আপনার সন্তানকে কিছু আচার-আচরণ শেখান ছোটবেলা থেকেই

আদিবার (ছদ্মনাম) বয়স ৮ বছর। বেশ প্রাণোচ্ছল, পড়াশোনায়ও বেশ ভালো। সে একটি স্বনামধন্য স্কুলে পড়াশোনা করে। তবে বেশ কিছুদিন হলো তার বাবা-মা তাকে নিয়ে বেশ চিন্তিত, কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁরা একটি চিঠি পেয়েছেন, যার বিষয়বস্তু ছিল আদিবা প্রায়ই তার সহপাঠীদের জিনিসপত্র না বলে নিয়ে নেয়। কিন্তু পরে আর তা ফেরত দেয় না, এমন চলতে থাকলে স্কুল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। আদিবার বাবা-মা ভেবে পান না কী করবেন।

একটি শিশুর প্রথম শিক্ষার জায়গা হলো নিজের ঘর। শিশু নিজের বাড়িতে যা শেখে তা সে সারা জীবন মনে রাখে। তার আশপাশের সবাই যা করে তাই সে দেখে এবং তাই সে পরবর্তী সময়ে কাজে লাগায়।

সুতরাং শিশু যেন ভালো শিক্ষা পায় সেটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে তার বাড়িতে। এ ছাড়া শিশুকে কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায়, কোনটা স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক—এসব শিক্ষা বাবা-মাকে খুব ছোটবেলাতেই দিতে হবে। নৈতিক-অনৈতিকতার ভিত গড়ে তোলার প্রধান দায়িত্ব তার বাবা-মা ও পরিবারের।

একটি শিশু যখন দেখবে তার বাবা-মা কোনো ভালো কাজ করছেন, তখন সে ওই বিষয়ে আগ্রহী হবে। নিজেও তা-ই করতে চাইবে। তাই বাবা-মাকে সব সময় ভালো শিক্ষাটা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আদবকায়দা, যাদের সঙ্গে মিশবে তাদের সঙ্গে আচার-আচরণ কেমন হবে সবকিছু শেখাতে হবে। হয়তো তার কিছু একটা পছন্দ হলো, তার মানে এই নয় যে তক্ষুনি তাকে ওটা দিতে হবে।

কারও জিনিস নিতে হলে তার অনুমতি নিতে হয় অথবা কোনো জিনিস নেওয়া ঠিক হবে কিনা সেটা তাকে বোঝাতে হবে। এ ব্যাপারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটাই শিষ্টাচার এবং আদবকায়দার ব্যাপার। এই কাজগুলো দৃষ্টিকটু এবং রুচিবহির্ভূত। এ কারণে ছোটকাল থেকেই শিশুকে উচিত-অনুচিতের সীমারেখা বেঁধে দিতে হবে।’

অনেক সময়ই দেখা যায় আমরা একে অন্যের জিনিস ব্যাবহার করছি মালিককে জিজ্ঞাসা না করেই। হয়তো মালিকও মুখ ফুটে সেটা নিয়ে কিছু বলতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে দ্রুত সম্পর্ক খারাপ হয়। অনেক সময় শিশুরা না বুঝেই অন্য এক সহপাঠীর টিফিন খেয়ে ফেলে অথবা কোনো জিনিস নিয়ে চলে আসে—এ ব্যাপারে শিশুকে অবশ্যই শিক্ষা দিতে হবে। এটা যে উচিত নয় এটা তাকে বোঝাতে হবে। তা না হলে বড় হওয়ার পরও এই অভ্যাসগুলো থেকে যাবে।