আপনার সন্তানও কি প্রযুক্তিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে? জেনে নিন এই সমস্যা সমাধানের কিছু টিপস

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে সাথে যোগাযোগের মাধ্যমগুলিও উন্নত হয়ে উঠছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের খবর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে, আমাদের জীবন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু, প্রযুক্তির প্রভাব তরুণ বয়সী এবং বাচ্চাদের উপর এত বেশি, যে তারা প্রযুক্তিতে প্রায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।

এমনকি, যেসব শিশু সবে মাত্র পৃথিবী চিনতে শিখেছে তাদেরও স্মার্টফোনে উঁকি দিতে দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তি অবশ্যই বিভিন্ন উপায়ে বাচ্চাদের উপকার করতে পারে, পাশাপাশি তাদের ক্ষতিও করতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে যদি বাবা-মা বাচ্চাদের খেয়াল না রাখেন, বাধা না দেন তবে ভবিষ্যতে খুব সমস্যায় পড়তে হবে। পিতা-মাতা হিসেবে, বাচ্চাদের প্রযুক্তি সম্পর্কে, বিশেষত স্মার্টফোন ব্যবহারের সঠিক উপায় শেখানো একটা দায়িত্ব।

প্রযুক্তির হাত থেকে বাচ্চাদের রক্ষা করতে কিছু টিপস এখানে দেওয়া হল –

১) কিছু নিয়ম এবং নির্দেশিকা নির্ধারণ করুন বাচ্চাদের ইন্টারনেট বা অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ভাল অভ্যাস গড়ে তুলতে, তাদের জন্য কিছু গাইডলাইন বা নিয়ম তৈরি করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, দিনের একটি সময় ঠিক করুন যখন তারা প্রযুক্তির সাথে সংযোগ করবে। পিতা-মাতা হিসেবে আপনাকে বুঝতে হবে যে, প্রযুক্তি যখন সঠিক উপায়ে ব্যবহার না করা হয়, তখন সেগুলি খারাপ দিকে যেতে পারে এবং বাচ্চাদের ক্ষতি করতে পারে।

২) ইন্টারনেটে বাচ্চাদের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে জানান আপনি যদি মনে করেন যে, স্মার্টফোন বা ভিডিও গেম বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখতে পারে এবং আপনাকে অন্য কাজে মনোনিবেশ করার সময় দিতে পারে, তবে এটি ভুল ভাবনা। কারণ, বাচ্চারা আপনার অনুপস্থিতিতে অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটগুলিতে যেতে পারে বা তারা যে গ্যাজেটগুলি ব্যবহার করছে সেগুলি ক্ষতি করতে পারে। অতএব, আপনাকে প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে, ইন্টারনেটে বাচ্চাদের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে। তবেই আপনি ভাল এবং উপযুক্ত ব্যবহারের জন্য গাইড করতে সক্ষম হবেন।

৩) বাচ্চাদের প্রযুক্তিগত ব্যবহারের উপর নজর রাখুন বাচ্চারা ইন্টারনেটে কী করছে তা জানার পাশাপাশি তারা প্রযুক্তির সাথে খুব বেশি জড়িত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। উদাহরণস্বরূপ, বাচ্চারা সর্বদা টেলিভিশন দেখতে, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে গেম খেলতে, আই-প্যাড বা হেডফোনে গান শুনতে আচ্ছন্ন থাকে, তবে খেয়াল রাখুন এবং ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করুন। তাহলেই, অযথা এটি ব্যবহার করা থেকে তাদের বাধা দিতে পারবেন।

৪) বাচ্চারা যখন কিছু দেখবে তখন তাতে অংশ নিন বাচ্চারা যখন ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা টেলিভিশন স্ক্রিনে কিছু দেখবে, তখন আপনি তাতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে হয়তো আপনার বাচ্চারা মতবিরোধ প্রকাশ করবে, তখন আপনি তাদের সঠিকভাবে বোঝাবেন যে একসাথে দেখা কতটা ভাল। সহ-পর্যবেক্ষণ একটি সম্পর্ক তৈরিতে এবং নতুন জিনিস শিখতে সহায়তা করে।

৫) মুখোমুখি যোগাযোগের সাথে জড়িত রাখুন এমন নয় যে, আপনি যখন প্রযুক্তিগত সময়ে অংশ নিচ্ছেন তখন বাচ্চাদের সঙ্গে কথোপকথন করতে পারবেন না। আপনি তাদের সঙ্গে শো গুলি সম্পর্কে কথা বলতে পারেন। এছাড়াও, আপনি তাদের সঙ্গে কিছু নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, এভাবে প্রযুক্তিতে আসক্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারেন।

৬) আপনি যখন প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন তখন খেয়াল রাখুন আপনি যদি স্মার্টফোন ব্যবহারে খুব বেশি আসক্ত হন বা বিভিন্ন প্রযুক্তির উপর নির্ভর করেন তবে আপনার বাচ্চারাও এটি শিখবে। কারণ, বাচ্চারা তাদের বাবা-মা-কে অনুকরণ করে।

৭) বাচ্চাদের সামাজিকীকরণে উৎসাহিত করুন আপনার বাচ্চাদের মানুষের সঙ্গে কথা বলা শেখান, বাইরে বার করুন, ভাল অভ্যাস তৈরি করুন। সামাজিকীকরণ এবং আউটডোর গেমগুলিতে তাকে জড়িত করার জন্য চেষ্টা করুন। এর জন্য, আপনি তাকে বিভিন্ন ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়ার উদাহরণ দিতে পারেন। কীভাবে নামকরা ক্রীড়াবিদরা খেলাধূলার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন, সে সম্পর্কে তাদের জ্ঞাত করতে পারেন। এছাড়াও, তাদের সামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হতে উৎসাহিত করতে পারেন। প্রযুক্তি যে আমাদের জীবনের সবচেয়ে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে এবং আমরা কোথাও এটির উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছি, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে প্রযুক্তির সীমাহীন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের ফলে মানুষ নিজেই নিজের ক্ষতি করছে। কারণ, সময়ের সাথে সাথে এটি কাছের মানুষদের থেকে আলাদা করে দিচ্ছে।