বিরক্তিকর নাকডাকা বন্ধের ১০টি দুর্দান্ত উপায় শিখে নিন

এমন কোনো বাধা নেই যা ভালোবাসাকে আটকাতে পারে শুধু নাকডাকা বাদে। যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেনে বিবাহ বিচ্ছেদের ৩য় প্রধান কারণ হল ঘুমের সময় নাকডাকা। এছাড়াও নাকডাকার কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

নাক ডাকা বন্ধে কিছু সুন্দর পরামর্শ নিয়ে দেহ’র আজকের এই লেখা। যার মাধ্যমে আপনি এই বিরক্তিকর অভ্যাসটি কাটিয়ে উঠতে পারেন। চলুন দেখে নেই কী কী পরামর্শ থাকছে আপনার জন্য।

১. কাত হয়ে শোয়া

আপনি যখন আপনার পিঠে ভর দিয়ে ঘুমান, তখন আপনার জিহ্বার পেছনের অংশ ও আলজিভ গলার পেছনের দেয়ালে ধসে পড়ে যা শ্বাস প্রশ্বাসে বাধা দেয় এবং ফলস্বরূপ নাকডাকার শব্দ হয়। তাই আপনি যদি একপাশে কাত হয়ে ঘুমান, এটি আপনার গলা খোলা রাখতে সাহায্য করে নাকডাকা বন্ধ করবে।

২. শরীরের ওজন কমালে নাক ডাকা কমে

যারা একটু মোটাসোটা তাদের বেশিরভাগই ঘুমানোর সময় নাক ডাকেন। যদি আপনার ওজন বেশি হয়। তবে আপনার ফুসফুস এবং ঘাড় বায়ু গ্রহণে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্লিপ এপনিয়াও হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব শরীরের ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

৩. ঘুমানোর আগে ভালো করে নাক পরিষ্কার করুন

ঘুমানোর আগে ভালো করে নাক দিয়ে জোরে জোরে বাতাস ছাড়ুন, যাতে কোনো ময়লা আটকে না থাকে। মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়ার কারণে নাক ডাকা শুরু হয়। এর জন্য ভালো করে নাক ঝাড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। প্রয়োজনে বিভিন্ন ন্যাজাল স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

৪. নাক ডাকা বন্ধে স্ট্রিপ ব্যবহার করুন

যার সাথে ঘুমাচ্ছেন, তার যদি নাক বন্ধ হয়ে যায় বা আটকে যায় এই ধরনের সমস্যা থাকে তাহলে তাকে নাকে স্ট্রিপ লাগাতে বলুন। এটি শ্বাসপ্রশ্বাসে সাহায্য করবে। সেই সাথে শ্বাসকষ্ট কমাতেও ভূমিকা রাখে।

৫. আঁকাবাঁকা নাক, রাইনাইটিস বা নাকের অন্য কোনো সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা নিনআগের কোন টিপসেই যদি কাজ না হয় তাহলে ডাক্তারের কাছে যান।

আঁকাবাঁকা নাক, সাইনোসাইটিস এসবের ট্রিটমেন্ট করান। কারণ সমস্যা এগুলোর কারণেও হতে পারে।

৬. নাক ডাকা বন্ধে কান বন্ধ করার উপায় খুঁজুন

যদি কোন কিছুতেই কাজ না হয় এবং আপনার সঙ্গী ডাক্তারের কাছে যেতেও না চায় তাহলে আপনার জন্য একটি অপশন আছে তা হল ইয়ার-প্লাগ ব্যবহার করুন। বিরক্ত লাগলে মাঝে মাঝে খুলে রাখুন।

৭. নাকডাকা বন্ধের প্রাকৃতিক সমাধান

নে-টেলস (Nettles) জাতীয় অ্যান্টি-হিস্টামিন ব্যবহার করুন। এক কাপ শুকনো পাতা ১০ কাপ পানিতে ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে চা বানিয়ে ঘুমানোর আগে পান করুন। পুদিনাপাতা পানি দিয়ে কুলকুচি করলে অ্যালার্জির বিরুদ্ধে কাজ করে।

৮. বাড়িঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন

নাকডাকার প্রধান কারণ হলো অ্যালার্জি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন। বিশেষ করে নিজের রুম পরিষ্কার করা বেশি জরুরি। পর্দা, চাদর নিয়মিত ধৌত করুন। ঘরের কোণ পরিস্কার করুন।

৯. আপনার খাবারের রুটিন চেক করুন

বিশ্বাস করুন আর না করুন। নাকডাকার সাথে অনেক কিছু সম্পর্কিত। ঘুমানোর আগে ভারী খাবার ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। কারণ অ্যালকোহল মাংশপেশি নিস্তেজ করে দিয়ে নাকডাকতে সাহায্য করে।

১০. আলাদা রুমে ঘুমান

আলাদা বেডরুমে ঘুমানোটা কিছুটা চরম শোনা যায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভালো করে ঘুমাতে চাইলে তাই করতে হবে। আরেকটি বিকল্প হলো বিপরীত দিকে ঘুমানো একজনের মাথার দিকে আরেকজনের পা দেয়া। এতে করে নাকডাকার শব্দ কিছুটা হলেও কম শোনা যাবে।

এই কাজগুলো আপনাদের সমস্যা দূর করতে যথাযথ হবে বলে আমরা মনে করি। যদি তাতেও কাজ না হয়, এর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করাটাই বোধহয় সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এই টিপসগুলো আপনাদের কতটুকু কাজে দিলো বা আপনাদের কাছে যদি এর চেয়ে ভালো কোন উপায় জানা থাকে, অবশ্যই আমাদের পাঠকদের সাথে তা শেয়ার করুন।