হোপ- ‘শিশুটি অভিশপ্ত’ এই অন্ধবিশ্বাসে মা-বাবার ফেলে যাওয়া এক শিশু

ঘটনাটি নাইজেরিয়ার। শিশুটি অভিশপ্ত এই ধরনের এক অন্ধবিশ্বাসের ফলে তাকে তার মা-বাবা ফেলে চলে যায়। শিশুটি যখন প্রায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তখন এক ডেনিস সাহায্য সংস্থা শিশুটিকে খুঁজে পায়। এরপর শিশুটির জীবন পরিবর্তিত হয়। এই আবেগঘন গল্প নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

নাইজেরিয়াতে ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে ক্ষু্ধার্ত এই শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যায়। তখন সে দেখতে এমন ছিল।

ঠিক ১ বছর পরে সে এখন দেখতে ঠিক এই রকম। ছবিটি তার প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন তোলা হয়েছে।

এক অন্ধ বিশ্বাসের ফলে ছেলেটির মা-বাবার তাকে এভাবে ফেলে রেখে যায়।

সাহায্য সংস্থাটি তাকে পাওয়া মাত্রই হসপিটালে নিয়ে যায় এবং তার চিকিৎসা করায়। তারা তার নাম রাখে “হোপ”।

৮ মাসের মধ্যেই সে তার স্বাস্থ্য ফিরে পেতে থাকে।

তার চুল কেটে দেওয়া হয়। যাতে সে নতুন চুলের সাথে নতুন জীবন শুরু করতে পারে।

সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়েছে। এখন তাকে আর চেনাই যাচ্ছেনা।

সে এখন একটি অনাথ আশ্রমে থাকে যেখানে তার মত অন্যান্য বাচ্চারা রয়েছে। সেসব বাচ্চাদেরকেও একই ধরনের কুসংস্কারের ফলে তাদের মা-বাবা ফেলে চলে যায়।

কিভাবে কেউ বলতে পারে এই নিষ্পাপ শিশুটির মাঝে কোন শয়তান রয়েছে।

অনাথ আশ্রমটি পরিচালনা করেন আনজা রিংরেন লভেন এবং তার দল।

আনজা একটি ডেনিস স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের হয়ে কাজ করেন যারা নাইজেরিয়াতে সক্রিয়ভাবে তাদের কাজ পরিচালনা করছেন।

আনজা তার ফেসবুকে লিখেছেন, সকল শিশুরই মৌলিক অধিকার রয়েছে এবং এই অধিকার গুলোকে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।

এক বছরের যত্ন এবং ভালবাসায় “হোপ” এক নতুন জীবন পেয়েছে।

পৃথিবীর এখনো অনেক দেশে নানা কুসংস্কার বিদ্যমান। এসবের কোন ভিত্তি নেই, কিন্তু অবুঝ অনেক শিশু এর শিকার হচ্ছে। তাই প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এসবের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ গড়ে তোলা উচিত।

মনে রাখতে হবে, মানবতার চেয়ে বড় শক্তি আর কিছু নেই। মানবতা মুক্তির সবচেয়ে বড় পথ।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।