চোখ ব্যথা দূর করার সহজ ১০টি ঘরোয়া উপায়

চোখব্যথা অনেক সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। বেশিরভাগ সময়েই এই ব্যথা গুরুতর কোনো রোগের সাথে জড়িত হয় না। তবে এর মানে এই না যে চোখ ব্যথা হলে আপনি তা উপেক্ষা করে চলবেন। দৃষ্টি আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাঝে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, এই দৃষ্টিশক্তির উৎস, অর্থাৎ আমাদের চোখ দুটির খেয়াল রাখা আমাদের সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে অনেক বেশি জরুরি।

আজ দেহ আপনাদের কাছে নিয়ে এসেছে চোখব্যথা থেকে কেমনে নিজেকে রক্ষা করবেন, এরই ১০টি সহজ উপায়। দৈনন্দিন কার্যকলাপে অনেক বাধার সৃষ্টি করে এই চোখব্যথা। তাই এই ব্যথা কমানোর উপায়গুলো জেনে রাখা অবশ্যই আপনার জন্য লাভজনক বলে প্রমাণিত হবে। আসুন দেরি না করে এই ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

১. চোখব্যথা দূর করে চোখের ব্যায়াম

আপনি হয়তো ভাবছেন চোখের ব্যায়াম আবার কী? যোগশাস্ত্রের কিছু নিয়মের অন্তর্গত ব্যায়ামের মাধ্যমে, চোখের চারপাশের পেশিগুলোকে শক্তিশালী ও ফ্লেক্সিবল করে তোলা যায়। কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে অনেকক্ষণ যাদের বসতেই হয়, এই ব্যায়ামগুলো তাদের জন্য বেশ উপকারী। ২০১৬ এর এক জরিপে দেখা গিয়েছে , যারা সপ্তাহে দু’দিন চোখের ব্যায়াম করেন তাদের চোখব্যথার হার ও তীব্রতা ক্রমশ কমে যায়। এর মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি যে এই ব্যায়াম আসলে কতটা কার্যকর।

২. গরম অথবা ঠান্ডা ভাপ চোখব্যথা দূর করে

গরম কিংবা ঠান্ডা ভাপ উভয়ই চোখব্যথা দ্রুত কমিয়ে আনতে সফল পন্থা। উভয় ক্ষেত্রেই , চোখের রক্তনালিতে রক্তের সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, এবং সাথেই চোখ রিল্যাক্স করার সুযোগ পায়। দীর্ঘসময় ধরে চোখের কাজ করার ফলে যে টনটনে ভাবের সৃষ্টি হয়, সে ক্ষেত্রে ঠান্ডা কিছু ধরে রাখলে লাভ বেশি হয়। আর ইনফেকশন এর কারণে যে ব্যথা হয়, সে ক্ষেত্রে আইসব্যাগ অথবা নরম পরিষ্কার কাপড়কে কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে, সেই কাপড় দিয়ে ভাপ দিতে পারেন।

৩. কান্না চোখের ব্যথা দূর করে

আমাদের চোখের জলে আছে কিছু অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট। এটি চোখের ব্যাকটেরিয়াগুলো ধুয়ে সরিয়ে ফেলে। চোখকে আর্দ্র রাখে এই পানি, ফলে চোখে ঘর্ষণজনিত ব্যথাও কমে যায়। তাই চোখের ব্যথা হলে খানিক কান্নাকাটি করা মোটেও খারাপ কিছু নয়।

৪. চোখব্যথা দূর করতে শসা

শসার উপকারিতা কেবল চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রূপচর্চায় বহুল ব্যবহিত এই সবজি হাল্কা ঠান্ডাভাব তৈরি করে, এবং আমাদের চোখের ব্যথাকে অনেকাংশে কমিয়ে আনে।

৫. চোখব্যথা দূর করে অ্যালোভেরা জেল

জ্বালাপোড়া আর নানান ধরনের ত্বকের সমস্যা দূরীকরণে ব্যবহার করা হয় অ্যালোভেরা জেল। চোখের ব্যথাও এই জেল ব্যবহার করে কমানো সম্ভব । তবে অবশ্যই এ ক্ষেত্রে পাতা থেকে সরাসরি জেল বের করে, কয়েক ফোঁটা পরিষ্কার পানি মিশিয়ে তরল করে মিশ্রণটি চোখের পাতায় লাগানো উচিত।

৬. চোখব্যথা দূর করার জন্য চোখকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন

কিছু রিসার্চের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, টানা ২০ মিনিট কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর, ২০ সেকেন্ডের ব্রেক নিয়ে অন্তত ২০ ফিট দূরের কোনো বস্তুর দিকে চোখ ফোকাস করে রাখলে, চোখে ব্যথা কম হয়। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যথা হলে অনেক সময় ডাক্তারেরা চোখকে একদিনের জন্য ঢেকে রাখার উপদেশ দিতে পারেন।

৭. চশমা ব্যবহার করা

আপনি যদি নিয়মিত কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করে থাকেন, তবে সবসময় সাথে একই পাওয়ার এর একটি চশমা রাখবেন। লেন্স যখন ব্যবহার করবেন না তখন চোখে চশমা দিয়ে রাখবেন। লেন্স ঘনঘন বসানো আর খোলার ফলে চোখের কর্নিয়াতে যে ক্ষত তৈরি হয়, তা বিশ্রাম পেলে সেরে ওঠে , তাই চশমা ব্যবহার করা এসব ক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয়।

৮. কেমিক্যাল ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন

ঘরোয়া কাজে নানান ধরনের কেমিক্যাল যেমন ক্লিনার, ডিটারজেন্ট , ব্লিচিং পাউডার, পোকামাকড় মারার ঔষধ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এসব পাউডার ও স্প্রে অবশ্যই শরীর থেকে, বিশেষত চোখ থেকে দূরে রাখা উচিত।

৯. বেশি করে পানি খাবেন

পানি আমাদের শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সুস্থ রাখে, এমনকি চোখকেও। পানির অভাবে চোখের বহির্ভাগ শুকিয়ে যায় , ফলে ব্যথা ও জ্বালা অনুভূত হয়। তাই বেশি বেশি করে পানি খাবেন।

১০. ডাক্তার দেখান

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথার পেছনে গুরুতর কারণ লুকিয়ে থাকে। এছাড়াও চোখের ব্যথা যদি ঘনঘন হয়, এবং ব্যথার সাথে যদি অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয় যেমন, চোখে ঝাপসা দেখা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কিংবা কোন কিছু দিয়ে চোখে আঘাত পাওয়া ইত্যাদি সমস্যা থাকলে অবশ্যই দেরি না করে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

এসব তথ্য আপনার চোখকে সুস্থ ও সচল রাখতে সাহায্য করবে। আপনার চোখ ব্যথা-মুক্ত থাকলে আপনার দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো কাজ করতে আপনি আর হিমশিম খাবেন না। আর এ বিষয়ে আপনার যদি কিছু জানার ইচ্ছা থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের ফেসবুক পেজে মেসেজ দিয়ে রাখতে পারেন।