একটি মাত্র খাবারেই শিশুর আগ্রহ বেশী থাকলে আপনার করনীয়

কত কিছুই থাকে খাবারের টেবিলে, কিন্তু মুরগির মাংস ছাড়া ভাত খাবে না শিশুটি। মাছ, সবজি খাওয়ানোর চেষ্টা করলেও তাতে আগ্রহ নেই তার। আপনি যতই খাবারে ভিন্নতা আনতে চান, বাচ্চা হয়তো জেদ করে বসে আছে নতুন খাবার খাবেই না।

নির্দিষ্ট কিছু খাবারের প্রতি আকর্ষণ থাকা দোষের কিছু নয়। কিন্তু যদি অন্য খাবার একদমই খেতে না চায়, তবে তা নিয়ে ভাবতে হবে বৈকি। এই নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি আসক্তির কিছু কারণ বের করেছেন ইংল্যান্ডের কিছু গবেষক। এগুলো হলো:

১. শিশুর ব্যক্তিগত পছন্দ।

২. অন্যের আচরণ বা পছন্দকে অনুসরণ করা, যেমন—বড় ভাই বা বোনকে দেখে শেখা।

৩. অন্য খাবার প্রথম খেতে গিয়ে তার এমন কোনো অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা সুখকর নয়। যেমন অতিরিক্ত গরম বা ঝাল।

আসলে স্বাদের ভিন্নতার সঙ্গে শিশুকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় খুব ছোটবেলাতেই। ছয় মাসের পর থেকে শিশুকে শুধু খিচুড়ি নয় বরং ভিন্ন ভিন্ন ধরনের খাবার খেতে দিন। খেতে বসে ওর উপযোগী যেকোনো খাবার সামনে ধরিয়ে দিন, যেমন—মুড়ি, বিস্কুট, কেক, রুটির টুকরা—যা পান তা-ই। শিশুকে নিজে থেকেই খাবার পছন্দ করার সুযোগ করে দিন। একেক সময় টেবিলে একেক আইটেম রাখুন। সবার সঙ্গে টেবিলে বসান। সে দেখবে অন্যরা কীভাবে খায়।

একটু বড় শিশুদের মতামত নিন। রান্না করার আগে জিজ্ঞেস করুন কী রান্না হবে। শিশুর পছন্দের খাবারটি ছাড়া অন্য কয়েকটা খাবার কৌশলে টেবিলে রাখুন। এরপর তাকে পছন্দ করতে বলুন। শিশুকে নিয়ে বাজারে যান, রান্না করুন, খাবার প্রস্তুতে টুকটাক সাহায্য করতে উৎসাহিত করুন। শিশুর খাবার যেন খুব গরম না হয়। খেতে গিয়ে জিব পুড়ে গেলে ওই খাবারের প্রতি ভীতি জন্মাবে। তেমনি খুব ঝালও যেন না হয়। নতুন খাবার ধীরে ধীরে এবং অল্প পরিমাণে দেওয়া শুরু করবেন।

যা করবেন না

খাবার বেশি ভাজবেন না। খাবার নিয়ে জোর করবেন না, প্রয়োজনে আরেক দিন চেষ্টা করুন। সে খাচ্ছে না দেখেই তার পছন্দের চিকেন ফ্রাই বা নুডলস দিয়ে দেবেন না, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।