অনিদ্রা ও স্ট্রেস দূর করতে দারুণ কার্যকর ‘মুন মিল্ক’ তৈরির পদ্ধতি জেনে নিন

ভালো ঘুমের জন্য রাতে এক গ্লাস গরম দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে– গরম দুধ খেলে কি আসলেই ঘুম ভালো হয়?

পুষ্টিবিদরা জানান, দুধে সব ধরনের মিনারেলই পরিমিত পরিমাণে থাকে। তাই ঘুমও ভালো হয়। দুধে ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। এতেই শরীরে সেরোটোনিন হরমোনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোন শরীর শান্ত করে, ফলে ঘুম ভালো হয়। এজন্য বিশেষজ্ঞরাও নিজেকে রিচার্জ করার জন্য রাতে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন।

যদিও আপনি রাতে ঘুমানোর আগে হলুদের দুধ পান করার আয়ুর্বেদিক উপকারিতা সম্পর্কে শুনে থাকবেন, কিন্তু আরেক ধরনের দুধ আছে, যা যদি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে খাওয়া হয়, তাহলে আপনাকে স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে শোয়ার আগে হালকা গরম দুধ খেলে ভালো ঘুম হয়। দুধের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে সেরোটনিনের সূত্রপাত ঘটে।

এটা মস্তিষ্কে যে সংকেত পাঠায়, তা স্নায়বিক উত্তেজনা প্রশমনে সাহায্য করে। হয়তো এ কারণে দুধ খেলে সহজে ঘুম আসে। কিন্তু ঘুম আনার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ট্রিপটোফ্যান গরুর দুধে আছে কি না, তা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

আমরা মুন মিল্কের কথা বলছি। মুন মিল্কের সবচেয়ে উপকারি উপাদানটি হল অ্যাডাপ্টোজেন। সাধারণত অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে দেশীয় ভেষজ অশ্বগন্ধা মেশানো হয় দুধে। তা স্ট্রেস কমাতে কার্যকর, এই বিষয়টি প্রমাণিত। এমনকি অ্যাংজাইটির ওষুধ লোরাজেপামের মতোই তা শক্তিশালী বলে দেখা গিয়েছে।
​দুধের উপকারিতা

বর্তমানে ঘুম না আসা খুব কমন একটি সমস্যা। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ চিকিত্‍সকই পরামর্শ দেন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ খেতে। দুধে যে বায়োঅ্যাক্টিভ প্রপারটিস থাকে তা স্ট্রেস কমিয়ে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। প্রতি রাতে শুতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস করে লো-ফ্যাট দুধ খেলে শরীরের কোলেস্ট্রল লেভেল অনেকটাই কমে এবং শরীর সুস্থ থাকে। দুধে যে প্রোটিন থাকে তা খারাপ কোলেস্ট্রল কমিয়ে ভালো কোলেস্ট্রলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। গরুর দুধ ভিতামিন এ, ডি এবং ক্যালশিয়ামে সমৃদ্ধ, যা আমাদের হৃদযন্ত্রকেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

​পুষ্টিগুণে ভরপুর মুন মিল্ক

অশ্বগন্ধার পাশাপাশি মাশরুম, চেরি জুস, কোলাজেন, এসব উপাদান যোগ করা হয় মুন মিল্কে। ইনস্টাগ্রামে গোলাপি, সবুজ, বেগুনী বা হলুদ মুন মিল্ক দেখা যায় অনেকের প্রোফাইলে। এর জন্য বিটের রস, মাচা গুঁড়ো বা হলুদ গুঁড়ো যোগ করা হয় দুধের সাথে। গোল্ডেন মিল্কের মতো মুন মিল্ক তৈরি করা যায়, দারুচিনি গুঁড়ো মেশানো যায়, এমনকি এতে কিছু ফল দিয়ে মিষ্টি করা যায়। তবে একটা জিনিস কখনোই মেশানো যাবে না, আর তা হলো ক্যাফেইন। ক্যাফেইন থাকলে আর তা আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে না।

​মুন মিল্কের স্বাস্থ্য উপকারিতা

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে অশ্বগন্ধা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে চাপ এবং উদ্বেগ হ্রাস করে, যার ফলে ঘুম ভালো হয়। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ সাইকোলজিক্যাল মেডিসিন -এ প্রকাশিত অনুরূপ একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে মানসিক চাপে থাকা মানুষের সাধারণ স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এটি খুবই ভালো।

​কেমন করে তৈরি করবেন মুন মিল্ক

উপকরণ

১৫০ গ্রাম দুধ, ১০০ গ্রাম চেরি জুস, ২ চা চামচ শুকনো গোলাপের পাপড়ি,সিকি চা চামচ ভ্যানিলা এক্সট্রাক্ট ১ চা চামচ মধু, ১ চা চামচ অশ্বগন্ধা গুঁড়ো।

পদ্ধতি
দুধ, চেরি জুস, গোলাপ পাপড়ি, ভ্যানিলা এক্সট্রাক্ট ও অশ্বগন্ধা একসাথে একটি ছোট সসপ্যানে নিন এবং মাঝারি আঁচে গরম করে নিন। সসপ্যানের দুধ থেকে বুদবুদ উঠতে শুরু করলে আঁচ আরও কমিয়ে দিন এবং ৫ মিনিট গরম করুন। ছেঁকে গোলাপের পাপড়ি আলাদা করে নিন। মধু মিশিয়ে পান করুন।