আপনার শিশুর ড্ৰাই আইজ বা শুষ্ক চক্ষু সমস্যার কারণ, উপসর্গ এবং চিকিৎসা জেনে নিন

চোখের পর্যাপ্তপরিমানে তৈলাক্তকরণ না হলে বা চোখের উপরিভাগে পর্যাপ্ত অশ্রু না থাকলে ড্ৰাই আই বা শুষ্ক চোখের সমস্যা দেখা দেয়। জীবনধারার পরিবর্তনের ফলে বাচ্চাদের মধ্যে ড্ৰাই আইজের সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত অস্বস্তি থেকে শুরু করে অকুলার সারফেসে অনেকটা দাগ বা ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে ড্ৰাই আইজের কারণে। এটি বেদনাদায়ক হতে পারে, এবং প্রায়শই একে লক্ষ্যও করা হয় না।

এই ঋতুতে ড্ৰাই আইজের সমস্যা ভারতীয় উপমহাদেশে বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাচ্চাদের ড্ৰাই আইজের উপসর্গ:

ব্যাথা, জ্বালা, খোঁচানো অথবা থেকে থেকেই চোখ লাল হয়ে যাওয়া

চোখের দৃষ্টি মাঝে মাঝে ঝাপসা হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে বারংবার চোখ ঘষার ফলে মাঝে মধ্যে চোখ জলে ভরে ওঠা,

অস্বস্তি এবং চোখের ভেতর অন্য কিছু রয়েছে, এমন অনুভূত হওয়া

বারেবারে চোখ পিটপিট করা

আলো থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা

চোখের চারপাশ ফুলে ওঠা

পেডিয়াট্রিক ড্ৰাই আইয়ের কারণ:

১. সংক্রমণ: ব্যাকটেরিয়াল (স্টেফাইলোকক্কাল) সংক্রমণ, ডেমোডেক্স অথবা উকুনের উপদ্রব থেকে।

২. যোগরেন্স সিনড্রোম, জুভেনাইল ডায়াবেটিস বা জুভেনাইল আর্থ্রাইটিসের মতো অসুখ।

৩. জন্মগত ব্যাধি যেমন ডিসটোনোমিয়া, এলাক্রমিয়া, সিস্টিক ফাইব্রোসিস ইত্যাদি। এই অসুখে ভোগা শিশুরা চোখের অসুখ ছাড়াও সাধারণত অন্যান্য সমস্যাতেও ভোগে।

৪. অপুষ্টি: ভিটামিন এ এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এর অভাব থেকে ড্ৰাই আইজ হতে পারে। নিরামিষাশীদের এই সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়, কারণ নিরামিষ খাদ্যে এগুলির অভাব রয়েছে।

৫. দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রীনের দিকে তাকানো/ চোখের ওপর চাপ পড়ে এমন কাজে ব্যস্ত থাকা: যেমন ভিডিও গেম্স্, স্মার্ট ফোন এবং কম্পিউটার। দীর্ঘ সময় ধরে এসব যন্ত্র ব্যবহারের ফলে চোখের পলক ফেলার প্যাটার্ন বদলে যায়। যেখানে প্রতি মিনিটে পলক ফেলার হার ১৪, ক্রমাগত যন্ত্র ব্যবহারের ফলে তা হয়ে দাঁড়ায় ৫-৬। তাছাড়া পলক ফেলার প্রক্রিয়াটিও অসম্পূর্ন হয়।

৬. পরিবেশ সংক্রান্ত কারণ: কম আদ্রতা, শহুরে দূষণকারী পদার্থ এবং শুষ্ক বাতাস।

৭. কন্ট্যাক্ট লেন্স: এতে ড্ৰাই আইজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর আজকালকার দিনে অনেক বাচ্চারাই কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করে।

৮. ঘন ঘন জ্বর এবং কাশির জন্য সেবন করা ঔষধ যেমন এন্টি কোল্ড সিরাপ ও কফ সিরাপ (এন্টি হিস্টামিনিক)

৯. এলার্জি: চোখে কোনো ধরণের এলার্জি থেকে ড্ৰাই আইজের সমস্যা হতে পারে। একে কখনো ওকুলার এলার্জি হিসেবেও নির্ণীত করা হয়।

আদ্রতা পুনর্স্থাপন/ ড্ৰাই আই এর চিকিৎসা

১. সঠিক পুষ্টি: অতিরিক্ত পরিমানে জল, ফলের রস এবং তাজা ফল গ্রহণ করুন। বেশি করে গাজর, পেঁপে, কাঁচা টোম্যাটো এবং ভিটামিন এ যুক্ত অন্যান্য খাবার গ্রহণ করতে হবে। নিরামিষাশীরা সিয়া সীড, ফ্যাক্স সীড, ওয়াল নাট এবং ব্রাসেল স্প্রাউট, যা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডে ভরপুর, তা খেতে পারেন।

২. ঘন ঘন পলক ফেলুন: স্ক্রীন ব্যবহার করবার সময়ে নিজে থেকে পলক ফেলুন সম্পূর্ণ ভাবে কারণ চোখের শুষ্কতা সংক্রান্ত বেশিরভাগ সমস্যা হয়ে থাকে পলক ফেলা কমে যাওয়ার জন্য।

৩. স্ক্রীন টাইম কমান: সম্ভব হলে স্ক্রীন টাইম কমানো উচিত।

৪. কন্ট্যাক্ট লেন্সের ব্যবহার কমান অথবা লেন্সের উপাদান বদল করতে পারেন চিকিৎসকের পরামর্শ মতো।

৫. আপনার চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের মতামত নিন: আপনার চিকিৎসকই পারেন কোনো ধরণের রোগ বা সংক্রমণ যেমন লাইস ইনফেস্টেশন, ওকুলার এলার্জি এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গে অসুখ বাসা বেঁধেছে কিনা তা নির্ণয় করতে। এগুলির উপস্থিতি রয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা এবং থেকে থাকলে তার চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

আপনার সন্তান যদি অন্য কোনো ওষুধ প্রায়শ ব্যবহার করে থাকে, তবে সে কথা চিকিৎসককে জানান। ঈশ্বরের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট দান হচ্ছে আমাদের চোখ…চোখ সুস্থ এবং খুশি রাখুন।