দ্রুত ওজন কমাতে দারুন কার্যকর স্বাস্থ্যকর এই ১০টি পানীয়

অতিরিক্ত ওজন কমাতে কম-বেশি সবাই চেষ্টা করেন। শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে নানা রোগের জন্ম হয়। অনেকেই এমন আছেন যাদের বেশি পানি খেতে ভালো লাগে না। যারা পানি খেতে কম পছন্দ করেন, তাদের জন্য Health Drinks এর বিকল্প নেই।

খাবার নিয়ন্ত্রণ করে যখন কোনো ফল পাওয়া যায় না তখন স্বাস্থ্যকর ডায়েট ড্রিংকস হতে পারে আপনার একমাত্র ভরসা। খাদ্য ও পুষ্টিবিদদের মতে অনেক পানীয় রয়েছে যেগুলো স্বাস্থ্যকর ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। দেহ’র আজকের আয়োজন সাজানো হয়েছে এমন কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয় নিয়ে, যা আপনার তৃষ্ণা মেটানোর সাথে সাথে ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

১. ওজন কমাতে লেবু পানি

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে অনেকেই পানি খেয়ে ফেলেন। একটু ভিন্নভাবেও শুরু হতে পারে আপনার সুন্দর সকাল। পানির বিকল্প হিসেবে শুরু করুন লেবু-পানি খাওয়া। ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ মধু এবং কুসুম গরম পানির সমন্বয়ে আপনি পেয়ে যাবেন কার্যকর লেবু-পানি। বাড়তি মেদ আপনার শরীরে জমার সুযোগই পাবে না।

২. আদা ও লেবু

শুধু লেবু পানি খেতে অনেকের ভালো লাগে না। আদা ও লেবুর মিশ্রণ করে খেতে পারেন। জাদুকরী এই পানীয় খেলে ওজন আপনার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তেমন কিছুই করতে হবে না আপনাকে। আদা কুচি করে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সেই পানির সাথে আরও পানি যোগ করে একটি সম্পূর্ণ লেবু রস করে তৈরি করে ফেলতে পারবেন আদা ও লেবুর মিশ্রণ।

৩. দারুচিনি ও মধুর মিশ্রণ

ভেষজ গুনাগুণ রয়েছে দারুচিনি ও মুধতে। দিনে দুইবার খেলে প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের মেদ দূর করবে। দারুচিনি কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রেখে আপনার শরীর সুস্থ রাখবে। ফুটন্ত পানিতে সমপরিমাণ দারুচিনি ও মধু নিয়ে বানিয়ে ফেলুন মিশ্রণ। সবচেয়ে ভালো হয় যদি খালি পেটে খেতে পারেন তাহলে।

৪. ওজন কমাতে গ্রিন টি

সকালে খালি পেটে অনেকেই লেবু পানি খেতে চান না। বিকল্প হিসেবে তাদের জন্য রয়েছে গ্রিন টির ব্যবস্থা। আপনার সকাল শুরু করতে পারেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি দিয়ে। ওজন কমানোর চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলুন। স্বাস্থ্যকর এই পানীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বাড়িয়ে দিবে আপনার।

৫. ওজন কমাতে ডাবের পানি

সারা বছর বেশির ভাগ মানুষ কোমল পানীয় খেতে পছন্দ করেন। আপনার অজান্তেই কোমল পানীয় শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয়। ডাবের পানি পান করা শুরু করতে পারেন কোমল পানীয় এর বিকল্প হিসেবে। ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। আপনাকে সতেজ রাখার পাশাপাশি ক্ষুধা কমিয়ে দিবে ডাবের পানি।

৬. তরমুজের শরবত

গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ আপনি হয়তো বছরের বাকি সময় পাবেন না। তবে শুধু গরমের সময়টুকুই আপনি এর সঠিক ব্যবহার করতে পারেন। আপনি জেনে অবাক হবেন, রসালো এই ফলে খুবই কম ক্যালোরি বিদ্যমান। তরমুজের সাথে শুধু বরফকুচি মিশিয়েই আপনি ঘরোয়া ভাবে বানাতে পারেন তরমুজের শরবত।

৭. ওজন কমাতে করলার জুস

সবজি হিসেবেই পছন্দের তালিকাতে থাকে না করলা। জুসের কথা শুনে আপনার হয়তো মাথায় হাত। খেতে ভালো না লাগলেও আপনার হজমে দারুণ ভূমিকা পালন করবে এই জুস। করলাতে ক্যালোরি অনেক কম পরিমাণে থাকে। তাই শরীরে ফ্যাট জমতে পারে না।

৮. দই-টমেটোর শরবত

স্বাস্থ্যকর টমেটোতে রয়েছে ব্যাপক পুষ্টিগুণ। আবার অনেকেই খাওয়ার শেষে দই খান । আপনি হয়তো জানেন না, দইয়ের ভিন্ন গুণের কথা। এক কাপ টক দইয়ের সাথে টমেটো নিয়ে বানিয়ে ফেলুন মজাদার দই-টমেটোর শরবত। দিনভর চাঙ্গা রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করে এই শরবত।

৯. ওজন কমাতে ব্ল্যাক কফি

অনেকে দুধ এবং চিনি মিশিয়ে অনেকেই কফি খেতে পছন্দ করেন। অনেকে আবার দিনে ৩—৪ বার খেয়ে ফেলেন। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির পাশাপাশি ওজন বাড়িয়ে ফেলে দ্রুত এরকম কফি। ব্ল্যাক কফিতে দুধ বা চিনি কিছু থাকে না । দিনে ২/৩ বার এই কফি ওজন কমানোর হাতিয়ার হতে পারে।

১০. সবজির রস

খাদ্যতালিকাতে রকমারি সবজি অনেকের থাকে। সবজি দিয়ে ঝটপট বানিয়ে ফেলতে পারেন জুস। যারা সবজি খেতে কম পছন্দ করেন, জুস তাদের জন্য কার্যকরী। বিশেষ করে খাওয়ার আগে জুস খেলে আপনি খাবার তুলনামূলক কম খেতে পারবেন। দেহের অতিরিক্ত ওজন কমানোর সহজ টিপস সবজির জুস খাওয়া।

অনেকেই এমন আছেন যাদের বেশি পানি খেতে ভালো লাগে না। তাদের জন্য এই Health drinksগুলো হতে পারে ভরসা। আপনার বন্ধু পরিজনের সাথে আমাদের এই লেখাটি শেয়ার করে ফেলুন। যারা ওজন নিয়ে চিন্তিত, তাদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন।