এই গরমে অসহ্য মাথাব্যথার এই ৬টি কারণ অবহেলা করলেই বিপদ, সতর্ক হন

গরমে রোদে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেছে। গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কিন্তু গরম বা রোদের সঙ্গে মাথাব্যথার সত্যি কি কোনো সম্পর্ক আছে? হ্যাঁ, আছে। বেশ কয়েকটি কারণে এই গরমে আপনি মাথাব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন।

প্রথমটি হলো পানিশূন্যতা। খুব ঘেমে গেলে আমরা শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ হারাই। এর ফলে শরীর পানিশূন্য হয়, ইলেকট্রোলাইট বা লবণের তারতম্য হয়। এর একটা উপসর্গ হলো মাথা ধরা, মাথা ঝিমঝিম করা, স্পষ্ট চিন্তা না করতে পারা। আসুন জেনে নেই আরো কিছু কারণ।

১. ঘামে ভিজে সাইনোসাইটিস

গরমে ঘামে ভিজে ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সাইনোসাইটিসের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। ফলে নাক বন্ধ, সর্দি জমার সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন। সাইনাসের ভেতর পুঁজ বা সর্দি জমার কারণে এমন হয়। সাইনোসাইটিসের ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন।

২. ঘামে চুল ভিজে মাথাব্যথা

চুল ঘেমে গিয়ে (বিশেষ করে মেয়েদের ও ছোট শিশুদের) ঠান্ডা লাগার মতো হয় ও মাথাব্যথা শুরু হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘেমে গেলে দ্রুত মাথা ও শরীর মুছে ফেলতে হবে, ভেজা জামাকাপড় পালটে ফেলতে হবে। পাতলা সুতি জামাকাপড় পরবেন।

৩. প্রখর রোদে মাইগ্রেনের ব্যথা

গরম, বিশেষ করে প্রখর রোদে মাইগ্রেনের রোগীদের মাথাব্যথা শুরু হওয়া বিচিত্র নয়। এ ছাড়া গরমে আইসক্রিম, চকলেট জাতীয় খাবার খেলেও মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ে। সূর্যের তীব্র আলো চোখে পড়লে এই মাথাব্যথা শুরু হয়। তাই রোদ থেকে বাঁচতে রোদচশমা বা ছাতা ব্যবহার করা উচিত। দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে বেরোনো, বিশেষ করে কোলাহলময় এলাকা যেমন মার্কেট, মেলা ইত্যাদি জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে মাইগ্রেন রোগীদের।

৪. পানির অভাবে মাথাব্যথা

সাধারণ ক্ষেত্রে শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে মাথাব্যথা শুরু হয়। গরমকালে ঘামের মাধ্যমে শরীর প্রচুর পানি হারায়। এই হারানো পানি ও লবণ আবার যথাযথভাবে পূরণ না করা হলে দেহে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা এমনকি লবণের তারতম্য। যাঁরা দীর্ঘ সময় বাইরে গরমে ও রোদে কাজ করেন, তাঁদের এই আশঙ্কা বেশি। তাই গ্রীষ্মকালে প্রচুর পানি পান করা উচিত। সকালে ঘুম থেকে উঠেই পর পর দুই গ্লাস পানি পান করে নিন, তারপর সারা দিনে অন্তত আরও দেড়-দুই লিটার। গলা, জিব শুকিয়ে আসা, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়ার লক্ষণ পানিশূন্যতা। এমনটা বোধ করলে সতর্ক হন, ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিন ও প্রচুর পানি পান করুন।

৫. খাওয়াদাওয়ায় সমস্যা থেকে মাথাব্যথা

এই গরমে কিছু খেতে ইচ্ছে না হলেও, খাওয়ার সময়গুলি (ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, স্ন্যাকস, ডিনার) যেন বাদ না পড়ে যায়। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের এই বিষয়ে সাবধান হতে হবে। গরমে স্পাইসি বা তেল-জাল-মশলা জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। চকোলেট, কফি, রেড ওয়াইন খাবেন না এই সময়ে। এগুলি শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

৬. হিট স্ট্রোক

অতিরিক্ত গরমে হঠাৎ কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। এতে দেহের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ১০৪ ডিগ্রি ফারেহাইটে পৌঁছাতে পারে। মাথাব্যথা, ঝিমঝিম, বমি বমি ভাব, অবসন্নতা এমনকি খিঁচুনি বা জ্ঞান হারাতে পারেন কেউ। এমন হলে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীতল জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, পোশাক ঢিলে করে দিন বা খুলে দিন। বাতাস করুন বা ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। বগলে বা কুঁচকিতে বরফ ধরে রেখে দেহের তাপমাত্রা কমানো যায়। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া উচিত।

মোট কথা, এই মৌসুমে প্রায়ই মাথাব্যথায় আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে যথেষ্ট পানি পান, প্রখর রোদ এড়িয়ে বা নিজেকে বাঁচিয়ে চলা ও অতিরিক্ত ঘাম থেকে নিজেকে রক্ষা করে এই মাথাব্যথা থেকে বাঁচতে পারেন। অনেকক্ষণ বাইরে কাটানোর পর এমন বোধ হলে দ্রুত পানি পান করুন অথবা লবণপানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ইত্যাদি পান করুন। দেখবেন মাথা ধরা অনেকটাই কম মনে হচ্ছে।