মাংস খেয়ে পেটের সমস্যা হলে এই সকল ঘরোয়া সমাধান হাতের কাছেই পাবেন

কাবাব, ভুনা-মাসালা কোরমা-কালিয়া কত যে পদ মাংসের। সঙ্গে পোলাও-কোরমা তো থাকছেই। ফলাফল গ্যাস, বদহজম, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা সমস্যা। সারা বছর না হলেও এ ঈদে অনেকেরই এসব সমস্যা হতে পারে। প্রয়োজনের বেশি শর্করা ও প্রোটিন গ্রহণ করা এবং সে অনুপাতে শাকসবজি না খাওয়াই এর প্রধান কারণ।

সমস্যা এড়াতে সচেতন হোন আগেই। মাংস অবশ্যই খাবেন, সেই সঙ্গে সালাদ ও শাক-সবজির মেন্যু রাখুন। তার পরও সমস্যা হলে জেনে নিন কিছু সমাধান। এ ধরনের শারীরিক সমস্যার সমাধান ওষুধ নয়। ঘয়োয়া সমাধানই নিরাপদ।

১. পেট ফাঁপা বা গ্যাসট্রিক
পেটে গ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া সমাধান হলো আদা খাওয়া। প্রতিবেলা মাংস খাওয়ার পর এক টুকরা আদা মুখে নিয়ে চিবিয়ে খান। পেটে গ্যাস জমবে না। কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে না পারলে আদার চা পান করুন। বড় এক টুকরা আদা ছেঁচে পানিতে ফুটিয়ে নিন। বেশকিছুক্ষণ জ্বাল হলে নামিয়ে নিন। কুসুম গরম থাকতে পান করুন। দিনে দুই বেলা পান করলে উপকার পাবেন। পেট ফাঁপা সমস্যায় কাঁচা রসুনও উপকারী। রসুন মলাশয়ে জীবাণু বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। কয়েক কোয়া কাঁচা রসুন চিবিয়ে খান। পেট ফাঁপা কমে যাবে।

গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা হলেই ওষুধ খাবেন না। সহনীয় গরম পানিতে আধা কাপ লেবুর রস মিশিয়ে খান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যথা কমে যাবে। খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি পানের অভ্যাস বাদ দিন। এতে খাবার ভালো হজম হয় না। আর গ্যাসে পেট ফেঁপে যায়। অস্থির লাগে। খাবারের আধা ঘণ্টা পরে পানি পান করুন। খুব প্রয়োজন হলে খাবারের মাঝে একঢোক পানি খেতে পারেন।

২. বদহজম
বদহজমের জন্য ১ কাপ পানিতে ১ টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। উপকার পাবেন। সঙ্গে সঙ্গে উপকার পেতে চাইলে ১ টেবিল চামচ আদার রস, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১ চিমটি লবণ ভালো করে মিশিয়ে খান। এতে পানি মেশাবেন না। আদা কুচি লবণ দিয়ে চিবিয়ে খেলেও উপশম হবে সমস্যার।

২ কাপ পানিতে এক টুকরা আদা কুচি দিয়ে জ্বাল দিয়ে ১ কাপ পরিমাণ করে এতে সামান্য মধু মিশিয়ে আদা চা তৈরি করে পান করুন। হজমের গণ্ডগোল হবে না। বদহজমে আরাম পেতে ২ কাপ পানিতে ১ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে জ্বাল দিন। পানি কমে অর্ধেক হলে নামিয়ে রাখুন। মধু মিশিয়ে গরম গরম পান করুন। দিনে দুবার পান করুন।

বেকিং সোডা বদহজমের সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকর। আধা গ্লাস পানিতে আধা চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করুন। বদহজমের সমস্যা দূর হবে। কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করলেও বেশ উপকার পাবেন।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য
কোষ্ঠকাঠিন্যে আশ জাতীয় খাবারের জুড়ি নেই। মাংসের পাশাপাশি কাঁচা সালাদ ও সবজি খাবেন। প্রতি বেলায় ১ বাটি পরিমাণ সালাদ বা সবজি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রেহাই মিলবে। বেশি পরিমাণ আমিষ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতেই পারে। রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসবগুল খাবেন। ১ গ্লাস পানিতে ১ টেবিল চামচ ইসবগুল মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করুন। মনে রাখুন, ভিজিয়ে রাখলে ইসবগুলের উপকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।

বড় একটি সাদা এলাচ ১ কাপ গরম দুধে ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত। সকালে এলাচটি থেঁতো করে দুধসহ খেয়ে নিন। খুব বেশি সমস্যা হলে দিনে দুবার এভাবে খাবেন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় এলোভেরা জেল বেশ কার্যকর। কাঁটা চামচ দিয়ে একটা এলোভেরা পাতার শাস বের করুন। ১ গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন। উপকার পাবেন।

৪. পেটে ব্যথা
হালকা ও তীব্র পেট ব্যথা উপশমে কাঁচাপেঁপে বেশ উপকারী। পেঁপে কুঁচি করে কেটে পানিতে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। পানি ছেঁকে কুসুম গরম অবস্থায় পান করতে হবে। দিনে দুতিন বার পান করলে উপকার পাওয়া যাবে। পেটের ব্যথা কমাতে আদাও ব্যবহার করতে পারেন। আদার মধ্যে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। এটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং পেট ব্যথা কমায়। পান করতে পারেন আদা চা। আদা চা বানাতে, এক কাপ গরম পানির মধ্যে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে ফুটান। এর মধ্যে সামান্য মধু দিন। এরপর এটিকে পান করুন। এ ছাড়া আদা কুচিও চিবাতে পারেন।

পেটের ব্যখায় হলুদও বেশ কার্যকর। এতে রয়েছে কারকিউমিন, যা প্রদাহ কমায় এবং পরিপাক ভালো করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস বা দুই গ্লাস পানির মধ্যে হলুদ দিয়ে গরম করুন। দিনে দুইবার এটি পান করুন। এ ছাড়া ৪০০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট দিনে তিনবার খেতে পারেন। তবে যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডায়রিয়া
ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সমস্যায় স্যালাইন এবং নানান ধরনের ওষুধ রয়েছে। তবে যদি হাতের কাছে স্যালাইন বা ওষুধ না পাওয়া যায় তাহলে বাড়িতেই তৈরি করতে পারেন খাওয়ার স্যালাইন। খাওয়ার স্যালাইন বানাতে হলে প্রয়োজন হবে চিনি, লবণ ও বিশুদ্ধ পানি। ভালো করে সিদ্ধ করা এক লিটার (প্রায় ৫ কাপ) পানিতে ৬ চা চামচ চিনি ও আধা চা চামচ লবণ ভালোভাবে মিশিয়ে তৈরি করা যায় লবণ জলের শরবত বা খাওয়ার স্যালাইন।

মাংস খেয়ে পেটের সমস্যা হলে বেশি করে পানি পান করা খুব জরুরি। ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়। এছাড়া শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য ও ব্যাকটেরিয়া বের করে দেওয়াসহ তাড়াতাড়ি রোগ নিরাময়ে পানি বেশ কার্যকর। পাশাপাশি শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্যও পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।