মাথাব্যথা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ এইসব তথ্য সবারই জেনে রাখা উচিৎ

মাথাব্যথা এমন এক সমস্যা, জীবনে অন্তত একবার হলেও যার সম্মুখীন আমাদের হতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মতে, বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের অর্ধেকের বেশি বছরে একবার করে হলেও মাথাব্যথায় আক্রান্ত হন। এটি এমন এক সমস্যা যা প্রায়ই আমরা উপেক্ষা করি। তবে মাথাব্যথা না এড়িয়ে এর জন্য দায়ী কারণগুলো এবং করণীয় সম্পর্কে জেনে রাখা উচিৎ।

দেহ সব সময়ই আপনাদের সুস্থতার জন্য নতুন নতুন পরামর্শ নিয়ে আসে। আজ আমরা এই মাথাব্যথার বিস্তারিত তথ্য আপনাদের কাছে তুলে ধরতে যাচ্ছি। আসুন জেনে নেই আমরা এই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সমস্যার কথা।
মাথাব্যথার কারণ

নানান কারণেই এই ব্যথার সৃষ্টি হয়ে থাকে। যথাযথ পরিমাণ পানি না খেলে, ঘুম ঠিকমতো না হলে, অতিরিক্ত কাজের চাপে, স্ট্রেস কিংবা অত্যধিক কোলাহলে থাকলে এই ব্যথার উপদ্রব হতে পারে। এছাড়াও ভাইরাল ইনফেকশন, সাধারণ জ্বর, সাইনাসের রোগ আর মাথায় লাগা আঘাত থেকেও কিন্তু চরম মাথাব্যথা শুরু হয়।

ইন্টারন্যাশনাল হেডঅ্যাক সোসাইটি প্রবর্তিত মাথাব্যথার শ্রেণিবিভাগটি বহুলপ্রচলিত এবং স্বীকৃত বলে, আমরা এই অনুসারে মাথাব্যথার মূল কারণগুলো জেনে নেবো।
প্রাইমারি হেডঅ্যাক/ প্রাথমিক মাথাব্যথা

৯০% এর বেশি মাথাব্যথা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মাঝে এর প্রথম আবির্ভাব ঘটে। এই শ্রেণির মাথাব্যথার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মাইগ্রেনের ব্যথা, ক্লাস্টার ও টেনশন জনিত মাথাব্যথা।
সেকেন্ডারি হেডঅ্যাক/ পরিবর্তিত মাথাব্যথা

মাথা কিংবা গলার বিভিন্ন রোগ থেকেও সৃষ্টি হয় তীব্র মাথাব্যথা। এর মাঝে কিছু সাধারণ কারণ হলো:

১. গলার পেশিতে টান খাওয়ার ফলে সৃষ্ট ব্যথা

২. প্রয়োজনের বেশি পেইন কিলার খাওয়া

৩. মেনিনজাইটিস

৪. মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ

৫. ব্রেইন টিউমার

৬. গ্লুকোমা

৭. মস্তিষ্কের ভেতরকার কোন রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া

৮. প্যানিক অ্যাটাক

এছাড়া কিছু বিরল কারণ রয়েছে, যেমন কার্বন মনোক্সাইড পয়জনিং, খিঁচুনি, পরিপাকতন্ত্রের রোগ ইত্যাদি।

মাথাব্যথার ধরন

মাথাব্যথা একটা নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে পুরো মাথায় ছড়িয়ে যেতে পারে। অথবা এই ব্যথা মাথার কেবল একটা স্থান জুড়েই থাকতে পারে। ব্যথাটা কখনো হতে পারে ছুরির আঘাতের মতো তীব্র, কখনো বা হতে পারে ভারি কম্পনের মতো। কিছু আবার হয় চাপা নিস্তেজ ব্যথা যা কিনা ধীরগতিতে ছড়ায়। ব্যথার আয়ুও এক এক ক্ষেত্রে এক এক রকম। কখনও এটা কয়েক ঘণ্টায় সেরে যায়, কখনওবা কয়েকদিন স্থায়ী হয়।

মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার একপাশ জুড়ে কম্পনের মতো হতে থাকে। এই ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব, চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘুরানো ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

ক্লাস্টার হেডঅ্যাকও কিন্তু মাথার একপাশে হয়, তবে এই ব্যথা হয় আরো তীব্র। আর এটা প্রায়শই চোখের আশেপাশে হয়।

পেইনকিলার অতিরিক্ত খেয়ে নিলে যে ব্যথা হয় সেটির সাথে ঘাড়ে ব্যথা, নাক বন্ধ হওয়া আর ঘুমের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এসবও সৃষ্টি হয়।

মাথাব্যথা হলে কী করবেন?

১. গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন।

২. নীরব এবং অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম নিন। চোখ বুজে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। টিভি দেখা, লেখাপড়া করা কিংবা অন্য যেকোনো কাজ যার ফলে চোখে প্রেশার পড়তে পারে এমন কাজ এড়িয়ে চলুন।

৩. ঠান্ডা ভেজানো কাপড় অথবা ‘কোল্ড প্যাড’ ব্যথার জায়গায় ১০ থেকে ২০ মিনিট রাখলে ব্যথা কমে যেতে পারে।

৪. হাল্কা গরম কাপড় ব্যবহার করে ঘাড় এবং গলার পেশিকে কিছুটা আরাম দিতে পারেন।

৫. অন্য কাউকে দিয়ে একটু ম্যাসাজ করিয়ে নিন।

৬. ব্যথার জন্য সময় করে চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন।

৭. প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ ব্যতীত অন্য কোনো ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকবেন।

শেষ কথা হিসেবে বলতে চাই, মাথাব্যথা নিয়ে সতর্ক থাকবেন বটেই, তবে এটা হলে আতঙ্কিত হয়ে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। সামান্য সচেতন হলে কিন্তু আপনি সহজেই এই সমস্যাটাকে জয় করে ফেলবেন।