কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ ও লক্ষণগুলো বিস্তারিত জানুন

কিডনির সমস্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্টোন বা পাথর হওয়ার সমস্যা। কিডনি স্টোন এর প্রাথমিক লক্ষণ গুলি নির্ভর করে পাথর কিডনির কোথায় এবং কিভাবে রয়েছে। কিডনিতে পাথর আকার আকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাথর খুব ছোট হলে সেটি কোন ব্যথা বেদনা ছাড়াই দীর্ঘদিন পর্যন্ত শরীরে থাকতে পারে। এজন্য টের পাওয়া যায় না।

কিডনিতে পাথর জমার কারণ:

কিডনিতে পাথর জমার বা তৈরি হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরীর কারণ বলে বিবেচিত হয় যেমন-

– শরীরের পানি স্বল্পতা। পানি কম খাওয়া।

– বারবার কিডনিতে ইনফেকশন হওয়া এবং এর জন্য যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা।

– অত্যাধিক পরিমাণে দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস।

– শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত আধিক্য।

কিডনিতে পাথর হওয়ার উপসর্গ-

– রক্তবর্ণের প্রস্রাব।

– বমি বমি ভাব। অনেক সময় বমিও হতে পারে।

– কোমরের পিছন দিকে ব্যথা হওয়া। এ ব্যথা তীব্র তবে সাধারণত খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ব্যথা কিডনির অবস্থান থেকে তলপেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চিকিৎসা:

কিডনির অবস্থান এ ব্যথা এবং রক্তবর্ণের প্রস্রাব হলে চিকিৎসকরা সাধারণত দুটো সম্ভাবনার কথা চিন্তা করেন। একটি হলো কিডনির ইনফেকশন, অন্যটি কিডনিতে পাথর। তাই কিডনির এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাম এবং প্রস্রাবের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি আর যথাযথ ঔষধ খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ‌ তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অস্ত্রোপচারই একমাত্র উপায়।

সতর্কতা:

– কিডনি স্টোন এর ঝুঁকি এড়াতে হলে অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।

– কখনো প্রস্রাব আটকে বা চেপে রাখবেননা। প্রস্রাবের বেগ আসলে চেষ্টা করবেন সঙ্গে সঙ্গে প্রস্রাব করার।

– প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।

– দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার অতিরিক্ত মাত্রায় না খাওয়াই ভালো।

– বারবার ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।