বিকক্তিকর হেঁচকি বন্ধে এই সহজ ৯টি পদ্ধতি শিখে নিন যা আপনাকে দ্রুত আরাম দেবে

হেঁচকি কেন হয় তা এখনো খুব স্পষ্ট নয় বিজ্ঞানীদের কাছে। দ্রুত খেতে চেষ্টা করলে, অনেক গরম ও মসলাদার খাবার খেলে, গরম খাবারের সঙ্গে খুব ঠান্ডা পানি বা পানীয় পান করতে শুরু করলে, অনেকক্ষণ ধরে হাসলে বা কাঁদলে হেঁচকি হতে পারে।

এমন অবস্থা প্রায় সবার সঙ্গেই হয়ে থাকে। আর এই সময় বেশিরভাগই পানির উপর ভরসা রেখে সমস্যা দূরের চেষ্টা করেন। অথবা কিছুক্ষণ শ্বাস বন্ধ করে রেখে বা পলিথিন ব্যাগের ভেতরে শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়ার পদ্ধতি অবলম্বন করেন। কিন্তু সব জায়গায় তো সব কিছু পাওয়া যায় না। তাই হেঁচকি বন্ধে আরও কিছু সহজ পদ্ধতি আপনাদের সামনে হাজির করছি, যা মেনে চললে নিমিষে এই ধরনের সমস্যাকে একেবারে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব।

১. চকোলেট
সবার বাড়িতেই কম-বেশি চকোলেট পাইডার থাকে, কি তাই তো? সেই কারণেই তো এবার থেকে হেঁচকি ওঠা শুরু হলে অল্প করে চকোলেট পাউডার খেয়ে নেবেন, দেখবেন কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগবে না।

২. এলাচ
এটি পেশির প্রদাহ কমায়। তাই তো এই ধরনের সমস্যা কমাতে এলাচকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে এক চামচ এলাচ পাউডার নিয়ে এক গ্লাস গরম পানি মিশিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। সময় হয়ে গেলে পানিটা ছেঁকে নিয়ে চায়ের মতো করে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন আরাম পাবেন।

৩. বাদামের মাখন
এক চামচ বাদাম পেস্ট নিয়ে মুখে রেখে দিন কয়েক সেকেন্ড। তারপর গিলে ফেলুন। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। ফলে কমবে হেঁচকির প্রকোপ।

৪. গার্গেল
খেতে খেত হেঁচকি উঠছে? সঙ্গে সঙ্গে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি নিয়ে গার্গেল করতে থাকুন। এই পদ্ধতিটি হেঁচকির প্রকোপ কমাতে দারুন কাজে আসে।

৫. ঠান্ডা পানি
যখনই হেঁচকি উঠবে, যত শীঘ্র সম্ভব এক গ্লাস ঠান্ডা পানি খাবেন। দেখবেন নিমেষে সমস্যা কমে যাবে।

৬. ঝাল সস
বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে হেঁচকি ওঠার সময় যদি অল্প করে ঝাল কিছু খেয়ে নেওয়া যায়, তাহলে সমস্যা কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এমনটা করলে ব্রেনের ফোকাস সরে যায়। আর এমনটা হওয়া মাত্র হেঁচকি বন্ধ হয়ে যায়।

৭. লেবু
এই ফলটি এক্ষেত্রে দারুন কাজে আসে। কেন জানেন? কারণ লেবুতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা মুহূর্তে নার্ভকে স্টিমুলেট করে। ফলে নিমেষে হেঁচকি বন্ধে যায়। তাই তো এবার থেকে হেঁচকি উঠলেই একটা লেবু কেটে তার রস, এক গ্লাস পানি মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন সেকেন্ডে সমস্যা কমে যাবে।

৮. চিনি
এই খাবারটি সেভাবে শরীরের কোনও কাজে না এলেও এই ধরনের সমস্যায় কিন্তু বেশ কাজে লাগে। কীভাবে এক্ষেত্রে চিনিকে কাজে লাগানো যেতে পারে? এক চামচ চিনি মুখে নিয়ে না চিবিয়ে কয়েক সেকেন্ড রেখে দিন। এমনটা করলে ভেগাস নার্ভ সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে হেঁচকি বন্ধ হয়ে যায়।

৯. গরম পানি আর মধু
এক চামচ মধু, এক গ্লাস গরম পানি মিশিয়ে নিন। তারপর সেই মিশ্রন খাওয়ার সময় কিছুক্ষণ জিভের তলায় রেখে তারপর গিলে ফেলুন। এমনটা করলে হেঁচকির সমস্যা একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন
সাধারণ কারণে হেঁচকি হলে তা একটু পর এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে শারীরিক সমস্যা ও রোগে অনেক সময় বিরক্তিকরভাবে বারবার বা অবিরত হেঁচকি হতে পারে।

বড়দের অবিরত হেঁচকি হওয়ার পেছনে কিছু কারণ থাকতে পারে। উদ্বেগ, কিডনির রোগ, শরীরে লবণের ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ায় হেঁচকি হতে পারে। আবার মস্তিষ্কের কিছু রোগ যেমন টিউমার বা ফোড়া, পেটের কিছু রোগ, যেমন অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ বা হেপাটাইটিস ইত্যাদিও হেঁচকির কারণ হতে পারে। তাই উপরে উল্লেখিত পদ্ধতিগুলো কাজ না করলে ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন হতে পারে।