আসছে শীতে পুরনো লেপ-কম্বল নামানোর আগে ঘরেই ক্লিন করার ৫টি উপায়

বছর ঘুরে শীত আসে একবারই, তাই লেপ-কম্বল ব্যবহার থেকে শুরু করে ধোয়া, পরিচর্যা, সংরক্ষণ সবই একবার করা হয়। তাই এই কাজগুলো করা চাই নিয়ম মেনে, যাতে বছরের পর বছর লেপ-কম্বল টিকে থাকবে। জেনে নিন কিভাবে পুরনো লেপ-কম্বল এই শীতে নামানোর আগে ঘরেই ক্লিন করে নেবেন এই ৫টি উপায়ে।

১.ময়লা পরিষ্কার করুনঃ

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকলে লেপ-কম্বলে ময়লা পড়াটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে আগে ময়লা যতটা সম্ভব পরিষ্কার করে নিবেন। হাত দিয়ে ঝেড়ে বা শলার ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে বাড়তি ময়লাটুকু সরিয়ে নিতে পারেন। দুই-তিনজন মিলে লেপ বা কম্বল খাড়া করে ধরে রাখলো আর আরেকজন ঝেড়ে-পিটিয়ে পরিষ্কার করলো – এভাবে করতে পারেন।

অথবা মাটিতে মাদুর পেতে তার উপর রেখেও ঝাড়তে পারেন। চাইতে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারও কাজে লাগাতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভ্যাকুয়ামের মুখে নাইলনের পাতলা জাল পেঁচিয়ে নিন। এরপরে লেপ-কম্বলের উপর জোরে না ঘষে হালকাভাবে ভ্যাকুয়াম চালান।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি পুরনো ব্রাশ দিয়ে ময়লা ঝাড়েন। পুরনো ব্রাশের ব্রিসলস অনেক নরম থাকে। তাতে কোন ক্ষতি ছাড়াই ফেব্রিক ক্লিন করা যায়। শক্ত জায়গায় বিছিয়ে কম্বলের একদিকে ধীরে ধীরে ব্রাশ করবেন। এতে ভিতরে আটকে থাকা ধুলোবালি বেরিয়ে যাবে।

২.গন্ধ দূর করুনঃ

ব্যবহারের আগে লেপ-কম্বলের বোঁটকা গন্ধ দূর করে নিন, অনেকটাই ফ্রেশ হয়ে যাবে। কড়া রোদ কাঁথা-কাপড়ের গন্ধ দূর করার জন্য সর্বোত্তম। তাই শুকনো, রোদ ও বাতাস চলাচল করবে এমন জায়গায় মাদুরে লেপ-কম্বল বিছিয়ে রাখতে পারেন। ড্রায়ার দিয়েও গন্ধ দূর করতে পারেন। হিট ছাড়া এয়ার ড্রায়ার সহনীয় মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।

৩.পরিষ্কার জায়গায় রাখুনঃ

লেপ-কম্বল কখনোই নোংরা জায়গায় রাখবেন না। বা এমন কোন জায়গায় রাখবেন না যেখানে ময়লা-আবর্জনা বেশি উড়ে। পরিষ্কার, সমতল জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখুন। অব্যবহৃত খাট হলে বিছিয়ে সংরক্ষণ করতে সুবিধা হবে। কভার বা বেডশীট দিয়ে ঢেকে রাখতে পারলে আরো ভালো হয়। অনেকে কম্বল ধোয়ার পরে কাপড় ছড়ানোর স্ট্যান্ড বা দড়িতে ছড়িয়ে রাখেন। সেখান থেকেও দাগ পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪.দাগ তুলে ফেলুনঃ

প্রফেশনাল স্পট ক্লিনিং তো দাগ তোলার জন্য আছেই। কিন্তু আপনি ঘরে বসেই কম্বলের দাগ তুলতে পারবেন। তবে তুলার লেপের ড্রাই ক্লিন করতে গেলে সেটা ভিতরের তুলার ক্ষতি করতে পারে। তাই লেপের দাগ তোলার আগে ঐ জায়গাটার তুলা সরিয়ে নিতে হবে আগে।

দাগ তুলতে স্বাভাবিক ঠান্ডা পানির সাথে মাইল্ড ডিটারজেন্ট, বেবি শ্যাম্পু, ক্লাব সোডা বা অক্সিজেন ব্লিচ ব্যবহার করতে পারেন। তবে লেপ-কম্বল উলের বা সিল্কের হলে ব্লিচ ব্যবহার করবেন না। আজকাল বাজারে অনেক স্টেইন রিমুভার পাওয়া যায় যা দিয়ে সহজে শীতের প্রোডাক্ট স্পট ক্লিন করা সম্ভব।

ঘরে ক্লিন করলে, প্রথমে পরিমাণমতো মিশ্রণ বানিয়ে দাগের অংশটা কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। তারপর তুলে পরিষ্কার এবং শুকনো সুতি কাপড় দিয়ে ঘষে দাগ তুলে ফেলুন।

৫.নিয়ম মেনে ধুয়ে ফেলুনঃ

কম্বল ধোয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। আপনি মেশিনে ওয়াশ করুন বা হাতে করে, ভুল ওয়াশিং প্রসেসে কম্বল ছিঁড়েও যেতে পারে।
মেশিনে কম্বল ধোয়ার নিয়মঃ

মেশিনে ওয়াশ করার জন্য অবশ্যই ঠান্ডা পানি এবং রং ও গন্ধবিহীন মাইল্ড লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন।

মেশিন অবশ্যই জেন্টেল সাইকেলে সেট করে নিবেন।

ওয়াশিং মেশিনে পানি ভরে তার সাথে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে নিন। তারপর কম্বল দিয়ে দিন।

রং উঠার ভয় থাকলে সাথে কালার ক্যাচার ঢেলে দিতে পারেন, যা বাজারেই কিনতে পাবেন।

ওয়াশিং মেশিনে কম্বল ২-৩ মিনিটের বেশি কখনোই ক্লিন করবেন না বা রাখবেন না।

হাতে কম্বল ধোয়ার নিয়মঃ

হাতে ধোয়ার জন্য মেশিনের জন্য ব্যবহৃত ডিটারজেন্ট এবং ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন।

বড় গামলা বা বাথটাবে পরিমাণমতো পানি ও ডিটারজেন্ট ভালো করে মিশিয়ে নিন।

এরপরে কম্বল ডুবিয়ে ১০-১৫ মিনিট হাতে আলতোভাবে কাচুন, তবে মোচড়াবেন না। কম্বল যাতে পানিতে পুরোটা ডুবে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

১৫ মিনিট পরে পানি ফেলে দিয়ে ফ্রেশ পানি নিয়ে তাতে আধা কাপ হোয়াইট ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এরপরে কম্বল আবার ওতে ডোবান। ভিনেগার আপনার কম্বল
থেকে বাড়তি ডিটারজেন্ট ধুয়ে ফেলবে এবং কম্বলের রং ঠিক রাখবে।

যতক্ষণ না পর্যন্ত ডিটারজেন্ট পরিষ্কার না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবেই ভিনেগার দিয়ে ধুতে থাকুন।

ধোয়ার পরে কি কি করবেন আর কি কি না!

ধোয়ার পরে কখনোই কাপড় চিপড়ানোর মত করে মুচড়ে কম্বলের পানি ঝরাবেন না। এতে ফেব্রিকের বুনন নষ্ট হতে পারে। আলতো করে চিপে অনেকটা পানি ঝরিয়ে নিবেন। এরপরে খাটে বড় বড় তোয়ালে বিছিয়ে তার উপর কম্বল মেলে দিন শুকানোর জন্য এবং ফ্যান ছেড়ে দিন।

ঘরে ব্যবস্থা করতে না পারলে বাইরে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গা বেছে নিন। মাদুর পেতে তার উপর প্রথমে মোটা চাদর বিছিয়ে নিন। ভেজা কম্বল রেখে তার উপরে আবার আরেকটা চাদর বিছিয়ে দিন। শুকনো সুতি চাদর বা তোয়ালে কম্বলের পানি শুষে নেয় এবং তাড়াতাড়ি শুকাতে সাহায্য করে।

যদি মেশিন ড্রাই করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে লো হিট বা মিডিয়াম হিটে সাইকেল সেট করে নিবেন। হাই হিটে একদমই না। তবে মেশিনে পুরোপুরি শুকাবেন না। মোটামুটি শুকানোর পরে কম্বল ভেজা ভেজা থাকতে বের করে ঘরে সমতল জায়গায় এয়ার ড্রাই করবেন।

বাজারে কম্বল শুকানোর জন্য বিভিন্ন সাইজের র্যাক পাওয়া যায়। সেগুলোর একটা কিনে ব্যবহার করতে পারেন। ভেজা কম্বল অনেক ভারি হয়, তাই দড়িতে ঝুলিয়ে শুকানো উচিত না। কম্বল সিল্ক বা উলের হলে ড্রাই ক্লিন করুন এবং অবশ্যই প্রফেশনাল হেল্প নিয়ে।

মনে রাখবেনঃ

হ্যান্ড-ওয়াশিং বা মেশিন ওয়াশিংয়ের গরম পানি ব্যবহার করা নিষেধ।

তাঁতের বা অ্যান্টিক লেপ-কম্বল ধোয়ার খুব একটা দরকার হয় না। সেগুলো কয়েক বছর পরপর ক্লিন করলেই যথেষ্ট।

লেপ-কম্বল কখনোই এক ভাঁজের উপর বেশিদিন রাখবেন না। মাঝে মাঝে বের করে ভাঁজ পাল্টে দিবেন। বেশিদিন এক ভাঁজে থাকলে লেপের তুলার বুনট ভেঙে যায়, কম্বলের শেপ নষ্ট হয়।

মাঝে মাঝে বের করে রোদে দিলে গন্ধ কম হবে, অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি কমবে, এবং ভালো থাকবে বহুদিন।

যদি আলমারি, ওয়ারড্রোব, বা সিন্দুকে লেপ-কম্বল রেখে দিতে চান, তাহলে অবশ্যই ন্যাপথলিন বা নিমপাতার পুঁটলি ব্যবহার করবেন। তাতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকানো যাবে।