এই ভুলগুলির কারনেই অনেক চেষ্টার পরও আপনার ওজন কমছেনা

আজকাল মানুষ অনেক স্বাস্থ্য সচেতন। কার একটু ওজন বেশি হলেই তার আশেপাশের মানুষ বলতে শুরু করে, কিরে এত মোটা হয়ে যাচ্ছিস কেন? কেউ আবার নিজ থেকেই শুরু করে অতিরিক্ত ওজন কমনোর প্রক্রিয়া।

১) ওজন কমানোর নেশায় অধিকাংশ মানুষই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ডায়েট চার্ট তৈরি করে নেন। কিন্তু নিজেদের ইচ্ছামতো করে ডায়েট করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুল পদ্ধতিতে খাবার খেয়ে শরীরের ‘ওয়াটার ওয়েট’ বেড়ে যায়। যে কারণে বেড়ে যায় শরীরের ফোলা ভাব।

২) তাড়াহুড়ো করে ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই তো খাওয়া দাওয়া প্রায় ছেড়েই দেন। সারা দিন তারা বিস্কুট, আপেল বা একেবারে হালকা কিছু খাবার খেয়ে কাটিয়ে দেন। পুষ্টিবিদদের মত অনুযায়ী, পরিমাণ মতো পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার না খেলে রোগা হওয়া সম্ভব নয়, বরং তা আপনার সমস্যা ও ওজন দুইই বাড়িয়ে দেবে।

৩) তড়িঘড়ি ওজন কমানোর জন্য অনেকেই হটাৎ অতিরিক্ত শরীরচর্চা বা ওয়ার্ক আউট করতে শুরু করেন। আচমকা শরীরের উপর অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়বে। ফলে বাড়বে স্ট্রেস।

৪) শরীরের ‘ওয়াটার ওয়েট’ বাড়ার সবচেয়ে বড় কারণ স্ট্রেস বা মানসিক-শারীরিক চাপ। অতিরিক্ত স্ট্রেসের ফলে বাড়বে শরীরের ‘ওয়াটার ওয়েট’।

আবার কেউ কেউ যখন অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে যান আর ডাক্তার যখন বলেন-‘আপনার ওজন কমাতে হবে’, তখন তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয় ওজন কমানোর জন্য, যে আর না সত্যি এবার ওজন কমাতে হবে। তবে যে কারণেই একজন মানুষ ওজন কমাতে চান না কেন কিন্তু সেই ওজনটা কমাতে হবে সঠিক উপায়ে।

ওজন কমাতে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষ নিজে নিজে চেষ্টা শুরু করে দেন। কেউ আবার অনলাইন থেকে ডায়েট নিয়ে ওজন কমানোর মিশনে নেমে যান।

অনেকে আবার নিজে নিজে ডায়েট করতে গিয়ে খাবার দাবার এমন কমিয়ে ফেলে যে তার শরীরে দেখা দেয় বিভিন্ন পুষ্টির অভাব; ফলে শুরু হয় দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, খাবারে অনীহা, রক্ত কমে যাওয়া ইত্যাদি।

কিন্তু ডায়েট করতে গেলে একজন মানুষকে তার শারীরিক অবস্থা, তিনি কী ধরনের কাজ করেন, তার ওজন কতটা বেশি, তার খাদ্য অভ্যাস, মহিলা না পুরুষ, তার ওজন কত, উচ্চতা কতখানি ইত্যাদি বিবেচনা করে তার ওজন কমানোর ডায়েট তৈরি করতে হয়।

সবার ডায়েট এক রকম হবে না। প্রত্যেক মানুষ যেমন আলাদা তেমনি তাদের ডায়েটও হবে আলাদা। এমনকি কারও যখন ডায়েট তৈরি করতে হয় তখন ওই ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করেও ডায়েট তৈরি করা হয়। এমনকি তার রুচি,খাদ্য অভ্যাস,কোন খাবারে অ্যালার্জি আছে কিনা তাও বিবেচনা করতে হয়।

তাই ডায়েট করা প্রয়েজন হলে নিজে নিজে ডায়েট করবেন না। না বুঝে ডায়েটে ওজন হয়তো কার কার ক্ষেত্রে কিছু কমবে কিন্তু অন্য দিক দিয়ে হয়তে শরীরের বারোটা বেজে যাবে।

আর এখন সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার লক্ষ্য করছি, আর সেটা হল স্কুল কলেজের বাচ্চার নিজে থেকেওজন কমাতে গিয়ে করো কথা না শুনে নিজে নিজে ডায়েট শুরু করে দেয়; যা কিনা তার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক খারাপ।

না বুঝে নিজের পছন্দমতো ডায়েট করার কারণে বাড়ন্ত শরীরে যে পুষ্টির দরকার তার অভাবে শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পড়াশোনায় অনীহা দেখা দেয়, রেজাল্ট খারাপ করে তাই না বুঝে ডায়েট না করাই ভাল।

একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞকে দেখালে উনি আপনার সবকিছু বিবেচনা করে ওজন কমানের ডায়েট চার্ট তৈরি করে দেবেন যা আপনার শরীরের কোনোরকম ক্ষতি না করে সুন্দরভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

লেখক: মাহফুজা নাসরীন শম্পা, পুষ্টিবিদ।

Leave a Reply