আপনার প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এই ২০টি খাবার

আপনি যদি একটি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং একজন পুরুষ হিসেবে আপনার পুরুষত্ববোধটিকে বাড়িয়ে তুলতে চান, আপনার একটা স্বাস্থ্যকর ডায়েট অনুসরণ করা উচিত।আপনার ডায়েটে নিরামিষ খাবারগুলির পাশাপাশি মাছ–মাংস জাতীয় কিছু খাবার রাখলে তা বাস্তবেই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের দ্বারা আপনি প্রাকৃতিক ভাবেই আপনার শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়িয়ে তুলতে পারেন।অতএব খুব বেশি অপেক্ষা না করে চট করে একবার খাবারের তালিকাটিতে চোখ বুলিয়ে সেগুলিকে আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভূক্ত করুন, যদি আপনি আপনার যৌন জীবনের উন্নতি ঘটাতে চান এবং খুব তাড়াতাড়ি একটা সন্তান লাভ করতে চান!

আপনার শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ককারী খাদ্য

পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যার উন্নতি ঘটাতে পারে কোন কোন পুষ্টিকর পদার্থ এবং খাদ্য, যেগুলিকে খুব শীঘ্রই আপনি আপনার ডায়েটের অংশ করে তুলতে পারেন? সন্ধান পেতে পড়ুনঃ

1.ডার্ক চকোলেট

শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য প্রথম এবং সম্ভবত সবচেয়ে সেরা খাদ্যটি হল ডার্ক চকোলেট।চকোলেট প্রস্তুতকারী ক্যাকাও বিনগুলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ।আবার ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকে এল–আরজিনিন নামক একটি উৎসেচক যা শুক্রাণুর পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।ডিনারের শেষে স্বাদের পরিতৃপ্তির জন্য একটা সুস্বাদু ডেজার্টের পরিবর্তে আপনি এবং আপনার সঙ্গী এক টুকরো ডার্ক চকোলেট নিয়ে ভাগ করে খেতে পারেন।

2.ডিম

এ ব্যাপারে কোনও গোপনীয়তা নেই যে শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ডিম হল একটা মৌলিক সুপারফুড।ডিম ভিটামিন ই এবং প্রোটিনে সমৃদ্ধ যা শুক্রাণুর সক্রিয়তায় সাহায্য করে।ডিম খেলে তা আবার ফ্রী র‍্যাডিক্যাল বা মুক্ত মূলকগুলির থেকেও শুক্রাণুকে রক্ষা করে, এর ফলে নিষেকের সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়।তাছাড়াও ডিম হল জিঙ্কের একটি সমৃদ্ধ উৎস যা শুক্রাণুর সক্রিয়তার বিকাশের জন্য পরিচিত।আপনার শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য অসংখ্যভাবে ডিম খাওয়া যেতে পারে।

3.গোজি বেরি

শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিকারী একটি ভারতীয় সুপারফুড, গোজি বেরি হল প্রকৃতির আহ্লাদের বস্তু। গোজি বেরি মেজাজ এবং স্ক্রোটাম স্যাকের চারপাশের তাপমাত্রার উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করে যা শুক্রাণু উৎপাদনকে অনুকূল করে তোলে।যদিও এর কোনও চিকিৎসা ভিত্তিক প্রমাণ নেই তবে এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শুক্রাণুর সক্রিয়তা এবং প্রজনন ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়।

4.কলা

শুক্রাণুর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কলা হল নিঃসন্দেহে একটি সেরা পছন্দ।ফ্যালিক আকৃতির এই ফলটি ভিটামিন বি 1, সি এবং ম্যাগনেসিয়ামে সমৃদ্ধ যা শুক্রাণুর গতিশীলতা বৃদ্ধি করে এবং শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে।কলার মধ্যে আবার ব্রোমেলাইন নামক একটা বিরল উৎসেচকও থাকে যা শুক্রাণুর সংখ্যা এবং গতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে।এগুলি আবার সেক্স হরমোনগুলিকে নিয়ন্ত্রণ এবং আপনার মেজাজকে প্রফুল্ল করে তুলতে পারে।সুতরাং আপনি যদি কলা খেতে ভালোবাসেন, তবে তা অব্যাহত রাখার জন্য আপনার যথেষ্ট এবং আরও বিশেষ কিছু কারণ আছে।

5.রসুন

রসুন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করার পাশাপাশি স্কোটামের মধ্যে শুক্রাণু উৎপাদন বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।এর মধ্যে থাকে অ্যালিসিন যা সঠিক অংশগুলিতে রক্ত ​​সঞ্চালনকে উদ্দীপিত করার জন্য প্রয়োজনীয়।যৌন অঙ্গাণুগুলিতে রক্ত অবাধে প্রবাহিত হয় এবং কোনওরকম ড্যামাজ হওয়া থেকে সেগুলিকে রক্ষা করে।সিলেনিয়াম, যা অপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসেচক, রসুনের মধ্যে পাওয়া যায় যা শুক্রাণুর গতিশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করে।

6.পালংশাক

সবুজ শাক–সবজি খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো কারণ এগুলি আমাদের দেহের মধ্যে অসংখ্য ক্রিয়াকলাপগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।সবুজ শাক–পাতাগুলো বিশেষ করে শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করতে পারে।পালংশাক ফোলিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ যা শুক্রাণুর বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

7.শতমূলী বা অ্যাসপারাগাস

শতমূলী বা অ্যাসপারাগাস হল ভিটামিন সি–র একটা ভাল উৎস, যা ফ্রী র‍্যাডিক্যালগুলি থেকে শুক্রাণুকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।এটা আবার এমনকি শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে এবং ডিম্বাণুর দিকে সাঁতরে যেতে সাহায্য করার মাধ্যমে প্রজননের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

8.আখরোট

আখরোটগুলি ব্রেন ফুড হিসেবে সুপরিচিত, তবে এগুলি শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ হওয়ায়, আখরোট শুক্রাণুর জীবনীশক্তি উন্নত করে।

9.ঝিনুক বা অয়েস্টার

ঝিনুক হল জিঙ্কের একটা দুর্দান্ত উৎস যা শুক্রাণুর সক্রিয়তার উন্নতি করতে সাহায্য করে।অতএব, ঝিনুক খান– এগুলো গ্লাইকোজেন এবং টরিন সরবরাহ করার মাধ্যমে আপনার প্রজনন প্রক্রিয়াটিকে উদ্দীপ্ত করবে।

10.অশ্বগন্ধা (জিন্সেং)

প্রাচীন এই মূলটি একটি চমৎকার কামোত্তেজক বস্তু হিসেবে কাজ করে এবং বহুকাল ধরে বিভিন্ন ধরনের রান্নার কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে।বলা হয় যে এটা কেবল টেস্টোস্টেরন বাড়ায় না তার সাথে সাথে আবার ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসাতেও সাহায্য করে।এটি তাজা বা শুকনো আকারে পাওয়া যায় এবং চা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

11.ডালিম

যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ডালিম পরিচিত।অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির একটি সমৃদ্ধ উৎস হওয়ার কারণে এগুলি শুক্রাণুর মাত্রা এবং শুক্রাণু উৎপাদনের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।প্রতিটি অন্য দিনে আপনি ডালিমকে কাঁচা অথবা রস আকারে খেতে পারেন।

12.কুমড়ো দানা

এই বীজগুলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইটোস্টেরল এবং অ্যামাইনো অ্যাসিডে পূর্ণ যা পুরুষদের মধ্যে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।কুমড়োর দানা আবার শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা এবং সার্বিকভাবে পুরুষত্ব বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।আপনি এই বীজগুলিকে স্যালাডের উপর টপিং হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন কিম্বা স্ন্যাক্সের মত সেগুলিকে কাঁচাই খেতে পারেন।

13.গাজর

গাজর খাওয়া যেতে পারে একটি স্ন্যাক্স বা সবজি হিসেবে।গাজর বিটা–ক্যারোটিনের একটা সমৃদ্ধ উৎস, যেটি হল একপ্রাকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ফ্রী র‍্যাডিক্যালগুলির থেকে শুক্রাণুকে রক্ষা করার মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করে।আর এর ফল রূপে এটি শুক্রাণুর গতিশীলতা বৃদ্ধি করে, আর এভাবে সেটিকে ডিম্বাণুতে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

14.মুসুর

রান্না করা মুসুরগুলি হল ফোলিক অ্যাসিডের এক চমৎকার উৎস, যেটি শুক্রাণু উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক।ফোলিক অ্যাসিডের অভাব পুরুষদের মধ্যে ক্রোমোজোমীয় অস্বাভাবিকতাগুলি সৃষ্টি করতে পারে, সুতরাং প্রত্যহ মুসুর সেবন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

15.জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাদ্য

জিঙ্ক সমৃদ্ধ যেকোনও খাদ্য ফ্রী র‍্যাডিক্যাল ড্যামেজ হওয়া থেকে শুক্রাণুকে রক্ষা করে।এটি আবার কামশক্তিকেও উদ্দীপ্ত করে তোলে।সব ধরনের মাছ জিঙ্কের একটা দুর্দান্ত উৎস।আপনি আপনার জিঙ্ক গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে পারেন বাদাম, মটরশুটি, সম্পূর্ণ গমের দানা, ফর্টিফায়েড বা বলবৃদ্ধিকারী সিরিয়াল বা দানাশস্য এবং দুগ্ধজাতীয় খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে।

16.গো–মাংস

রেড মিট যেমন গো–মাংস‘ও হল জিঙ্কের একটি অসাধারণ উৎস।গো–মাংস আবার ফোলিক অ্যাসিড এবং সিলেনিয়ামেরও একটা সমৃদ্ধ উৎস, যা শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।আপনি যদি মাংস খেতে পছন্দ করেন, গো–মাংস বা বীফ খান– এটা শুক্রাণুর উৎপাদন এবং গতিশীলতায় সাহায্য করবে।

17.মেথি

ভারতীয় প্রতিটি পরিবারে ব্যবহার হওয়া ঐতিহ্যবাহী উপকরণ, মেথি বা ফেনুগ্রীক, শুক্রাণুর সংখ্যা এবং কামশক্তি বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে।ডাল অথবা যেকোনও সবজিতেই এটি ফোড়ণ হিসেবে বা অন্য যেকোনওভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

18.অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল

নিয়মিত অলিভ অয়েল গ্রহণ করলে তা শুক্রাণুর সংখ্যা এবং তার গুণমানের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।এটা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখে, টেস্টিক্যালে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করে এবং সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর শুক্রাণু গঠণে সাহায্য করে।

19.টমেটো

টমেটো হল প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী দুর্দান্ত একটি খাদ্য।এর মধ্যে রয়েছে লাইকোপিন, যেটি হল এক প্রকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা বীর্যের গঠন এবং ক্রিয়াকলাপ উন্নত করার জন্য পরিচিত।টমেটো নিয়মিত সেবন করলে তা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

20.নানা প্রকার বেরি

ঠিক গোজি বেরির মতোই, রাস্পবেরি, স্ট্রবেরি, ক্র্যানবেরি এবং ব্লুবেরিতে রয়েছে বিভিন্ন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি পুষ্টি পদার্থগুলি যেমন কোরসেটিন এবং রেস্যাভার‍্যাট্রল, যা শুক্রাণুর গুণমান এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

কয়েকটি টিপস আপনার প্রজনন মাত্রা উন্নত করার জন্য

এই খাবারগুলি খাওয়ার পাশাপাশি আপনার শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে আপনার জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনও নিয়ে আসা উচিত।সুতরাং আপনি যদি আপনার প্রজনন ক্ষমতার মাত্রাটি উন্নত করতে চান তবে আপনার মেনে চলা উচিত এমন কিছু টিপস এখানে রইল।

আপনার প্রজনন ক্ষমতার উন্নতি করতে আপনাকে অবশ্যই ধূমপান ত্যাগ করতে হবে (যার অর্থ হল যদি আপনি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন)।ধূমপান পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।সুতরাং আপনার ধূমপান ত্যাগ করাটা গুরুত্বপূর্ণ।