ময়লা হয়ে যাওয়া রান্নাঘর চকচকে পরিষ্কার করার ১০টি টিপস শিখে নিন

বাঙালির ঘর যেমনই থাকুক, বাথরুম আর রান্নাঘর থাকা চাই ফিটফাট। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, এই দুটি জায়গাই পরিষ্কার করা অনেক কঠিন। রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিবারের সুস্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে।

কিচেনের তেল, ঝোল, ধুলা, দাগ সামলানো চাট্টিখানি কথা না। তাই গৃহিণীদের জন্য রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার ১০টি টিপস থাকছে আজকের আয়োজনে। যা মেনে চললে কষ্টদায়ক রান্নাঘর থেকে নিমেষেই মিলবে মুক্তি। তো দেরি না করে চলুন জেনে নেই কি সেই ১০টি টিপস।

১. সিঙ্ক

রান্নাঘরে কাজ করার সময়ে সিঙ্কের উপর দিয়ে হাজারো ঝঞ্ঝাট গেলেও এর পরিষ্কারের ব্যাপারে আমরা কমবেশি সবাই উদাসীন থাকি। অথচ সিঙ্ক ঠিকমত পরিষ্কার না রাখলে এখান থেকে বাজে গন্ধ বের হবে, ময়লা জমে গাঢ় দাগ বসে যাবে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট সিঙ্ক পরিষ্কার করলে এসব সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

প্রতিদিন সম্ভব না হলেও প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইবার করে সিঙ্ক পরিষ্কার করতে পারেন। সিঙ্কের দাগ দুইভাবে পরিষ্কার করতে পারবেন। একটি পদ্ধতি হচ্ছে, খাবার সোডা আর লিকুইড সাবান দিয়ে পরিষ্কার।

প্রথমে সিঙ্কটা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে বেশি পরিমাণে খাবার সোডা সিঙ্কে ছিটিয়ে দিন। এরপরে বড় পলিথিন দিয়ে সিঙ্কটা ঢেকে রাখুন ২০ মিনিট। ২০ মিনিট পরে কাপড়ে বা স্পঞ্জে লিকুইড ডিশওয়াশিং সোপ মাখিয়ে বৃত্তাকারভাবে ঘষে ঘষে সিঙ্ক পরিষ্কার করুন। সবশেষে ট্যাপ খুলে পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে পরিষ্কার করার জন্য লেবুর সোডা এবং বেকিং সোডা লাগবে। দুটো পরিমাণমতো মিশিয়ে দাগের জায়গায় ভালো করে ঘষে নিন। তারপর তাতে ভিনেগার ছিটিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপরে পানি নিয়ে ধুয়ে পেয়ে যান ঝকঝকে পরিষ্কার কিচেন সিঙ্ক।

২. পাইপলাইন

কাজ করতে করতে সিঙ্কে অনেক কিছুই পড়ে যায়। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার, কিন্তু পড়ে যাওয়া জিনিস যখন সিঙ্কের ছিদ্র গলে বেরিয়ে যায় তখনই ঘটে বিপত্তি। অনেকে আবার সিঙ্কের ছিদ্র দিয়ে বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজটি করেন, যেটা একদমই অনুচিত।

সিঙ্কের পাইপলাইন সরু থাকে, ছিদ্র দিয়ে কোন কিছু ঢুকে গেলে লাইনটা জ্যাম হয়ে যাবে। খাবার বা শাকসবজির খোসা সহজে গলে যায় না। এগুলো লাইনে জমে দুর্গন্ধ তৈরি করে, পানি নিষ্কাশনে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে পানি উপচে রান্নাঘর ভেসে যায়।

অনেক সময় গরম খাবার সিঙ্কের ছিদ্রে গেলে উত্তাপে পাইপলাইন ফেটে যেতে পারে। সিঙ্কের নিচের পাইপলাইন যদি মেটালের হয় তবে আলাদা কথা। কিন্তু যদি প্লাস্টিকের হয়, তাহলে ভুলেও গরম খাবার বা তরল সিঙ্কে ফেলবেন না।

মেয়াদোত্তীর্ণ সিরাপ বা ট্যাবলেটও সিঙ্কে ফেললে জটিলতা সৃষ্টি হবে। কাজেই সিঙ্কে জ্যাম হয়ে যায় এমন কাজ কখনোই করবেন না। সিঙ্কে কিছু পড়ে গেলে সাথে সাথে পরিষ্কার করবেন। ছিদ্র দিয়ে ময়লা ফেলবেন না।

পাইপলাইনের বাইরের দিকটাও পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। প্রথমে বাইরে লেগে থাকা ঝুল, ধুলাবালি ঝেড়ে নিবেন। তারপরে আধা কাপ বরফ কুচি, ১ টেবিল চামচ ভিনেগার, এবং প্রয়োজনমতো স্বাভাবিক পানি মিশিয়ে কাপড় দিয়ে পাইপলাইন ঘষে ঘষে পরিষ্কার করবেন।

৩. এগজস্ট ফ্যান

রান্নাঘরের এগজস্ট ফ্যানে ময়লা জমে সবচাইতে বেশি। এই ময়লার কারণে বাতাস চলাচলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, ফ্যানের কর্মক্ষমতা নষ্ট হতে পারে, আবার রান্নার সময়ে ফ্যানের ধুলাবালি, ঝুল উড়ে খাবারে পড়তে পারে৷ তাই সপ্তাহে একবার করে এগজস্ট ফ্যান পরিষ্কার করবেন।

ফ্যান পরিষ্কারের আগে অবশ্যই হাতে গ্লাভস পরে নিবেন এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে নিবেন। প্রথমে ফ্যানের ব্লেডগুলো খুলে আলাদা করে নিন। যদি ফ্যানে জাল লাগানো থাকে তবে ব্লেডের আগে জালটা আলাদা করে নিবেন।

জাল পরিষ্কার করার জন্য বালতিতে গরম পানি নিয়ে তাতে আধা কাপ অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জালটা ডুবিয়ে রাখুন। ১ ঘন্টা পরে হালকা ঘষে জালের ময়লা তুলে ফেলুন। এবারে ব্লেডগুলো পরিষ্কারের পালা।

একটি পাত্রে ১ কাপের চার ভাগের এক ভাগ অ্যামোনিয়া, ২ টেবিল চামচ খাওয়ার সোডা, এবং পরিমাণমতো গরম পানি মিশিয়ে ব্লেডগুলো ডুবিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পরে নরম কাপড় দিয়ে ঘষে ময়লা তুলুন এবং পরিষ্কার পানিতে ব্লেড ধুয়ে ফেলুন।

৪. চুলা

রান্না করবেন কিন্তু চুলাকে রাখতে চান টিপটপ পরিপাটি? আর যা-ই পারুন এই অসম্ভবকে কোনদিনও সম্ভব করতে পারবেন না। রান্না করতে গেলে চুলায় দাগ পড়াটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। চা, দুধ, তরকারির ঝোল, ডাল, ভাতের মাড় ইত্যাদি ছলকে চুলার উপরে পড়ে।

সাথে সাথে পরিষ্কার না করলে এগুলো শুকিয়ে শক্ত হয়ে দাগ বসে যায়। তাই চুলার এই জেদি দাগ দূর করার জন্য লবণ আর পানিই যথেষ্ট৷ ১ কাপ গরম পানিতে ১ টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে দাগের উপর ঘষলেই জেদি দাগ উধাও হয়ে যাবে। ঘষার সময় অবশ্যই নরম কাপড় বা টুথব্রাশ বা টিস্যু ব্যবহার করবেন।

চাইলে গ্লাস ক্লিনার বা ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে চুলা পরিষ্কার করতে পারেন। কিচেনে সবসময় এক বোতল গ্লাস ক্লিনার বা ফ্লোর ক্লিনার রাখবেন। প্রতিদিন রান্না শেষে কাপড় বা টিস্যুতে ক্লিনার লাগিয়ে চুলা পরিষ্কার করুন। এভাবে পরিষ্কারে আপনার ঝামেলা কম হবে, চুলাও থাকবে নতুনের মতো।

৫. দুর্গন্ধ

এক কিচেনের দুর্গন্ধই আপনার পুরো বাড়ির সৌন্দর্য এবং স্নিগ্ধতা নষ্ট করতে যথেষ্ট। সবজির চাইতে কাঁচা মাছ-মাংস থেকে বেশি দুর্গন্ধ ছড়ায়। আবার উচ্ছিষ্ট জমেও কিচেনে বিশ্রী গন্ধ হতে পারে। তাই দাগ, ঝুল পরিষ্কার করার সাথে সাথে দুর্গন্ধ অপসারণের দিকেও নজর দিতে হবে।

কাঁচা মাছ-মাংস বেশিক্ষণ কিচেনে ফেলে রাখবেন না। এগুলোর ময়লা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফেলে দিবেন। তাছাড়া কিছু বাড়তি কাজের মাধ্যমে দুর্গন্ধ দূর করতে পারেন। কিচেনের কোণায় কোণায় কয়েক টুকরা লেবু রেখে দিলে সেগুলো বাজে গন্ধ শুষে নিবে।

শুধু কিচেন না, লেবুর টুকরা ফ্রিজে রাখলেও ফ্রিজে আর গন্ধ হবে না। লেবুর পরিবর্তে এয়ার ফ্রেশনারও ব্যবহার করতে পারেন। কিচেনে থাকা ময়লার ঝুড়ি থেকে গন্ধ আসা আটকাতে চাইলে ঢাকনাযুক্ত ওয়েস্ট বিন ব্যবহার করুন। তাহলে গন্ধে আর পোকামাকড় আকৃষ্ট হবে না। পোকামাকড় ঠেকাতে চাইলে ওয়েস্ট বিনের চারপাশে কীটনাশক স্প্রে করে দিতে পারেন।

ময়লার ঝুড়িতে ময়লা বেশিদিন আটকে থাকলেও উটকো গন্ধ তৈরি হয়। এরকম পরিস্থিতিতে আগে ঝুড়িটা রোদে ভালোমতো শুকিয়ে নিবেন। তারপরে ঝুড়ির ভিতরে অনেকটা বেকিং সোডা মাখিয়ে রাখবেন। এতে করে দুর্গন্ধ যেমন দূর হবে তেমনি ময়লা আর তলায় আটকে থাকবে না।

৬. মেঝে

অনেকেই কিচেনের মেঝেতে বসে বটিতে সবজি, মাছ, মাংস, ফলমূল কেটে থাকেন। এতে করে রস, রক্ত, কষ লেগে মেঝেতে দাগ পড়ে। পরিষ্কারের অভাবে এখান থেকেও দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং মেঝের মসৃণ ভাব নষ্ট হয়ে যায়।

রান্নাঘরের মেঝে সিমেন্টের হোক বা টাইলসের বা মোজাইকের, এটাকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব আপনার। নিচে বসে কাটাকুটি করলে অবশ্যই বটির নিচে পুরনো খবরের কাগজ বা পলিথিন বিছিয়ে নিবেন। এতে করে ময়লা সব কাগজ বা পলিথিনের উপরেই পড়বে আর আপনাকেও আলাদা করে মেঝে পরিষ্কার করতে হবে না।

কাটাকুটি শেষে কাগজ বা পলিথিন ধরে ওয়েস্ট বিনে ফেলে দিবেন। ভালো হয় যদি বটির চাইতে ছুরি-চপিং বোর্ড দিয়ে কাটার কাজটা করেন। তাহলে মেঝেও নোংরা হলো না, আবার নিচে বসার কারণে পিঠে-কোমড়ে-হাঁটুতে ব্যথাও হলো না।

৭. ব্লেন্ডার

প্রায়শই ব্যবহৃত ব্লেন্ডার কৌশল মেনে পরিষ্কার না করলে ব্লেড অকেজো হয়ে যায়, জং ধরে, কালচে দাগ পড়ে যায়, ব্লেন্ডারের ভিতরটা গন্ধ হয়ে যায়। তাই ব্লেন্ডার পরিষ্কার করুন নিয়মিতভাবে। ইলেকট্রিক জিনিসপত্রের ভিতরে মাজুনি দিয়ে ঘষা থেকে বিরত থাকুন।

সহজে ব্লেন্ডার পরিষ্কার করার জন্য প্রথমে আধা কাপ কুসুম গরম পানিতে এক ফোঁটা লিকুইড ডিশওয়াশিং সোপ মিশিয়ে নিন। এরপরে এই মিশ্রণ ব্লেন্ডারে ঢেলে ঢাকনা দিয়ে ঢাকুন এবং সুইচ অন করে দিন। ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড চালালে ভিতরটা আপনাআপনি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

২০ সেকেন্ড পরে ব্লেন্ডার বন্ধ করে সাবান পানি ফেলে দিন এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে ভিতরটা ধুয়ে ফেলুন। ব্লেড পরিষ্কারের সাথে সাথে ভিতরকার গন্ধও দূর হবে। ব্লেন্ডারের বাইরের অংশ শুধু পানির সাহায্যে হাত দিয়ে মেজে নিতে পারেন। অথবা কাপড় ভিজিয়ে ঘষেও পরিষ্কার করতে পারেন। ধোয়ার পরে ব্লেন্ডার ভালোমত শুকিয়ে নিবেন।

৮. মাইক্রোওয়েভ

খাবার রান্না করা থেকে গরম করার কাজ করে থাকা মাইক্রোওয়েভের চাই পরিপূর্ণ যত্ন। কম সময়ের মধ্যে মাইক্রোওয়েভের ভিতরের ময়লা পরিষ্কার করতে চাইলে ওয়েট পেপার টাওয়েলের সাহায্য নিন। কয়েকটি টাওয়েল ভিতরে রেখে উচ্চ তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ৫ মিনিট ওভেন চালান।

এতে ভিতরের ময়লা নরম হয়ে আসবে এবং পরিষ্কার করা সহজ হয়ে যাবে। ৫ মিনিট পরে ওভেন অফ করে টাওয়েলগুলো ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে তা দিয়ে ওভেনের ভিতরটা ঘষে পরিষ্কার করে ফেলুন।

অনেকদিন ধরে ব্যবহার করলে ওভেনে বোটকা গন্ধ তৈরি হয়। তাই এই গন্ধ দূর করতে ভ্যানিলা এসেন্স দারুণ কাজে দিবে। একটি বাটিতে সামান্য ভ্যানিলা এসেন্স নিয়ে ওভেনে গরম করতে দিন। গরম হওয়ার পরে সাথে সাথে বাটিটা বের করবেন না, ৩০ মিনিট পরে বের করুন।

বাটি বের করার পরে খেয়াল করলে বুঝবেন গন্ধ চলে গেছে। এভাবে ঘরের অন্যান্য জায়গায় গরম করা ভ্যানিলা এসেন্স রেখে দিলে দুর্গন্ধ দূর হবে। ভ্যানিলা এসেন্স না থাকলে লেবু ব্যবহার করতে পারেন ওভেনে।

প্রতিদিন ওভেন ব্যবহারের শেষে সুতি কাপড় বা টিস্যু দিয়ে ওভেনের ভিতরটা মুছে রাখুন। তাহলে আর গন্ধ হবে না৷ অথবা গ্লাস কিনার বা ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে মাইক্রোওয়েভের ভিতর ও বাইরের অংশ মুছতে পারেন।

৯. বাসনপত্র

রান্নাঘর নোংরা হওয়ার পিছনে সবচাইতে বড় কারণ হচ্ছে নোংরা বাসনপত্র। বাকি সবকিছু ঝকঝকে তকতকে থাকলেও সিঙ্কে রাখা নোংরা বাসনপত্র পুরো রান্নাঘরটাই নষ্ট করে ফেলে। থালাবাসনের তেল-চর্বি পরিষ্কার করতে শুধু সাবানই যথেষ্ট না।

এঁটো থালাবাসন বেশিক্ষণ ফেলে রাখলে বাসনে তো দাগ পড়েই, সেই সাথে সিঙ্কও নোংরা হয়ে যায়। তাই এঁটো বাসন তাড়াতাড়ি ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। যদি হাতে একদমই সময় না থাকে তাহলে বাসনগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে তেল-চর্বি অনেকটাই আলগা হয়ে যায় বলে ধোয়ার সময় ঝামেলা হয় না।

থালাবাসন ছাড়া বড় বড় হাঁড়িপাতিল মাসে দুই-তিনবার পরিষ্কার করবেন। ঢালাই লোহার কড়াই ও কফিমেকার পরিষ্কারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন। ভুলভাবে পরিষ্কার করলে ধাতবের গুণ নষ্ট ও ভেঙে যেতে পারে।

ঢালাই লোহার কড়াই কখনোই লিকুইড সোপ দিয়ে ধোবেন না, নাহলে কড়াইয়ের ননস্টিক আবরণ নষ্ট হয়ে যাবে। এরকম ননস্টিক কড়াই ধোয়ার জন্য গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে তাতে নরম কাপড় ভিজিয়ে পরিষ্কার করুন। কড়াইয়ের আবরণে কোনরকম ক্ষতি ছাড়াই তেল-চর্বি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

কফিমগ প্রতিদিন পরিষ্কার করতেই হবে, নাহলে কফির দাগ গাঢ় হয়ে বসে যাবে। চীনামাটির কফিমগ পরিষ্কার করার জন্য ১ টেবিল চামচ ভিনেগারের সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। তারপরে কাপড় ভিজিয়ে কফির দাগ ঘষে তুলে ফেলুন।

কফিমেকারের জগে অল্পতেই কালচে দাগ পড়ে যায়। খালি জগের চার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত বরফ কুচি দিয়ে ভরে নিন। তারপর এতে অর্ধেকটা লেবুর রস আর ২ টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। এবারে জগের মুখ বন্ধ করে জগটা দুই থেকে তিন মিনিট ঝাঁকিয়ে নিন। ভিতরের দাগ অল্প সময়ের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

১০. বাড়তি ময়লা

রান্নাঘর পরিষ্কার করা যতটা সোজা, সেই পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা তার চাইতেও বেশি কঠিন কাজ। কাজের খাতিরে আমরা অনেকসময় এটা-ওটা রান্নাঘরে জড়ো করি। এতে করে প্রয়োজনের চাইতে অপ্রয়োজনীয় জিনিসে কিচেন ঠেসে যায়।

এবং বাড়তি জিনিসপত্রের বাড়তি ময়লা পরিষ্কারে সময় লাগে আরো বেশি। যার ফলে ক্লান্ত হয়ে আমরা আসল জায়গা বা জিনিসগুলোই অপরিষ্কার রাখি। কাজেই রান্নাঘরে বাড়তি জিনিস আজ থেকে নিষিদ্ধ করুন।

হাতের কাছে যা পান তাই-ই কিচেনে রাখবেন না। অল্প জিনিসপত্র থাকলে রান্না করতে সুবিধা হয়। কাগজের ঠোঙা, প্লাস্টিক বা কাপড়ের ব্যাগ, পলিথিন, চটের বস্তা ইত্যাদি রান্নাঘরে রাখবেন না। রাখাটা জরুরি হলে কোন একটা ড্রাম বা ব্যাগে জমা করে রাখুন।

পেঁয়াজ-রসুন কাটার সময়ে খোসা বাতাসে উড়ে যায়। এগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে পড়লে সহজে পরিষ্কার করা যায় না। তাই কাটার আগে পেঁয়াজ-রসুন পানিতে ভিজিয়ে নিবেন। তাহলে ভেজা খোসা আর উড়তে পারবে না, সহজে ফেলে দেয়া যাবে। সবশেষে, সিলিংয়ের ঝুল পারলেরপ্রতিদিন অথবা সপ্তাহে একদিন ভালো মপিং ব্রাশ দিয়ে সাফ করুন।