যেসব খাবার আমাদের দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখে, জেনে নিন বিস্তারিত

ভাজাপোড়া ও মিষ্টি-জাতীয় খাবার দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির অসুস্থতার জন্য দায়ী।

আবার খাবার খেয়েও দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখা যায়।

নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘লোয়েনবার্গলিটাচিক্যান্টর ডটকম’য়ের দন্ত্য-চিকিৎসক ডা. মার্ক লোয়েনবার্গের ভাষায়, “ফল এবং কুঁচকে যাওয়া শাকসবজি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য। যা দাঁত থেকে প্লাক অপসারণ করতে সাহায্য করবে।”

ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “এছাড়াও কম চিনিযুক্ত খাবার দাঁতে লেগে থাকা প্লাকের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, ফলে দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগ কম হয়।”

ডক্টর লোয়েনবার্গের মতে, “দাঁতের ক্ষতি করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অপরাধী হল দাঁতে লেগে থাকা খাবার। যদি খাবার প্রাথমিকভাবে পাস্তা এবং রুটি দিয়ে তৈরি করা হয়, যা পরে শর্করায় পরিণত হয়, তবে তা মুখের স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ।”

এছাড়াও, উচ্চ অ্যালকোহলযুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহারও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে। তাই পরে সবসময় মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

দাঁতের জন্য উপকারী এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে ধারণা দেন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ।

কচকচে সবজি

ডা. লোয়েনবার্গ কচকচে সবজি খাওরার পরামর্শ দেন। এটা ব্যাক্টেরিয়া দূর করে ও দাঁত সুরক্ষিত রাখে। গাজর, ব্রকলি, মরিচ ইত্যাদি খাবার তালিকায় যোগ করা উপকারী।

দুধের তৈরি খাবার

যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্মাইল ডিরেক্ট ক্লাব’য়ের প্রধান ডা. জেফ্রি সুলিৎজার বলেন, “দুধ, দই, পনির ও দুধের তৈরি অন্যান্য খাবার দাঁতের এনামেল মজবুত করতে সাহায্য করে। কারণ এতে আছে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন।”

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেল্থ’ অনুযায়ী সকল ক্যালসিয়াম দেহের হাড় ও দাঁতে জমা থাকে এবং তা মজবুত করতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে দাঁতের ক্ষয় ও পড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

বাদাম

ডা. সুলিৎজার বলেন, “চিনি ও লবণ মুক্ত আঁশ ও ক্যালসিয়াম-জাতীয় খাবার যেমন- বাদাম দাঁতের এনামেলকে সুস্থ ও সুন্দর রাখে।”

আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (এডিএ) অনুযায়ী বাদাম দাঁতের জন্য উপকারী। কারণ এটা কম কার্বোহাইড্রেিইট সমৃদ্ধ যা কম অ্যাসিড নিঃসরণকারী ব্যাক্টেরিয়া হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও বাদাম চিবানো লালার নিঃসরণ বাড়ায় যা দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।

পত্রল সবজি

ডা. সুলিৎজারের মতে, “নানা রকম শাক যেমন- লেটুস, পালং শাক ইত্যাদিতে আছে ফোলাট যা দাঁতের এনামেল শক্ত করে, মাড়ির রোগ ও প্রদাহ কমায়।”

অন্যান্য ফোলাট ধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে ডাল, অ্যাসপারাগাস ও কালো মটর ইত্যাদি।

পেঁয়াজ ও রসুন

অনেকেই জানেন না যে, তীব্র ঘ্রাণযুক্ত মসলা পেঁয়াজ ও রসুন দাঁতের জন্য উপকারী।

এই বিষয়ে নিউ ইয়র্ক’য়ের দাঁত বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাটরিস অস্টিন ব্যাখ্যা করেন যে, “পেঁয়াজ ও রসুন দুটোই মুখের ব্যাক্টেরিয়ার কারণে হওয়া মাড়ির প্রদাহ, দাঁতের ক্ষয়, ক্যাভিটি ও দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়তা করে।”

শিটাকে মাশরুম

ডা. অস্টিন বলেন, “শিটাকে মাশরুমে আছে পলিস্যাকারাইড ধরনের কার্বোহাইড্রেইট যা লেন্টিন্যান নামে পরিচিত। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মুখের ব্যাক্টেরিয়া কমিয়ে দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখে।”

সুপ, ডিম ভাজি বা মিশ্র সবজির সঙ্গে মাশরুম খাওয়া মুখের স্বাস্থের জন্য উপকারী বলে জানান তিনি।

স্ট্রবেরি

অস্টিন বলেন, “বিশ্বাস করেন বা না করেন স্ট্রবেরি দাঁতের দাগছোপ কমায়। এতে আছে ম্যালিক অ্যাসিড যা দাঁত সাদা করতে চমৎকার কাজ করে। আপেলও একইভাবে দাঁত সাদা করে।”