মাংস রান্না করার পর এই ৩টি কাজ ভুলেও করবেন না

পেট ভরার জন্য রান্না করলেই হয় না, খাবারটি নিরাপদ আছে কিনা সেটাও লক্ষ্য রাখা দরকার।

সাধারণত বলা হয় রান্না করা খাবার দুই ঘণ্টা বাইরে ফেলে রাখলেই ব্যাক্টেরিয়ার জন্মাতে শুরু করে। যে কারণে খাবার রান্নার পর পরই খেয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। নয়তো দ্রুত ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে তুলে রাখতে হয়।

আবার ফ্রিজে রান্না খাবার তিন-চার দিনের বেশি রাখা ঠিক না।

আর মাংস রান্নার পর বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। কারণ কাঁচা মাংস থেকে যেমন ব্যাক্টেরিয়া ছড়ায় তেমনি রান্না মাংসেও সেই জীবাণু চলে যেতে পারে অসাবধানতায়।

কাঁচা মাংসের পাত্রেই রান্না করা মাংস রাখা

যে পাত্রে কাঁচা মাংস রাখা ছিল সেই পাত্রই ধুয়ে মুছে রান্না করা মাংস রাখা মোটেই নিরাপদ নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)’ এই ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে জানায়, অসাবধানতায় কাঁচা মাংসে থাকা জীবাণু রান্না করা মাংসেও চলে যেতে পারে।

তাই দুটি পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেয় সিডিসি। একটিতে কাঁচা মাংস রাখার জন্য, অন্যটি রান্না করা মাংস রাখার জন্য।

শুধু প্লেট ধোয়া কার্যকর নয়

রান্নার পরে যে কোনো পাত্র থালা-বাসন ভালো মতো পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ ধোয়াতে তেমন কার্যকর হয় না।

কারণ ‘ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)’ এই বিষয়ে নির্দেশনা দেয় যে, ব্যাক্টেরিয়া দূর করার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে ধোয়া। তবে খাবার বিষাক্ত করতে পারে এরকম ব্যাক্টেরিয়া যে কোনো স্থানে অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।

যেমন- ‘ক্যাম্পিলোব্যাক্টার’ রান্না ঘরে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকে। ‘সালমোনেলা’ বেঁচে থাকতে পারে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। আর এই দুই ব্যাক্টেরিয়া-ই কাঁচা হাঁস-মুরগির মাংসে থাকে।

তাই এই সংস্থা, মাংস রান্নার পর সব ধরনের পাত্র কুসুম গরম সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে সময় নিয়ে ধোয়ার পরামর্শ দেয়।

কাঁচা মাংসের পাত্র ‘স্যানিটাইজ’ করা

রান্নার পাত্র ধোয়া জীবাণু মুক্ত করার সাধারণ উপায়। তবে কাঁচা মাংসের পাত্র শুধু ধুলেই হবে না, জীবাণু মুক্ত করার জন্য রান্নাঘরে ব্যবহার উপযোগী স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

ইউএসডিএ জানায়, যে পাত্রে কাঁচা মাংস রাখা ছিল তা ধোয়ার পর স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করা জরুরি। শুধু থালা-বাসন নয়, রান্নাঘরের সিংক, মেঝে এবং যেখানেই কাঁচা মাংস রাখা হয়েছে ও ধোয়া হয়েছে সেসব জায়গাও স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। না হলে জীবাণু দূর হবে না।

রান্নাঘর ও থালাবাসনে ব্যবহারের জন্য বাজারে নানান ধরনের স্যানিটাইজার কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়া নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন এই জীবণুনাশক।

ইউএসডিএ এক্ষেত্রে জানায়, এক গ্যালন পানিতে এক টেবিল-চামস গন্ধহীন তরল ব্লিচ মিশিয়ে সহজেই তৈরি করে নেওয়া যায় স্যানিটাইজার।

এই মিশ্রণে থালাবাসন কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে তারপর কুসুম গরম সাবান-পানিতে ধুতে পারলে পাত্রগুলো নিরাপদ করা সম্ভব।

এরপর টিস্যু দিয়ে মুছে কিংবা পানি ঝরিয়ে রেখে দিতে পারেন বাতাসে শুকানোর জন্য।

নিজের হাত ধোয়া

থালা-বাসন, রান্নার পাত্র সব ধোয়ার পর নিজের হাতও ধুতে হবে। শুধু রান্নার পর নয়, রান্নার আগেও।

হাত থেকে জীবাণু খাবারে বা খাবার থেকে জীবাণু যাতে হাতে না আসতে পারে, এজন্য রান্নার কাজ শুরুর আগে ও পরে দুবারই সাবান মেখে বিশ সেকেন্ড হাত-ডলে পরিষ্কার করে চলন্ত পানিতে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেয় সিডিসি।

আর মাংস ও ডিম পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এসব কাঁচা খাবার থেকেই ব্যাক্টেরিয়া ছড়িয়ে যেতে পারে সিংক, রান্নাঘরের তাকসহ বিভিন্ন জায়গায়।

তাই রান্নাঘরের বাইরে মাংস ধোয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।