে বয়সের ছাপ কমায়। রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল ক্ষতিকর র্যাডিকেল থেকে ত্বককে রক্ষা করে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকায়।