কোমর ও পিঠ ব্যথা সংক্রান্ত বিপজ্জনক ৮টি লক্ষন অবেহলা করলে হতে পারে বড় বিপদ

যেসব কারণে মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়, তার মধ্যে পিঠের ব্যথা অন্যতম। আর যতগুলো কারণে অপারেশন করার প্রয়োজন হয়, এর মধ্যে তৃতীয় কারণ হচ্ছে এই রোগ। পিঠের ব্যথা অনেক কারণেই হতে পারে। তবে অনেক সময় তুচ্ছ দৈনন্দিন অভ্যাসের জন্যও এই ব্যথা হতে পারে। আর সেসব বিষয়ে সাবধান থাকলে এই ব্যথা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়। এ প্রতিবেদনে পিঠ ব্যথার ৮টি লক্ষণ দেওয়া হলো, যা লক্ষ্য করলে আপনার জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।

সম্প্রতি আপনার পিঠে ইনজুরি হয়েছে

আপনি যেভাবেই পিঠে আঘাত পান না কেন (যেমন- পড়ে যাওয়া, গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটা, কোনোকিছু আপনার পিঠে আঘাত করা), দ্রুত কোনো বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। হয়তো আপনি টের পাচ্ছেন না, কিন্তু স্পাইনাল ইনজুরি হলে তা খুব মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। তাই ব্যথা পাওয়ার সাথে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে যাবেন। আঘাতের অবস্থা বোঝার জন্য আপনার এক্স-রে অথবা সিটি স্ক্যান প্রয়োজন হবে।

আপনি ওজন হারাচ্ছেন

অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত ওজন হ্রাস কখনোই ভালো লক্ষণ নয়। এর সঙ্গে পিঠ ব্যথা থাকলে, এটি মেরুদণ্ডে টিউমারের একটি লক্ষণ হতে পারে। টিউমার মেরুদণ্ডের হাড় দুর্বল করে এতে ফাঁটল ও ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। টিউমারের কারণে স্পাইনাল কর্ড ও এর স্নায়ুগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি হয়ে ব্যথা, দুর্বলতা, ইনকন্টিনেন্স এমন কি প্যারালাইসিসের ঘটনাও ঘটতে পারে। যদি আপনার ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকে অথবা যদি আপনি অতি ধূমপায়ী হন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার দেখান। কিছু টিউমার মেরুদণ্ডে শুরু হয়, কিন্তু তারা সেখান থেকে ফুসফুস, স্তন, কিডনি ও প্রোস্টেটে ছড়িয়ে পড়ে।

আপনি প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না

ব্লাডার ইনকন্টিনেন্সের মত সমস্যা আপনার প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। এর কারণে পিঠ ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এমন সমস্যার জন্য আপনি ডাক্তার না দেখালে সমস্যা আরো প্রকট রূপ ধারণ করতে পারে।

ব্যথা আপনাকে রাতে জাগিয়ে তোলে

অনেক ক্ষেত্রে বিশ্রাম নিলে পিঠ ব্যথা কমে যায়। কিন্তু পিঠের ব্যথার কারণে যদি আপনি প্রায়ই ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, তাহলে এটি বিনাইন টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে ক্ষুধা হ্রাস, জ্বর অথবা দুর্বলতা বা অসাড়তা থাকলে এখনই ডাক্তার দেখাতে হবে।

আপনার পাকস্থলী ব্যথাও আছে

সাধারণ পিঠ ব্যথা বিরল ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার পাকস্থলীর ব্যথাও অনেক সময় পিঠে অনুভূত হতে পারে, যার মানে হচ্ছে আপনার পিঠ ব্যথার উৎপত্তি হয়েছে পেট থেকে। অ্যাবডোমিনাল অ্যাওরটিক অ্যানিউরিজম, পেটের একটি মারাত্মক অবস্থা যার কারণে পিঠের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা হয়। যদি আপনার ব্যথা প্রতিনিয়ত তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে, তাহলে আজই হাসপাতালে যান।

আপনার পিঠের পেশি শক্ত হয়ে গিয়েছে

যদি পিঠ ব্যথা প্রতিনিয়ত না হয় এবং এর পরিবর্তে পিঠের পেশি শক্ত হয়ে যায়, তাহলে সম্ভবত আপনার কিডনিতে পাথর হয়েছে। যদি এমনটা ঘটে, তাহলে আপনার প্রস্রাবের সঙ্গে কিছু রক্তও লক্ষ্য করতে পারেন। হাসপাতালে যান এবং রোগ নির্ণয় করুন ও চিকিৎসা নিন। ডাক্তার এই পাথর অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আপনার অস্টিওপোরোসিস আছে

আপনার অস্টিওপোরোসিস আছে এবং যদি হঠাৎ আপনার পিঠ ব্যথা হয়, তাহলে সম্ভবত আপনার মেরুদণ্ডের হাড়ে ফাঁটল ধরেছে। এর পেছনে পড়ে যাওয়া, ভারী কিছু উত্তোলন করা অথবা এমনকি শক্তিশালী কাশিও অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যথা যদি নিজে নিজে চলে না যায়, তাহলে ডাক্তার দেখাতে হবে। সেক্ষেত্রে ভারটিব্রোপ্লাস্টির মাধ্যমে ফেঁটে যাওয়া মেরুদণ্ডের হাড়ে সিমেন্ট ঢুকিয়ে দিতে পারেন চিকিৎসকরা।

আপনার অসাড়তা আছে

যদি সঠিক সময়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেন তাহলে স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আপনি স্থায়ীভাবে প্যারালাইসড হয়ে যেতে পারেন।

আপনার পিঠ ব্যথা ও পায়ের দিকে অসাড়তা থাকলে তা কোমর বরাবর মেরুদণ্ড থেকে বেরিয়ে আসা এক বা একাধিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যান।