নখকুনি থেকে অ্যাকজিমাও সারে লবণের গুণে, জেনে নিন লবণের এমন উপকারী কয়েকটি ব্যবহার

সবার রান্নাঘরেই লবণ থাকে। খাবারের স্বাদ বাড়াতে লবণের বিকল্প নেই। তবে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করাও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। শুধু খাবারের স্বাদ বাড়াতেই নয়, লবণ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হিসেবেও কাজ করে।

জানেন কি, নখকুনি থেকে শুরু করে সর্দি-কাশি-গলাব্যথা এমনকি অ্যাকজিমাও সারে লবণের গুণে। এর এমন অনেক উপকারী ব্যবহার আছে, যেগুলো জানলে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা থেকে আপনি মুহূর্তেই স্বস্তিবোধ করবেন। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক লবণের উপকারী কয়েকটি ব্যবহার সম্পর্কে-

>> মুখের ঘাম সারায় লবণ। এজন্য হালকা গরম আধা কাপ পানিতে এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। দিন ২-৩ বার এই পানি মুখে করে কুলকুচি করুন। এরপর আবার ফেলে দিন। এভাবে কয়েকদিন করলে দেখবেন, মুখের ঘা সেরে যাবে।

>> নখকুনি অনেক যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে। বর্ষাকালে নখকুনির সমস্যা বেড়ে যায়। এই সমস্যা থেকে আপনাকে বাঁচাবে লবণ। দিনে অন্তত ২ বার গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন ৫-১০ মিনিট। এরপর পা মুছে অ্যান্টিবায়োটিক মলম ব্যবহার করে একটি ব্যান্ডেজ দিয়ে স্থানটি বেঁধে রাখুন। দ্রুত সেরে যাবে নখকুনির সমস্যা।

>> সর্দি-কাশি থেকে মুহূর্তেই স্বস্তি দেয় লবণের ব্যবহার। এক্ষেত্রে নাকের বন্ধভাব কাটাতে লবণ পানি দিয়ে সহজেই ঘরে ন্যাসাল স্প্রে তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।

>> সোরিয়াসিস বা অ্যাকজিমার সমস্যায় অনেকেই দীর্ঘদিন ভুগে থাকেন। অ্যাকজিমার স্থানের চুলকানি ও লালচেভাব দূর করে লবণ পানি ব্যবহার করুন। ইপসোম লবণ বেশি কাজে দেয় এক্ষেত্রে। অন্তত ১৫ মিনিটের জন্য স্থানটি লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। গোসলের পানিতে মিশিয়েও নিয়মিত ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

>> গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় সবাই কমবেশি ভুগে থাকেন। বেকিং সোডা এক ধরনের লবণ হিসেবে কাজ করে। এটি একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড। তাই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে বাঁচতে খাওয়ার পরে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে প্রায় এক চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করুন।

>> পোকামাকড় কামড়ালে ত্বকে জ্বালা-পোড়া ও ফুলে যেতে পারে। যে কোনো চুলকানি বা পোকার কামড়ের ক্ষত এড়াতে লবণ পানি ব্যবহার করতে পারেন।

>> গলা ব্যথার সমস্যায় লবণ-পানি গার্গলিং করলে মুহূর্তেই স্বস্তি মিলবে। এজন্য এক কাপ গরম পানিতে ২ চা চামচ লবণ মিশিয়ে গার্গল করলে গলার ফোলাভাব ও ব্যথা কমে যাবে।

>> অনেক সময় বেশি হাঁটাহাঁটির পর পা ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিংবা ব্যথা করে। এ সময় গরম পানিতে ইপসাম লবণ মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। লবণে থাকা ম্যাগনেসিয়াম আপনার পেশির সক্রিয়তা ফিরিয়ে আনবে।

>> মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। আগেই বলা হয়েছে, বেকিং সোডা অনেকটা লবণের মতোই কাজ করে। এটি ব্যবহারের ফলে আপনার মুখে থাকা খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত আপনার মুখ সুরক্ষিত থাকবে। এক কাপ পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে মাউথওয়াশের মতো ব্যবহার করুন প্রতিনি ৩-৪ বার। মুখের দুর্গন্ধ কমে যাবে।

>> ব্যায়াম করার পর শরীর থেকে অনেক লবণ বেরিয়ে যায়। এ ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা হয়ে থাকে। তাই শরীরচর্চার আগে বা পরে লবণ পানি পান করতে পারেন। স্পোর্টস ড্রিংক হিসেবে লবণ পানির বেশ কদর আছে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

>> কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে বাঁচায় লবণ পানি। এক গ্লাস পানিতে কিছু ইপসম লবণ ও লেবু মিশিয়ে পান করতে পারেন। এর স্বাদ আরও ভাল করতে আপনি লেবুর রস যোগ করে নিয়মিত খেতে পারেন।

>> দাঁতের হলদে ভাব দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন বেকিং সোডা। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা যায়, টুথপেস্টের সঙ্গে বেকিং সোডা ব্যবহার করলে আপনার দাঁত মুক্তোর মতো ঝকঝকে হয়ে যাবে।