সমবয়সী সন্তানদের মধ্যে রেষারেষি? দেখুন আপনার করনীয়

সন্তানদের মধ্যে রেষারেষি যেকোনো পরিবারে নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। একসঙ্গে ভাইবোন বড় হওয়ার সময় তাদের মধ্যে একধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিরাজ করে, বিশেষ করে মা-বাবার আদর-সোহাগ-সহমর্মিতা পাওয়ার ব্যাপারে।

কখনো-বা সন্তানেরা এ নিয়ে হতাশায় ভোগে। একে অন্যকে নানা শ্লেষাত্মক কটুবাক্যে বিদ্ধ করে, এমনকি মারামারি পর্যন্ত করে বসে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, শিশু বয়সে এই মনোমালিন্য কখনো কখনো সারা জীবন ধরে চলতে থাকে।

* বলা হয়ে থাকে, দুই বছরের কম বিরতিতে সন্তান জন্মদান করা হলে কাছাকাছি বয়সের সন্তানের মধ্যে রেষারেষি বেশি হয়।

* পালক সন্তানের মধ্যে এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব বেশি দেখা যায়।

* ঘরে যখন নতুন ভাইবোন আসে, তখন বড় সন্তান আগের মতো মা-বাবার কাছে মূল্য পাবে না বলে ধারণা করে। তা থেকে হতাশা দেখা দেয়। সে উত্তেজিত হয়, ভাঙচুর করে, কখনো-বা ছোট ভাই বা বোনকে আঘাত করে বসে।

* সন্তানের মধ্যে রেষারেষি প্রচণ্ডভাবে দেখা যায় ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে। কেননা, এ সময়ে স্কুলের রেজাল্ট ও অন্যান্য সামাজিক-পারিবারিক পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলো বিবেচনায় চলে আসে।

মা-বাবা যা করবেন:

* সন্তানকে যেকোনো নেতিবাচক চিন্তা পরিহার করতে বলুন।

* মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে কি না, তা আগেভাগে শনাক্ত করা জরুরি।

* প্রত্যেক বাচ্চার সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বসে আলাপ করুন।

* যখন সন্তানেরা একসঙ্গে খেলা করে, তাতে যোগ দিন।

* সন্তানদের মধ্যে রেষারেষির আচরণ কতটা পর্যন্ত সহ্য করা হবে ও কতটা সহ্য করা হবে না, তা সুনির্দিষ্ট করে নির্ধারণ করে দিন ও বুঝিয়ে বলুন।

* সব সন্তানকে সমানভাবে সময় ও গুরুত্ব দিতে চেষ্টা করুন।

মা-বাবা যা করবেন না:

* কোনো সন্তানের পক্ষ অবলম্বন।

* রেফারির মতো ভূমিকা পালন।

* কোনো খারাপ বিশেষণে সম্বোধন করা।

* সন্তানের মধ্যে শারীরিক আঘাত বা কটু বাক্যবিনিময় চলতে দেওয়া।