কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবে এই সুপার ড্রাইফ্রুট

পেস্তা এক ধরনের ড্রাই ফ্রুট। সুস্বাদু এই ড্রাই ফ্রুটটি স্বাস্থ্যের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী। যে কোনও মরশুমে এই শুকনো ফলটি বাজারে পাওয়া য়ায়। তবে কাজু, কিশমিশ, আমন্ডের মতো পেস্তা খাওয়া হয় খুবই কম। তবে সবুজ রঙা ছোটখাটো এই শুকনো ফলটি পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর এবং নানান গভীর রোগ থেকে রক্ষা করে থাকে।

পেস্তায় অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটের তুলনায় ফ্যাট ও ক্যালরি খুব কম পরিমাণে থাকে। পাশাপাশি এতে সমস্ত পুষ্টিকর উপাদান যেমন- ভিটামিন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, মিনারেলস ও ফ্যাটি অ্যাসিড উপস্থিত রয়েছে। পেস্তা শুধু ওজন কম করতেই সাহায্য করে না, বরং ডায়বিটিজ ও কোলেস্টেরলের স্তরও নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই শুকনো ফল হৃদরোগ থেকেও রক্ষা করে। পেস্তার নানান স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন—

চোখের জন্য

চোখের জন্য পেস্তা অত্যন্ত উপযোগী। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ উপস্থিত থাকে। এই ভিটামিনটি চোখের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। চোখের দৃষ্টি দুর্বল থাকলে পেস্তা খাওয়া উচিত।

হৃদযন্ত্র ভালো থাকে

বর্তমান জীবনে অধিকাংশ ব্যক্তিদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি দেখা যায়। এমন ব্যক্তি পেস্তা খেলে হৃদযন্ত্রের উপকার পাওয়া যায়। পেস্তায় কার্ডিওপ্রোটেক্টিভ অ্যাক্টিভিটি থাকে। এই উপাদান হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে।

ডায়বিটিস

একটি অধ্যয়ন অনুযায়ী পেস্তা খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই শুকনো ফল ডায়বিটিস রোগীদের গ্লাইসেমিক স্তর, রক্তচাপ ও ফোলাভাবও নিয়ন্ত্রণে রাখে। ডায়বিটিস রোগীরা সকালে প্রাতঃরাশে রোস্টেড পেস্তা খেতে পারেন। এটি কাঁচাও খাওয়া যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করে

পেস্তায় উপস্থিত ফাইবার পেট ভরে রাখে। যার ফলে শীঘ্র ক্ষিদে পায় না। তাই যাঁরা ওজন কম করতে চান, তাঁরা নিজের ডায়েটে পেস্তা অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন।

হজমে সুবিধা

পেস্তায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এক আউন্স পেস্তায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে।

ত্বক মোলায়েম করে

পেস্তা নিয়মিত খেলে রুক্ষ ত্বকের সমস্যা দূর হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিবন-ই উপস্থিত থাকায় পেস্তার তেল ত্বকের পক্ষে উপকারী প্রমাণিত হয়। পেস্তা এক ধরনের প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজার। পেস্তায় উপস্থিত কপার ত্বকের বলিরেখা দূর করে ও চুল ঝরা বন্ধ করতে পারে।

অ্যানিমিয়া থেকে স্বস্তি পাওয়া যায়

পেস্তায় উপস্থিত কপার, খাদ্য সামগ্রী থেকে আয়রনের অবশোষণে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তের অভাব দূর হয়। অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা থাকলে পেস্তা খাওয়া উচিত। অন্য দিকে পেস্তায় উপস্থিত ভিটামিন-বি রক্তে অক্সিজেনের পরিণাম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

ক্যান্সারে উপকারী

বিশেষজ্ঞদের মতে পেস্তায় উপস্থিত সেলেনিয়ম ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এর জন্য নিয়মিত ৪৯ দানা বা ১ আউন্স পেস্তা খাওয়া উচিত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

পেস্তায় উপস্থিত ভিটামিন বি৬ ও জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করে। পেস্তায় লিউটিন, জিয়েক্সিন্থিন ও জিঙ্ক থাকে যা চোখকে সুস্থ রাখে। পেস্তা ব্যক্তিকে মানসিক দিক দিয়েও মজবুত করে।