আপনার বাচ্চার সাথে খেলার নতুন আইডিয়া খুঁজে পাচ্ছেন না? ট্রাই করুন এই ৭ টি আইডিয়া

খেলতে পছন্দ করে না এমন একটা বাচ্চাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা বলে আমার বিশ্বাস। বরং প্রতিটা বাচ্চা উন্মুখ হয়ে থাকে যে তার বাবা মা বা পরিবারের যেকোন সদস্য অন্তত কিছুটা সময় তার সাথে খেলাধুলা করে কাটাক।

এখন প্রশ্ন হল বাচ্চারা খেলতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু একজন সচেতন মা হিসেবে আপনি ভেবেই পাচ্ছেন না কি করে বাচ্চার সাথে কিছুটা সময় হেসে খেলে পার করবেন,

আর এতো ভাবনার পিছনে কারণ হিসেবে আপনার মাথায় যে দুশ্চিন্তা সবার আগে এসেছে সেটা নিশ্চয় এটা যে আপনার প্রতিদিনের খেলার সময়টাই আপনার বাচ্চার মেধার বিকাশ ঘটবে সবচেয়ে বেশি। একটা ব্যাপার আসলে সত্যি, যখন একটা সন্তানের জন্য হয় সাথে সাথে একটা মায়েরও জন্ম হয়।

সে জন্যই হয়তো মায়েরা কিসে বাচ্চার ভালো হবে বাচ্চা ভালো থাকবে এগুলো নিয়ে এতোটা অস্থির হয়ে ওঠেন। আসুন আপনার দুশ্চিন্তা কমিয়ে দিতে আমি আপনাকে এমন কিছু আইডিয়া দিচ্ছি যা দিয়ে আপনি আপনার বাচ্চার সাথে খেলার সময়টুকু আনন্দঘন করে তোলার সাথে সাথেই আপনার বাচ্চার মানসিক ও মেধার বিকাশ ঘটাতেও কয়েকধাপ এগিয়ে যাবেন।

(১) আপনার বাচ্চার সাথে কথায় মেতে উঠুনঃ
সবার আগে আপনার বাচ্চার পাশ থেকে টেডি, ডল বা পাপেট যেটাই আছে সেটা সরিয়ে ফেলুন আর তার সাথে কথা বলতে শুরু করুন। আপনার সোনামণির সাথে কথা বলার সময় হাত নাড়িয়ে মুখ ভঙ্গী কথা যতটা পারুন তাকে আপনার প্রতি আগ্রহী করে তুলুন দেখবেন সে আপনার সাথে গল্প করতে শুরু করে দিয়েছে। এটা আপনার বাচ্চার সাথে খেলা করার পাশাপাশি আপনার বাচ্চার মানসিক বিকাশের অন্যতম একটা উপায় হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

(২) বাচ্চাকে গল্পের বই পড়ে শোনানঃ
ভাবছেন বই পড়া আর খেলা কি এক হল? আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে বলে রাখি বাচ্চার জন্য যখনই বই সিলেক্ট করবেন সবার আগে মাথায় রাখুন আপনার ছোট্ট সোনামণির জন্য বইটাই যেনো পর্যাপ্ত রঙের উপস্থিতি আর সাথে ছবি থাকে। তবেই না খেলা আর পড়া এক সাথে হবে। বাচ্চাকে আপনার কোলে বসিয়ে বইটি তার সামনে মেলে ধরেই গল্প পড়তে শুরু করুন, মাঝে মাঝে তাকে বইয়ের ছবি আর রঙ গুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিন, আর গল্পের মাঝে ছোট খাটো প্রশ্ন করুন সাথে বাচ্চার সামান্য উৎসাহ অথবা আগ্রহের বাহবা দিতে ভুলবেন না।

(৩) ঘরের ছোট্ট ফ্লোরটাই আপনার বাচ্চার জন্য প্লে গ্রাউন্ড করে তুলুনঃ
সারাদিন আপনি ঘর দোর সামলে রান্না বান্না করে হয়তো বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে খেলতে যাওয়ার সুযোগই পেলেন না কিন্তু আমি বলবো আপনি মস্ত বড় সুযোগ হাতছাড়া করে ফেলছেন। কাজের সময় আপনার জুনিয়রকে একগাদা খেলনা দিয়ে বা টিভির সামনে স্ট্যাচু করে বসিয়ে না রেখে বরং তাকে আপনার সাথে নিয়েই টুকটাক কাজ শুরু করুন। যখন আপনার লক্ষ্মীসোনা আপনার চারপাশে ঘুরঘুর করে ঘুরে বেড়াবে আপনার সাথে আধো আধো বুলিতে কথা বলবে দেখবেন তার যেমন এক দফা খেলা হয়ে যাবে আর আপনার হাতের কাজও স্বস্তিতে ফুরিয়ে যাবে।

(৪) বাচ্চার জন্য উপযোগী কোন মুভি
টিভির রিমোটটা বাচ্চার হাতে ছেড়ে দিয়ে কোথাও চলে না গিয়ে বা নিজে টিভি দেখার সময় বাচ্চা বিরক্ত করবে বলে তাকে সরিয়ে না দিয়ে উল্টো আপনি আপনার জুনিয়রকে সাথে নিয়ে টিভির সামনে বসে পড়ুন। বাচ্চার জন্য উপযোগী কোন মুভি চালিয়ে দিয়ে একসাথে মুভি দেখাও কিন্তু এক প্রকার খেলাই। আর একটা ব্যাপার এই সময়টুকু আপনার সমস্ত বড়মানুষি দূরে রেখে আপনার বাচ্চার বন্ধু হয়ে উঠুন, মন খুলে বাচ্চামি করুন। এতে করে আপনার বাচ্চা অসম্ভব সুন্দর কিছু মুহূর্ত উপভোগ করার সাথে সাথেই নিজের মানসিক বিকাশে বেশ খানিকটা এগিয়ে যাবে।

(৫) খেলার অংশ হিসেবে বাচ্চার কাছে নিজে শিশু হয়ে যানঃ
একটা কথা আছে যে “Children also sometimes want to boss their parents” বাচ্চারা নিজেদের বড় ভাবতে পছন্দ করে। তাই বাচ্চার সাথে খেলার অংশ হিসেবে আপনি আপনার সোনামণির কাছে নিজেকে একজন বাচ্চা হিসেবে উপস্থাপন করতেই পারেন। দেখবেন আপনার বাচ্চা আপনারই প্রতিবিম্ব হয়ে উঠবে। এতে করে সবচেয়ে দারুন যে ব্যাপারটা ঘটবে তা হল একজন মা হিসেবে আপনি আপনার সন্তানকে কিভাবে ট্রিট সেটা নিজ চোখে আপনি অবলোকন করতে পারেবন।

সাত পাঁচ না ভেবে এক টুকরো কাগজ আর কিছু রঙ নিয়ে বাচ্চার সাথে আঁকিবুঁকি শুরু করুন। আগডুম বাগডুম যা খুশী আঁকুন কারণ এটা কোন আর্ট কম্পিটিশন না, আপনার বাচ্চা যেটাই আঁকুক আপনি শুধু তাকে সাবাস দিতে ভুলবেন না। আপনার ছোট্ট একটু উৎসাহ ওর জন্য অনেকখানি ভালোলাগা তৈরি করবে। এই খেলার সময়টুকু সন্তানের সাথে আপনার সম্পর্ক সুন্দর করবে আর বাচ্চার মেধার বিকাশ সাধন ও হবে।

(৭) সোনামণিকে নিয়ে বাইরে যানঃ
সব সময় বাচ্চাকে ঘরে আটকে না রেখে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও তাকে নিয়ে বাইরে বের হন। ওর কচি হাতটা ধরে খানিকটা হেঁটে আসুন, সাথে বাচ্চার প্রিয় বলটা নিতে পারেন। আপনি কতটুকু সময় বাইরে বাচ্চাকে নিয়ে খেলছেন সেই হিসেব না করে যেটুকু সময়ই বাইরে থাকবেন ওকে আনন্দ দিতে চেষ্টা করুন। আপনি দৌড়ান দেখবেন সেও দৌড়াচ্ছে, ছোট্ট একটা রেস হয়ে যেতে পারে আর বাচ্চাকে রেসে জিতিয়ে দিয়ে আপনি সহজেই ওর ছোট্ট মনটা খুশীতে ভরিয়ে তুলতে পারেন।

মনে রাখবেন বাচ্চারা বাবা মায়ের সাথে খেলার জন্য উৎগ্রিব হয়ে থাকে। আপনার অল্প একটু সঙ্গ বা সময় আপনার বাচ্চাকে ভীষণভাবে স্পেশাল ফিল করাই। আমার পরামর্শ থাকবে কি খেলছেন সেটা বড় করে না দেখে আপনার বাচ্চার আপনাকে প্রয়োজন এটা নিয়ে ভাবুন। যেহেতু আপনি মা তাই সন্তানের ভালো আপনার চেয়ে বেশী কেউ চাইবে না। আর তাই বাচ্চার সাথে কিভাবে খেলবেন বা সময় কাটাবেন, কোনটা তার জন্য ভালো বা খারাপ এগুলো আপানাআপনি বুঝে যাবেন।