প্রিয়জনকে আলিঙ্গনের অনেক উপকারিতা, জেনে নিন বিস্তারিত

আলিঙ্গন হচ্ছে শারীরিক অন্তরঙ্গতার একটি অংশ। এর মাধ্যমে শুধু দুইজন মানুষের শরীর স্পর্শই হয় না বরং মনের স্পর্শও হয়ে থাকে। আর এর কারণে কমে যায় মনের ব্যাথাও। আলিঙ্গনের সময় ‘অক্সিটোসিন’ নামক একটি হরমোনের নিঃসরণ হয় যা বিষণ্ণতা, রাগ ও একাকীত্ব দূর করে মনে প্রশান্তি আনে। শুধু তাই নয় প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরলে যে উপকারিতা হয় সেটা জানলে আর ছাড়তেই চাইবেন না।

চলুন জেনে নেয়া যাক আলিঙ্গনের উপকারিতাগুলো কী:-

দূর হয় একাকীত্ব: আমরা জীবনধারা এখন অনেকটাই নির্ভর হয়ে গেছে ভার্চুয়াল কেন্দ্রিক। প্রযুক্তি আমাদের আরো কাছাকাছি নিয়ে আসলেও শারীরিকভাবে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু স্পর্শ এখনো মানুষের আবেঘে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। আর তাই আলিঙ্গন করলেই দূর হয়ে যাবে একাকীত্ব।

মনের ব্যথা কমায়: এটা শুনে হঠাৎ অবাক হয়ে গেছন? তবে এটা সত্য যে, আপনি যদি খুব মানসিক যন্ত্রণায় থাকেন, তাহলে আপনার প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরুন, দেখবেন মানসিক যন্ত্রণা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। ইসরায়েলের হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণা করে জানান যে, আলিঙ্গন অনেকটা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক ট্যাবলেটের মতো কাজ করে।

কথা বলা যেখানে ব্যর্থ, আলিঙ্গন সেখানেই সফল: জীবনে এমন অনেক সময় আসে যখন আপনি এত বেশি উত্তেজনায় থাকেন যা কথার মাধ্যমে প্রকাশ সম্ভব হয়ে ওঠে না। তখন নীরবে একবার জড়িয়ে ধরাতেই সব কথা বলা হয়ে যায়। একটি শব্দও খরচ না করে সামনের জনকে জড়িয়ে ধরে বুঝিয়ে দেয়া যায় তাকে আপনি কতটা ভালোবাসেন।

আলিঙ্গন বিষণ্ণতা কমায়: আলিঙ্গনের ফলে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এটা মানসিক চাপ কমায় এবং মনে সুখানুভূতি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। ফলে বিষণ্ণতার প্রভাব অনেকটাই হ্রাস পেতে থাকে।

হার্টের সুস্থতায়: শরীরে নিঃসৃত স্ট্রেস হরমোন ও কর্টিসোলগুলো ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আলিঙ্গন কর্টিসোল লেভেল কমিয়ে আনে, যার ফলে হার্ট ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পায়।