মেয়েদের চুলের তিন সমস্যার সমাধান মেহেদি পাতায়

চুলের যত্নে মেহেদি পাতার ব্যবহার দীর্ঘদিনের পুরনো। প্রাকৃতিকভাবে সাদা চুল রং করার ক্ষেত্রে মেহেদি পাতার তুলনা নেই। কালো চুলের জন্যও কতটা উপকারী মেহেদি পাতা, তা কি জানা আছে? এবার তবে জেনে নিন কীভাবে চুলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে মেহেদি পাতা-

বিশেষ কিছু উপকারিতা

চুল ঘন হয়, চুলের গোড়া শক্ত করে, রুক্ষতা দূর করে, চুল রেশমী ও ঝরঝরে করে, মাথা ঠাণ্ডা রাখে, চুলের আগা ফাটা রোধ করে, খুশকি দূর করে, চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে এবং সাদা চুল রং করে মেহেদি পাতার পেস্ট।

খুশকি দূরে করে মেহেদি পাতা

মেহেদি পাতা পরিমাণ মতো পিষে নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে একবার ব্যবহারে মাথার ত্বক থেকে খুশকি দূর করবে। খুশকি দূরের জন্য মেহেদি পাতার সঙ্গে ৩ থেকে ৪টি আমলকি পিষে মাথার ত্বকে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিলে খুশকি দূর হবে এবং চুল মজবুত হবে।

রুক্ষ চুলে প্রাণ ফেরায়

মেহেদি পাতার সঙ্গে ১টি ডিমের সাদা অংশ ও টকদই ২ থেকে ৩ চামচ মিশিয়ে ব্যবহারে চুলের পুষ্টি সংযোজন হবে ও চুলের রুক্ষতা দূর করে, চূল উজ্জল ও রেশমী হবে।

চুল পড়া রোধে মেহেদি পাতা

সপ্তাহে ১ বার মেহেদি পাতা পিষে অথবা ব্লেন্ড করে সঙ্গে ১ থেকে ২ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন। এটি চুলে লাগিয়ে ৩০ থেকে ৫০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু ব্যবহার না করে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। একদিন পর শ্যাম্পু করলে চুল পড়া কমবে ও সতেজ হবে এবং মাথা ঠাণ্ডা রাখবে। এছাড়াও নারকেল তেল বা সরিষা তেল অথবা অন্য কোনো তেলের সঙ্গে আধা চামচ মেথি মিশিয়ে গরম করে এরপরে ঠান্ডা করে মেহেদি পাতার সঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার মাথায় ও চামড়ায় লাগালেও চুল রেশমি হয় ও চুল পড়া কমে।

কিছু পরার্মশ:

> মেহেদি দেয়ার আগের দিন চুলে তেল দেয়া ভালো।

> চুলে বাজারের কোনো ক্যামিকেল রং ব্যাবহার করে থাকলে তবে কম করে হলেও ২ থেকে ৩ মাস পর মেহেদি পাতা ব্যবহার করা উচিত, নাহলে চুলের ক্ষতি হতে পারে।

> মেহেদি পাতা লাগিয়ে বেশি সময় রাখা ভাল, কম করে হলেও ৪০ হতে ৫০ মিনিট রাখলে খুবই ভাল কাজ করবে। এর চেয়ে বেশি সময় রাখলে চুল বেশি শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাবে।

> মেহেদি পাতা চুলে লাগানোর সময় কান, ঘাড় ও গলায় কাপড় দিয়ে ঢেকে নিলে রং লাগবে না। হাতে গ্লাফস্ লাগিয়ে নেয়া যায় যাতে হাতেও রং না লাগে। এছাড়াও গ্লিসারিন লাগিয়ে নেয়া যায় এতে রং কম হবে এমনকি উঠেও যাবে সহজে।

> একেক জনের চুল ত্বক একেক রকমের হয়ে থাকে, এলার্জি থাকলে বা মাথার চামড়ায় কোন ঘা বা ইনফেকশন থাকলে ব্যবহার না করাই ভাল।

> চুলে নিয়মিত তেল দেয়া ভাল, তবে সবসময় মালিশ করে তেল দিলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির সাথে চুল ঘন হয়।