জেনে নিন কফি খাওয়ার যে ভুলগুলো মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা আমরা বুঝতেই পারি না

ঘুম থেকে উঠেই কফির মগ হাতে তুলে না নিলে অনেকেরই সারাদিন ভালো কাটে না। এছাড়াও যখনই বোধ হয় তখন এক কাপ কফি মুহূর্তেই শরীরে প্রশান্তি আনে! যদিও কফি খেতে বাহানা লাগে কফিপ্রেমীকদের।

সবারই নিশ্চয়ই জানা কফি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। যা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। বিশেষ করে কফি খাওয়ার সময় কয়েকটি ভুলের কারণ হতে পারে মারাত্মক।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তবে অতিরিক্ত কফি খাওয়া মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। বরং শরীরে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। কফি খাওয়ার একটি নিয়ম আছে। এর বাইরে গেলেই স্বাস্থ্যকর কফি হয়ে উঠতে পারে ক্ষতিকর।

কফি খেলে যেসব উপকার মেলে

কফিতে থাকে উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ঘরে তৈরি করা আট আউন্সের এক কাপ কফিতে সাধারণত ১০০ মিলিগ্রামের মতো ক্যাফেইন থাকে।

প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের জন্য মোটামুটি ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন দৈনিক পান করা নিরাপদ। এর বেশি পান করলে অনিদ্রা, খিটখিটে মেজাজ, পেট খারাপের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

>> কফিতে থাকা ক্যাফেনাইন অ্যানার্জি বর্ধক। এই উপাদান শারীরিক ও মানসিক অ্যানার্জি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

>> মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাদে।

>> চিন্তাশক্তি ও দক্ষতা উন্নত হয়।

>> ব্ল্যাক কফি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

>> ডিমেনশিয়া ও পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকিও কমায় কফি।

>> হতাশার ঝুঁকিও কমে।

>> লিভারের ক্ষতি ও কলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

>> কফিতে থাকে ক্যাফেইন ছাড়াও পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ভিটামিন বি।

>> কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস মন ভালো রাখে।

>> যাদের মুড সুইংয়ের সমস্যা আছে তাদের কফি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

>> কফি অবসাদ দূর করে।

এবার জেনে নিন কফির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে-

>> সকালে খালি পেটে কফি খেলে পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। পাকস্থলীতে প্রচুর পরিমাণে এই অ্যাসিড জমলে হজমজনিত সমস্যা হতে পারে।

>> কফির বীজে ক্যাফেইন ও অন্যান্য অম্লীয় উপাদান থাকে যা পাকস্থলীর গায়ে ক্ষত সৃষ্টি করে আলসার ও গ্যাসট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

>> অতিরিক্ত কফি খেলে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষম ব্যহত হতে পারে।

>> কফি শরীরে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করলেও এটি স্নায়ুদতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

>> দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর পরিমাণে কফি পান করলে স্বাভাবিক উদ্দীপনাও নষ্ট হতে পারে।

এজন্য দিনে সর্বোচ্চ তিন কাপ কফিতেই সন্তুষ্ট থাকুন। ওজন কমাতে চাইলে ব্ল্যাক কপি পান করুন।

আয়ুর্বেদে কফিকে সর্বোত্তম ওষুধ হিসেবে দেখে। কফি শরীরে উষ্ণ উত্তেজক প্রভাব ফেলে বলে জানা যায়। এটি আমাদের শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে, হজমকে উদ্দীপিত করতে পারে ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে।

কফি বিভিন্ন অসুখের দাওয়াই হতে পারে, তবে যদি এটি অল্প পরিমাণে খাওয়া হয়। আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের মতে, যদি আপনি কম পরিমাণে কফি পান করেন তাহলে এটি কোনো ক্ষতি করবে না। তবে অতিরিক্ত খেলে শারীীরক বিভিন্ন সমস্যা ভুগবেন।

এছাড়াও যাদের হজমে সমস্যা আছে তাদের কফি থেকে দূরে থাকা উচিত। এক্ষেত্রে আদা চা খেতে পারেন তবে কফি নয়। আবার অনিদ্রায় যারা ভোগে তারাও কফি পান করলে সহজে ঘুমাতে পারবেন না। কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাগ, মাথাব্যথা ও অ্যাসিডিটির কারণ হতে পারে কফি।