নতুন জুতায় পায়ে ফোসকা পড়লে যা যা করবেন

নতুন জুতা পরলে পায়ে ফোসকা পড়ে, এমন ঘটনা নতুন নয়। এমনটা কম-বেশি সবার সঙ্গেই হয়ে থাকে। নতুন জুতা পড়ে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করলেই দেখা যায় পায়ে গোড়ালির পেছন দিকে, আঙুলের পাশে কিংবা বুড়ো আঙুলের তলায় ফোসকা পড়ে গেছে। যা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। আবার ফোসকা পড়লে পরবর্তী ২ থেকে ৩ দিন ঠিকভাবে হাঁটা-চলাও করা যায় না।

মানুষের ত্বক কয়েক স্তরবিশিষ্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে ওপরের দুটি হলো- এপিডারমিস ও ডারমিস। কোনো আঘাত বা ঘর্ষণের ফলে প্রথমে এপিডারমিস পুরোপুরি ও ডারমিস আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তখন সে জায়গাটিতে ফোসকা পড়ে যায়। এতে অসহ্য জ্বলুনি ও ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি যদি ফোসকা ফেটে যায় তখন দগদগে ক্ষত তৈরি হয়। মাঝেমধ্যে সেই ঘা থেকে ইনফেকশনও হয়ে যেতে পারে।

তবে এই সমস্যার সমাধানও রয়েছে আপনার হাতের মুঠোয়। ওয়েব এমডি ম্যাগাজিন থেকে জানা যায়, ফোসকা পড়লে এর নিরাময়ের জন্য কী করা প্রয়োজন। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো-

মধু

দ্রুত ফোসকার ক্ষত সারাতে মধুর ব্যবহারও জনপ্রিয়। মধু দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষত সারাতে ভূমিকা রাখে।

আটা

দুই চা চামচ আটা পানির সঙ্গে গুলিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ফেটে যাওয়া ফোসকার ক্ষত দ্রুত শুকাতে এই পেস্ট সহায়ক।

অ্যান্টিসেপটিক

ফোসকা পড়ামাত্রই ফাটিয়ে পানি বের করে ফেলবেন না। যদি কোনো কারণে ফেটে যায়, ক্ষতস্থানে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগিয়ে ফেলুন।

ডিমের সাদা অংশ

ফোসকার ওপর যত দ্রুত সম্ভব ডিমের সাদা অংশ লাগিয়ে নিন। এতে যন্ত্রণা কমে যাবে। এমনকি ফোসকা পড়া রোধেও ডিমের সাদা অংশ কার্যকর।

অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরা জেল থাকা উপাদানগুলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। এগুলো ক্ষত সারাতে ও টিস্যুর উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখে। জ্বলুনিও কমায়।

গ্রিন টি

গ্রিন টিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে। এগুলো দ্রুত ফোলা কমানো ও প্রদাহ বন্ধ করতে সহায়ক। এক্ষেত্রে ব্ল্যাক টি দিয়েও কাজ চালানো যায়।

টুথপেস্ট

টুথপেস্ট হলো ফোসকা পড়ার পর সবচেয়ে কার্যকর প্রাথমিক চিকিৎসা। ক্ষতস্থানে টুথপেস্ট লাগালে সঙ্গে সঙ্গে জ্বলুনি কমে যায়। এটি ফোসকার ভেতরে জমা পানিও শুকাতে সাহায্য করে।

ভ্যাসলিন

নতুন বা শক্ত জুতা পরার আগে জুতার শক্ত জায়গাগুলোতে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। এতে শক্ত জায়গাগুলো খসখসে থাকবে না এবং ফোসকা পড়া অনেকটা রোধ হবে। এখানে নারকেল তেলও ব্যবহার করা যাবে।