মেয়েদের মিসক্যারেজের কারণ ও লক্ষণ গুলো জেনে নিন

মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত একজন নারীর জন্য খুবই বেদনাদায়ক। গর্ভপাত একজন নারীর মা হওয়ার স্বপ্নকে মেরে ফেলে। দেখা যায়, আটজনে এক নারীর মিসক্যারেজ হয়ে থাকে। ভারত-সহ বিশ্বের নানা দেশে মিসক্যারেজের ঘটনা বিরল নয়। গর্ভপাতের জন্য বেশিভাগ সময় গর্ভবতী নারীকেই দায়ী করা হয়। কিন্তু এই ধারণা একদম ভুল।

কারণ গর্ভপাত বা মিসক্যারেজের জন্য নানান কারণ দায়ী। এমনকি অনেক সময় গর্ভবতী নারী মিসক্যারেজের কারণও জানতে পারেন না। এর ফলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তাই মিসক্যারেজের কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত।

ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিসের মতে, গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে মিসক্যারেজের জন্য ভ্রুণের অস্বাভাবিক ক্রোমোজোমকে দায়ী করা হয়। ভ্রুণে কম বা খুব বেশি ক্রোমোজোমের কারণে মিসক্যারেজ হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে গর্ভস্থ ভ্রুণ পূর্ণ রূপে বিকশিত হতে পারে না।

মিসক্যারেজের ২ থেকে ৫ শতাংশ কেসে জেনেটিক্সকে দায়ী করা হয়। অনেক সময় সঙ্গীর অস্বাভাবিক ক্রোমোজোম সম্পর্কে কেউই জানেন না। এর ফলে প্লাসেন্টার বিকাশে সমস্যা দেখা দেয়। ভ্রুণে রক্ত ও পুষ্টিকর উপাদানের অভাব থাকতে পারে। আবার তিন মাস পর মিসক্যারেজ হলে, তা দুর্বল গর্ভাশয়, কোনো সংক্রমণ বা সেক্সুয়াল ট্রান্সমিটেড ডিসিস, গর্ভাশয়ের আকার, পিসিওএস বা ফুড পয়জানিংয়ের কারণে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বার বার বা দেরিতে গর্ভপাতের নানান কারণ রয়েছে। রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা, থাইরয়েড, দুর্বল সার্ভাকল বা আমাদের রোগ প্রতিরোধকারী কোষও প্রজনন ক্ষমতাকে প্রাভাবিত করতে পারে।

ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, মিসক্যারেজ একটি সাধারণ সমস্যা। ৮ জনের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারীকে মিসক্যারেজের কষ্ট সহ্য করতে হয়। অনেক সময় গর্ভধারণের বিষয় জানার আগেই বহু নারীর মিসক্যারেজ হয়ে যায়। তবে ৩ বা তার চেয়ে বেশি বার মিসক্যারেজের সমস্যা দেখা দেয় প্রতি ১০০-এর ১ জন নারীর মধ্যে। বেশি বয়সের নারীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ৩০ বছরের কম বয়সী ১০ জনের মধ্যে এক জন নারীর মিসক্যারেজ হয়। অন্য দিকে ৪৫-এর চেয়ে বেশি বয়সের ১০ জনের মধ্যে ৫ জন নারীকে এই কষ্ট ভোগ করতে হয়।

মিসক্যারেজের লক্ষণ

ব্লিডিং বা কাপড়ে রক্তের হালকা অথবা গাঢ় দাগ মিসক্যারেজের দিকে ইশারা করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, প্রেগনেন্সির প্রথম তিন মাসে ব্লিডিং বা রক্তের দাগ একটি সাধারণ সমস্যা। একে মিসক্যারেজ ভেবে নেয়া ভুল। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না-করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। এছাড়া পেটের নিচের অংশে ব্যথা, মোচড়, গোপনাঙ্গ থেকে ফ্লুইড ডিসচার্জ বা টিস্যু নির্গত হওয়া মিসক্যারেজের অন্যতম লক্ষণ।