শিশুদের টিকা দেওয়ার পরে ব্যথা কমানোর কয়েকটি সহজ এবং কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি জেনে রাখুন

শিশু ভূমিষ্ঠ হলে তার নিয়মিত টিকাকরণের বিবরণ সংক্রান্ত একটি কার্ড দেওয়া হয় মায়েদের। সেই কার্ড অনুযায়ী শিশুর টিকাকরণের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শিশু বা বাচ্চাদের নানান রোগ থেকে রক্ষা করতেই এই টিকাকরণ। বিভিন্ন সংক্রামক, মারণ রোগকে নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করার ক্ষেত্রে টিকা অন্যতম হাতিয়ার। বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ পরিপক্ক না হওয়ায় ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

তাই এই টিকাগুলি আপনার বাচ্চাকে অনেক ভয়ঙ্কর রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখে। বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। তাই শিশুকে সঠিক সময়ে সব প্রয়োজনীয় টিকা অবশ্যই দেওয়ান।

তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে বেশিরভাগ বাচ্চারই বেশ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যদিও এর প্রতিটাই সাময়িক, কিন্তু তার পরেও এগুলোর জন্য প্রত্যেক বাবা-মায়ের প্রস্তুত থাকা উচিত।

টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

টিকা দেওয়ার পরে শিশুর ব্যথা-যন্ত্রণার কথা ভেবে অনেক বাবা-মায়েরা ভয় পান। কিন্তু শিশুর কল্যাণের কথা ভেবে তাকে টিকা দেওয়ানো ভাল। বাচ্চাকে টিকা দেওয়ার পরে সাধারণত কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে –

ক) জ্বর

খ) বিরক্তিভাব বা অস্বস্তি

গ) ইনজেকশন জায়গাটি লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া

ঘ) ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা

এই লক্ষণগুলি যদি দীর্ঘক্ষণ ধরে চলতে থাকে, তবে আপনার শিশুর শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

ভ্যাকসিনের ব্যথা বা অস্বস্তি কমানোর কয়েকটি ঘরোয়া উপায়

১) বাচ্চাকে আদর করুন

বাচ্চার ইনজেকশনের ব্যথা কমাতে বাবা-মায়ের উচিত তাকে আদর করা, আগলে রাখা। দেখা গেছে যে, বাবা-মায়েরা শিশুকে ধরে থাকলে তারা কম কাঁদে, অনেক শান্ত থাকে। এমন কিছু করুন, যাতে ছোট্ট শিশু খুব খুশি থাকে। শিশুকে একটু বেশি সময় দিন, তাকে আনন্দে রাখার চেষ্টা করুন।

২) বাচ্চাকে খাওয়ান

আপনার ছোট্ট সোনার মন যদি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন, তাহলে দেখবেন সে আর ব্যথার জন্য কাঁদছে না। তাই ভ্যাকসিন দেওয়ার পর শিশুকে ঘনঘন খাওয়াতে থাকুন, তাহলে তার মন ব্যথার দিক থেকে সরে আসবে। বিশেষ করে, স্তন্যপান করানোটা খুব জরুরি। এছাড়া, বাচ্চার শরীর হাইড্রেট থাকবে।

৩) চিনি জল

আপনার শিশু যদি ছয় মাসের কম বয়সী হয়, তাহলে তার জন্য এই পদ্ধতি খুবই কার্যকরী। টিকা দেওয়ার সময় বাচ্চার মুখে কয়েক সামান্য চিনির জল দিন বা চিনির জলে চুষি ডুবিয়ে সেটি আপনার বাচ্চাকে দিতে পারেন। এটি শিশুকে শান্ত রাখতে পারে।

৪) শিশুকে ভুলিয়ে রাখুন

ইনজেকশন দেওয়ার সময় বা তার পরে আপনার বাচ্চাকে কোনও খেলনা কিংবা অন্য কিছু ওর হাতে দিন। তাহলে ব্যথার দিকে তার মনোযোগ থাকবে না, সে ভুলে থাকবে।

৫) ঠান্ডা সেঁক বা বরফ

ঠান্ডা সেঁক দিলে ইনজেকশনের জায়গায় ফোলাভাব বা ব্যথা কমতে পারে। ঠান্ডা জলে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে ওই জায়গায় দিন। এক্ষেত্রে আপনি আইস প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন।

৬) শিশুর ত্বক ঘষুন

ইনজেকশনের আগে এবং পরে ইনজেকশনের জায়গাটির আশেপাশে আলতো করে ঘষতে পারেন, এতে ব্যথা উপশম হতে পারে। জোরে ঘষবেন না, তাহলে ছোট্ট শিশু ব্যথা পেতে পারে।