শিশুদের অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ালে যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে, সব পিতামাতারই জেনে রাখা দরকার

কোন বাচ্চা ছোটবেলায় মিষ্টি, চকোলেট, আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিঙ্কস খেতে ভালোবাসে না? বাচ্চা বলে তার পরিবারের লোকও তাকে এই সময়টায় বেশ ছাড় দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ফল হয় মারাত্মক। এবার নতুন সমীক্ষা বলছে, বাচ্চারা খুব বেশি মিষ্টি খেলে পরে নানা শারীরিক সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। ভয় পেয়ে গেলেন তো? এটা নিয়ে রইলো বিস্তৃত আলোচনা।

নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি মিষ্টি খেলে তা ডায়াবেটিস, ওবেসিটির মতো নানা রোগ ডেকে আনতে পারে এটা আমরা সবাই জানি। আবার দাঁতের সমস্যাও নাকি এর থেকে দেখা দিতে পারে। তবে এসবের পাশাপাশি আরেক নতুন সমস্যা জুড়ে বসলো। বেশি মিষ্টি পানীয় পান করলেই নাকি স্মৃতিশক্তি নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের। বাচ্চা বয়সে বোঝা না গেলেও পরে অর্থাৎ বয়স বাড়লে এই সমস্যা প্রবল হবে।

আসলে সমীক্ষা বলছে যে গাট মাইক্রোবায়োম, বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য মাইক্রোঅরগ্যানিজম যে ভাবে স্টমাকে ও ইন্টেসটাইনে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাতে তা পরে মস্তিষ্কের একটা নির্দিষ্ট অংশে প্রভাব বিস্তার করে ফেলে। আমেরিকান ডায়েটের মধ্যে সুগার ডায়েটের উপরে নির্ভর করে দেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মানুষ। এই ডায়েটে মিষ্টি জাতীয় পানীয়র স্থান সবার উপরে।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডায়েট ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। ইঁদুরের উপরে গবেষণা করে দেখা গেছে যে মিষ্টিজাতীয় খাবার তাদের মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলেছে। এক মাস ধরে ইঁদুরদের নিয়ে করা পরীক্ষায় মিষ্টি জাতীয় খাবার দেওয়া হয়েছিল।

এরপর দেখা যায় যে যেসব ইঁদুরগুলি সাধারণ জল পান করেছিল তাদের থেকে যারা মিষ্টি পানীয় পান করেছে, তাদের স্মৃতিশক্তি নাকি তুলনায় অনেকটাই কমেছে। যে সকল ইঁদুরদের জল খাওয়ানো হয়েছিল আর যাদের মিষ্টি পানীয় খাওয়ানো হয়েছিল, তাদের গাট মাইক্রোবায়োমও পরিবর্তন ঘটেছিলো। ফলে বিজ্ঞানীরা জোর দিচ্ছেন যে ছোট থেকেই যেন বাচ্চাদেরকে একটি ডায়েটের মধ্যে খাওয়ার অভ্যেস করানো হয়।