আপনার শিশু সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার ৬টি উপায় শিখে নিন

করোনা মহামারির কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ হওয়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে শিশুরা। আর ঘরবন্দি থাকার কারণে শিশুরা সময় কাটানোর উপায় হিসেবে ইন্টারনেটের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে একটা দীর্ঘ সময় ইন্টারনেটে কাটাচ্ছে শিশুরাও। এ নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার নিরাপদ করতে বাবা-মাকে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নজর রাখতে হবে। শিশুরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে কোনো ধরনের বিপদে পড়ছে কি না আর দ্বিতীয়ত তারা কোনো আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে কি না? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটু সচেতন হলেই শিশুদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

১. প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার : শিশুদের যদি কোনো ডিভাইস দেওয়া হয়, তাহলে সেটিতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাটাই নিরাপদ বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের যে ডিভাইসটি দেওয়া হয়, সেটি চালু করতে হলে একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস দরকার হয়। শিশুদের ই-মেইল অ্যাকাউন্টটি খোলার সময় তার জন্মতারিখটি সংযুক্ত করার পর সেটি যদি ১৩ বছরের নিচে হয়, তাহলে এমনিতেই ওই অ্যাকাউন্টটি প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের অধীনে হবে। সে ক্ষেত্রে জানতে চাওয়া হবে যে ওই অ্যাকাউন্টটি অন্য কার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। অর্থাৎ সেখানে যেকোনো একজন অভিভাবকের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দিতে হবে।

২. কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ ইনস্টল করুন : প্যারেন্টাল সেফ ব্রাউজার নামে একটি অ্যাপ আছে। এটা শিশুর ডিভাইসে ইনস্টল করা হলে এটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের অ্যাডাল্ট কনটেন্ট দেখতে পারবে না শিশু। ইউটিউব কিডস নামে একটি অ্যাপ আছে, যেটি শিশুদের কথা মাথায় রেখেই কনটেন্ট তৈরি করে।

৩. চাইল্ড ভার্সন অপশনটি ব্যবহার করুন : ফেসবুক এবং মেসেঞ্জারের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের চাইল্ড ভার্সন আছে। সে ক্ষেত্রে বাচ্চাদের একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে দেওয়া যায়, যেটি তারা ব্যবহার করলেও অভিভাবকদের সুপারভাইজ করার সুযোগ থাকে। যেমন- ফেসবুকে কেউ রিকোয়েস্ট পাঠালে আগে বাবা বা মায়ের কাছে যাবে। আপনি অনুমতি দিলে তখন গ্রহণযোগ্য হবে।

৪. ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার সময় সচেতন হোন : যে কম্পানির কাছ থেকে ইন্টারনেট সংযোগটি নেওয়া হচ্ছে, তাদের বাচ্চাদের জন্য সেফ ইন্টারনেটের ফিচারটি আছে কি না সেটি যাচাই করে নেওয়া ভালো। এই ফিচারটি থাকলে সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছ থেকেই কিছু সাইট বা কনটেন্ট ব্লক করে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

৫. ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় : বিশ্বের অনেক দেশেই একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর ইন্টারনেট চালাতে দেওয়া হয় না। শিশুরা কতক্ষণ অনলাইন বা ইন্টারনেটে থাকবে তার একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

৬. শিশুর সঙ্গে আপনিও অংশ নিন : ইন্টারনেট ব্যবহারকালে সময় থাকলে আপনিও শিশুর সঙ্গে বসুন। শিক্ষামূলক বিভিন্ন চ্যানেল এবং ওয়েবসাইট রয়েছে। তাদেরকে সেগুলো দেখতে উৎসাহিত করুন।