এই ১০টি পানীয় আপনার বহু দিনের পুরনো ঘুমের সমস্যা দূর করবে

কেমন করে যেন আমাদের সবার রাতের ঘুম উধাও হতে শুরু করেছে। অনেক চেষ্টা করেও ঘুম আসে না দু’চোখের পাতায়। আমরা যেন দিন দিন নিশাচর প্রাণিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমাদের কর্মক্ষেত্রে, পড়াশোনায় এবং সামাজিক জীবনে।

অনিদ্রা শুধু জীবন যাপনের উপরই বাজে প্রভাবে ফেলেনি, শারীরিক ও মানসিক ভাবেও আমাদের দুর্বল করে দিচ্ছে ধীরে ধীরে। তাই ‘দেহ’ খুঁজে বের করেছে এমন ১০টি পানীয় যা আপনার ঘুম পড়ানি মাসির দায়িত্ব পালন করবে।

১. গরম দুধ দূর করে ঘুমের সমস্যা

ঘুমের সমস্যা দূর করার জন্য গরম দুধ অসাধারণ একটি পানীয়, যা আপনাকে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে সাহায্য করবে। এতে রয়েছে ট্রিপটোফেন নামক একটি উপাদান, যা মস্তিষ্কে আনন্দ এবং সুখকর অনুভূতি দেওয়ার হরমোন সেরোটোনিনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে দেহে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনও বেড়ে যায়, যা ঘুমের জন্য জরুরি একটি রাসায়নিক উপাদান। দীর্ঘ দিন ধরে যার অনিদ্রায় ভুগছেন তারা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গরম দুধ পানে উপকার পাবেন।

২. পুদিনা চা

পুদিনা চায়ের প্রদাহ-বিরোধী ক্ষমতা পেট ব্যথা দূর করতে পারে। জড়তা কমিয়ে মাংসপেশিকে শিথিল করতেও এর জুড়ি মেলা ভার। যদি রাতে আরামদায়ক ঘুম পেতে চান তাহলে পুদিনা চা হবে আপনার জন্য অসাধারণ একটি পানীয়। তাই প্রতিদিন পুদিনার চা খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৩. চেরি জুস

দুধের মতো চেরিতেও পাবেন ট্রিপটোফেন, যা ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন মেলাটোনিনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। বেশ কিছু গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এই ফলের জুস অনিদ্রা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকর।

৪. নারিকেলের দুধে রয়েছে ঘুমের সমস্যা দূর করার ক্ষমতা

নারিকেলের দুধে খুব প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়, যারা মাংসপেশিকে শিথিল করে ঘুমের মান বৃদ্ধি করে। এর পাশাপাশি, রক্তচাপ এবং কিডনির উপর চাপ কমায়। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট পাওয়া যায়, যা দেহের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিথিলতার জন্য খুব প্রয়োজন।

৫. কলা আর কাজু বাদামের শরবত

কলাতেও ট্রিপটোফেন পাওয়া যায়। কলা আর কাজু বাদাম, এই দুয়ে মিলে মাংসপেশিকে শিথিল করার জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান: পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ করে। কলা শারীরিক ও মানসিক চাপ দূর করতে বেশ কার্যকর, যা আপনাকে বিছানায় খুব দ্রুত ঘুমে তলিয়ে দিতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর সবুজ চা দিনের যেকোনো সময় পান করার মতো একটি পানীয়। আমরা জানি চা সাধারণত চোখের ঘুম তাড়ায়। কিন্তু সবুজ চায়ের বেলায় এর ঠিক উল্টোটা ঘটে। এতে রয়েছে থাইমিন, যা শরীরকে শিথিল এবং চাপমুক্ত করে চোখে ঘুম নিয়ে আসে।

৭. কাজু বাদামের দুধ

ঘুমের জন্য শরীরের যা যা প্রয়োজন তার সব কিছুই কাজু বাদামে পাওয়া যায়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, যে কারণে ঘুমের মান উন্নয়নে কাজু বাদামের দুধ তার ক্ষমতা প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। গরুর দুধের মতো এতেও রয়েছে ট্রিপটোফেন এবং এটা যে মেলাটোনিন উৎপাদন করে চোখে ঘুমের ব্যবস্থা করে দেয়, তা এর আগেও কয়েকবার বলা হয়েছে।

৮. ঘুমের সমস্যা দূর হয় ক্যামোমিল চা পান করলে

ক্যামোমিল চা আপনার শরীর শীতল করে দিতে সক্ষম। সাধারণত পেটের ব্যথা, হজমের সমস্যা এবং পেট ফাঁপা দূর করতে ক্যামোমিল চা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়াও শারীরিক ও মানসিক চাপ কমিয়ে অনিদ্রা দূর করায় ক্যামোমিল চায়ের কার্যকরিতা প্রমাণিত।

৯. ভেলেরিয়ান গুল্ম চা

প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভেলেরেনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ভেলেরিয়ান গুল্ম চা আরামদায়ক গভীর ঘুমের জন্য পান করা হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঋতুনিবৃত্তিকালে নারীদের ঘুমের সমস্যা দূর করতে ভেলেরিয়ান গুল্ম চা অসাধারণ কাজ করে।

১০. অশ্বগন্ধা চা

অশ্বগন্ধা একটি প্রাচীন ভেষজ যা ঔষধি হিসাবে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে এসেছে। এটি মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতা কমানোর জন্য প্রমাণিত, যা রাতের ঘুমকে আরামদায়ক করে তুলতে পারে।

ঘুমের সমস্যা দূর করার জন্য এই পানীয়গুলোর কোনোটি কি এর আগে পান করেছেন? কোন পানীয়টি আপনার ভালো লেগেছে। নিচে কমেন্টে আমাদের জনান। অনিদ্রায় ভুগছে এমন বন্ধুকে জানাতেও এই লেখাটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।