কোন বয়সের শিশুকে কিভাবে শাসন করবেন বিস্তারিত জেনে নিন

ছোট বাচ্চা আছে যাদের তাদের মেজাজ ঠিক রাখা টা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে প্রায়‌ই। তাই দেখা যায় যে, তাদের শান্ত করার জন্য বকা দেয়া হয়। সন্তান যখন কোন ভুল করে তখন অনেক পিতা-মাতাই বেশ কঠিন শব্দ ব্যবহার করে তাকে শাসন করার জন্য দ্বিতীয় বার চিন্তা না করেই। শিশুকে শারীরিক ভাবে আঘাত না করেও মৌখিকভাবে বকা দিলেও তার আত্মবিশ্বাস কমে যায়‌ তাছাড়া শিশুকে কঠিন শব্দ ব্যবহার করে বকা দিলে তাদের যে ক্ষতি হয় সে বিষয়ে জেনে নিয়ে চলুন।

নবজাতক থেকে এক বছরের শিশুদেরঃ এই বয়সের শিশুদের দেখাশোনা করার ক্ষেত্রে প্রচুর ভালোবাসা, যত্ন, স্নেহ এবং ধৈর্য থাকা প্রয়োজন।যদি আপনি প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় ভুগে থাকেন তাহলে আপনার সন্তান লালন পালনের ক্ষেত্রে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে নাও থাকতে পারে এবং আপনি হয়তো আপনার সন্তানের উপর চেঁচামেচি করতে পারেন।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, এটি আপনাকে কোন ভাবেই সাহায্য করবে না। আপনার ছোট্ট শিশুটির কাছে বার্তা পৌঁছানোর জন্য যদি আপনি বকা দেন তাহলে আপনি শুধু একজন বিরক্তকর মানুষেই পরিণত হবেন।

এর প্রভাবঃ এই বয়সের শিশুদের ওপর চেঁচামেচি করা প্রাসঙ্গিক হতে পারে না।এতে তারা শুধু বিরক্তই হবে এবং এতে তাদের ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

যা করবেনঃ শিশুকে শান্ত করার চেষ্টা করুন, তাকে জড়িয়ে ধরুন, তার সাথে খেলা করুন অথবা কথা বলুন।এর মাধ্যমে আপনার সাথে তার বন্ধন দৃঢ় হবে।

এক থেকে তিন বছরের শিশুদেরঃ এই বয়সের শিশুরা খুবই নমনীয় হয় এবং এই সময়ে তাদের সাথে যে আচরণ করা হয় তা তাদের মনে যে ছাপ ফেলে তা দূর করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের বকা দেওয়া হয় তাদের শৃংখলা শিখানোর চেয়েও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।শিশু যাতে ভেজা মেঝের ওপর দিয়ে দৌড়াদৌড়ি না করে,তাহলে হয়তো আপনি আপনার শিশু সন্তানকে বকা দেন। কিন্তু সে এটি বুঝতেই পারেনা।

এর প্রভাবঃ এই বয়সের শিশুদের ওপর চিৎকার-চেঁচামেচি পড়লে তারা উদ্বিগ্ন হয়।অনেক বেশি বকাঝকা করলে তাদের মুক্ত চিন্তা এবং আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যা করবেনঃ এক্ষেত্রে আপনি আপনার সন্তানকে শান্ত করে বসিয়ে বুঝিয়ে বলুন কেন তাকে এই কাজটি করতে নিষেধ করছেন এবং কিভাবে তা তার ক্ষতি করতে পারে।

তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুদেরঃ এই বয়সের শিশুরা নিয়মিত অন্যদের আচরণের সাথে নিজের আচরণের তুলনা করে থাকে। কথা বলবেন বা বকাঝকা করবেন সে সেটা শিখবে। মনে রাখবেন এই বয়সে তারা বড়দের কাছ থেকে সম্মান আশা করে।

এর প্রভাবঃ অনেক বেশি বকাঝকা দেয়া পিতা-মাতা ও সন্তানের বন্ধন এর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।শিশু নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করে বাবা-মা যেমন চায় তেমন ভাবেই। কিন্তু এটি আত্মবিধ্বংসী একটি প্রক্রিয়া। এতে সে আপনার প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

যা করবেনঃ যদি কঠিন কথা বলেও ফেলেন তাহলে দ্রুত তাকে বুঝিয়ে বলুন কেন বলেছেন এমন কথা। যদি গ্লাস ভাঙ্গার কারণে বা দুধ ফেলে দেয়ার কারণে বকা দিয়ে থাকেন তাহলে দুজনে একসাথে পরিষ্কারের কাজটি করুন। তার ভুল কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য তাকে যুক্ত করুন কাজটির সাথে।

আপনি যখন তার কাজের সাথে যুক্ত হবেন তখন সে শেখার জন্য আগ্রহী হবে। বকা দেয়ার ও প্রয়োজন আছে শিশুকে একেবারেই বকা না দিয়ে বড় করা ও ক্ষতিকর।

শিশুকে অনেক বেশি প্রশ্রয় দিলেও সে পরবর্তীতে আপনার কথা শুনতে চাইবে না।শৃংখলার শেখাতে চাইবেন তখন সে বিদ্রোহ করবে।একটা সময়ে তার মধ্যে আত্মবিধ্বংসী অভ্যাস যেমন- ধূমপান, দেয়ালের সাথে মাথা খোকা এবং বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি গড়ে উঠবে। তাই ভালো উপায় হচ্ছে কাজ এবং এর পরিণাম পরিকল্পনা করা। শিশুকে বকা দিলেও দিন শেষে তাকে জড়িয়ে ধরুন ও স্নেহের বাক্য বলুন।