এই ১০টি আচরণগত বদভ্যাস সকলেরই অতিদ্রুত ত্যাগ করা উচিত

বদভ্যাস যেমন বিব্রতকর, তেমনি তা হতে পারে সম্মানহানির কারণ। আমরা সাধারণত নিজেদের হাত, পায়ের গতিবিধি বা মুখভঙ্গি লক্ষ করিনা, যদিও এসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দৈহিক অঙ্গভঙ্গি থেকে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার অনেকটা আন্দাজ করা যায়। এই বদভ্যাসগুলো হতে পারে মানুষ আপনাকে এড়িয়ে চলার কারণ!

আজ দেহ আপনাদের জানাবে এমন ১০টি বদভ্যাস, যা আপনার অবশ্যই ত্যাগ করা উচিৎ। আসুন, দেখে নেয়া যাক এর মধ্যে কোন কোন অভ্যাস আপনার মাঝে বিদ্যমান।

১. নখ কামড়ানোর বদভ্যাস

নখ কামড়ানো বা দাঁত দিয়ে নখ কাটার স্বভাব অনেকের মাঝেই লক্ষ্ করা যায়। কিন্তু এই বদভ্যাস আপনার আত্মবিশ্বাসের অভাব প্রকাশ করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি হয়তো আপনার মানসিক ধকল কমাতে সাহায্য করে, তবে এর ফলে সামনের ব্যক্তি বিরক্ত হতে পারেন। এটি আপনার নখের আকার নষ্ট করে। সবচেয়ে বড়ো কথা, যেহেতু মানুষ আপনার আচরণ দিয়ে আপনাকে বিবেচনা করে থাকে, সুতরাং এটা আপনার ব্যক্তিত্ব ও আভিজাত্য নষ্ট করে।

২. কথা বলার সময় কম অথবা অতিরিক্ত দৃষ্টি সংযোগ

কথা বলার সময় মানুষের চোখে না তাকানো, আপনার আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি প্রকাশ করে এবং আপনার চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আবার সরাসরি তীব্রভাবে কারো চোখে তাকিয়ে থাকাও আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং অপর ব্যক্তির অস্বস্তির কারণ। তাই সচেতনভাবে নিজের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩. নিজের ঘাড়ে হাত ঘষার বদভ্যাস

আপনি হয়তো চিন্তার মুহূর্তে নিজের ঘাড় বা চুলের পেছনের অংশে হাত বুলান, অনেকে আবার কারণ ছাড়াই করে থাকেন এটি। যদি এমন হয়, অবশ্যই চেষ্টা করুন বদ অভ্যাসটি ত্যাগ করতে। কারণ এটি আশেপাশের মানুষের কাছে আপনার উদ্‌বেগ এবং অস্বস্তি প্রকাশ করে এবং আপনার আত্মবিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

৪. অস্থিরতা প্রকাশ

উদ্‌বেগপূর্ণ মুহূর্তে আমরা সবাই কিছুটা অস্থির হয়ে পড়ি। কিন্তু বারবার নিজের চুল ধরা, আঙুলের আংটি ঘোরানো, হাত বা পায়ের আঙুল দিয়ে শব্দ করা কিংবা ক্ষণে ক্ষণে ঘড়িতে সময় দেখার মতো অভ্যাস আপনার ত্যাগ করা উচিত। কারণ এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে, আপনি একঘেয়েমি বোধ করছেন বা মনোযোগী নন। অনেক ক্ষেত্রেই এটি আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে।

৫. হাত-পা পেঁচিয়ে বসার বদভ্যাস

এটি অনেকেরই সহজাত অভ্যাস। কিন্তু বিশেষ করে যখন কারো সাথে বসে আলাপ করবেন। তখন যদি হাত বা পা পেঁচিয়ে বসেন তাহলে তা বিপরীত পাশের ব্যক্তির মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি প্রতিরক্ষামূলক ভঙ্গি হিসাবে দৃশ্যমান হতে পারে এবং মনে হতে পারে যে আপনি অন্যপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। পা স্বাভাবিক এবং হাত দুইপাশে দৃশ্যমান রাখলে আপনাকে দেখতে বেশি বিশ্বাসযোগ্য দেখায় বলে মনোবিজ্ঞানীগণ অভিমত দেন।

৬. কুঁজো বা হেলে হয়ে দাঁড়ানো

দাঁড়ানোর ভঙ্গি আমাদের আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে জানান দেয়। আপনি যদি কুঁজো হয়ে বা হেলে দাঁড়ান তাহলে এটি আপনার অনিরাপদবোধ প্রকাশ করা হয়ে থাকে। যদি এই ব্যাপারে সচেতন না হোন তবে এটি একটি বদ অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। এটি আশেপাশের মানুষের নিকট আপনাকে দুর্বলভাবে দৃশ্যমান করবে।

৭. অমনোযোগী ভাব

কেউ কথা বলার সময় অমনোযোগী ভাব দেখানো অভদ্রতা। কিন্তু অনেক সময় নিজের অজান্তেই আপনি এমন কাজ করে বসেন যা আপনাকে বক্তার চোখে অমনোযোগী প্রমাণ করে। কথোপকথন এর সময় বক্তার দিকে তাকান এবং তাকে বোঝান যে তার প্রতি আপনি শ্রদ্ধাশীল এবং তার কথায় মনোযোগী।

৮. কৃত্রিম ও অকারণ হাসি!

আনুষ্ঠানিক পরিবেশেও হাসতে ভুলবেন না। এটি পরিবেশকে সহজ করে তোলে। তবে কৃত্রিম ও অকারণে হাসবেন না। এটি আপনার সততা ও বিশ্বাস-যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

৯. অকারণে চোখ ঘোরানো

কথার মাঝে চোখ ঘুরিয়ে নেয়া বক্তার জন্য অসম্মানজনক। এটি সামনের ব্যক্তির কাছে আপনার বিরক্তি এবং একঘেয়েমি প্রকাশ করে। এই কাজ আপনাকে চাকরিচ্যুত পর্যন্ত করতে পারে!

১০. মূর্তিমান ভাব

কথোপকথনে অতিরিক্ত শান্ত বা চুপচাপ থাকাও আপনার অনাগ্রহ প্রমাণ করে। সচেতন ভাবে আলোচনায় অংশ নিন। নিজের আগ্রহ প্রকাশ করুন।

আশা করছি তথ্যগুলো আপনাকে আরও ব্যক্তিত্ববান হতে সাহায্য করবে। কমেন্ট করে জানাবেন আপনার মতামত এবং শেয়ার করে জানিয়ে দিন আপনার বন্ধুদের। ভালো থাকুন। নিরাপদ থাকুন। ধন্যবাদ দেহ’র সাথে থাকার জন্য।