আপনার লিভারের এই ৮টি অপ্রত্যাশিত লক্ষণে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হয়

আমাদের দেহের অনেক জরুরি কার্যক্রম পরিচালনাকারী লিভার (কলিজা বা যকৃত) নষ্ট হয়ে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ লিভার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আর মারাত্মক রূপ ধারণ করার আগেই যেন আমরা লক্ষণ দেখে বুঝে নিতে পারি লিভারের সমস্যা সম্পর্কে।

আমরা আপনার বোঝার সুবিধার্থে এমন ৮টি লক্ষণ জড়ো করেছি যা আপনাকে বলে দেবে দ্রুত ডাক্তার দেখানো জরুরি কি না।

১. ত্বক এবং চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া

আপনার যদি এই উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে লিভার খুব বিপদে আছে। জন্ডিস নামে পরিচিত এই পরিস্থিতিতে আপনার ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং শ্লেষ্মা হলুদ রং ধারণ করে। লিভার বা যকৃতের কোষগুলো কোনো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ড্রাগ বা অ্যালকোহলের অত্যাচারে নষ্ট হতে থাকলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে জন্ডিস দেখা দেয়।

সুস্থ লিভার খুব সহজেই বিলিরুবিন অপসারণ করতে পারে। কিন্তু মারাত্মক অসুস্থ হলে জন্ডিস হিসাবে প্রকাশ পায়।

২. অকারণ ক্লান্তি এবং অবসাদগ্রস্ততা

এই ক্লান্তি পরিশ্রমের ক্লান্তির চেয়েও বেশি কিছু। অবসন্নতা দেখা দেয় শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার মাধ্যমে। আপনার কোনো কিছুই ভালো লাগবে না। কখনো কখনো শুধু সকালের দিকে বিছানা ছেড়ে ওঠাতে কষ্ট হয় আবার কখনো কখনো দিন ভর ক্লান্ত লাগে।

৩. পেট ফুলে যাওয়া

যেসব অস্বস্তিকর উপসর্গ ব্যথা তৈরি করে তার মধ্যে রয়েছে পেট ফুলে যাওয়া তার মধ্যে একটি। পেটের ভিতরে ফ্লুয়িড জমে জমে এক পর্যায়ে পেট ফুলে ওঠে। কারো কারো ক্ষেত্রে অবস্থা এমন হয় যে পেটের আকার গর্ভবতীদের মত ধারণ করে। পেট ফোলার সাথে সাথে পা এবং গোড়ালিও ফুলে উঠতে পারে।

৪. ক্ষুধামন্দা এবং ওজন হ্রাস পেতে থাকা

ডাক্তারদের মতে এক্ষেত্রে দেহের মোট ওজনের ১০% এরও বেশি ওজন কমে যেতে পারে। পেট ফুলে ওঠার সাথে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। যখন আপনার পেট ফোলা থাকবে তখন আপনার খিদেও কম থাকবে। আবার ব্যথার কারণে খাওয়াও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

৫. ত্বকে মাকড়শার জালের মত দাগ হওয়া

আমাদের ত্বকের নিচে অবস্থিত ছোট ধমনীগুলো স্ফীত হয়ে মাকড়শার জালের মত রূপ ধারণ করতে পারে। যদি বুকের উপরাংশে, হাতে, ঘাড়ে এবং মুখমণ্ডলে এদের উপস্থিতি দেখতে পান তাহলে এগুলো লিভার রোগের লক্ষণ।

৬. কালশিটে দেখা দেওয়া

আপনার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোটিন উৎপাদন বন্ধ অথবা ধীর হয়ে যায়। ফলে রক্ত জমাট বাধার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে পড়ে। এজন্যই লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিদের চেয়ে বেশি রক্তক্ষরণ অথবা কালশিটে হতে দেখা যায়।

৭. প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া

রঙয়ের ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু প্রস্রাবের রঙ স্বাভাবিকের চেয়ে গাঢ় হবে এটা সুনিশ্চিত। আপনার প্রস্রাবের রং হতে পারে বাদামী, গাঢ় কমলা অথবা পীতাভ বাদামী রঙের। এর কারণ ওই একই, ক্ষতিগ্রস্ত লিভার অতিরিক্ত বিলিরুবিন ভাঙতে পারে না।

৮. চুলকানি হওয়া

কখনো কখনো চুলকানি হতেই পারে। কিন্তু ত্বকের সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গায় চুলকানি হওয়ার পেছনে লিভার অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি নজরে আনতে হবে। অসুস্থ লিভার যখন টক্সিন শোধন করতে না পারায় দেহ অনেক দূষিত হয়ে পড়ে, তখন দেহে প্রচণ্ড চুলকানি সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে রাতের বেলায়।

আপনি কি লিভারের যত্ন নেন? নিচের কমেন্টে লিখে জানান কিভাবে আপনি লিভার নষ্ট হওয়ার হাত থেকে নিজেকে বাঁচান।