এসবেরও যে মেয়াদ থাকতে পারে ধারণা ছিল আপনার? জেনে নিন এই জরুরী স্বাস্থ্য তথ্য

গর্দানে মাথা ঠিক আছে তো আপনি খাড়া। মাথা ঠিক নেই তো দুনিয়া অচল। আর এই মূল্যবান মাথাটি যার ওপর রেখে আপনি রোজ আরাম করে ঘুমান, তার নাম বালিশ। অনেকে লম্বা অলস ঘুমে নিজেরাই বালিশ হয়ে যান বটে, কিন্তু বালিশের ভালোমন্দ নিয়ে মাথা ঘামান না। দিনের পর দিন ব্যবহারে বালিশটি তেল চিটচিটে হয়ে গেছে? আরে, ফুঃ! কাজ চলছে তো। কিন্তু এরও তো একটা মেয়াদ থাকা চাই। শুধু বালিশ কেন, মেয়াদ থাকা চাই আরও অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় দরকারি জিনিসের। জেনে নিন সে কথা।

ব্রা: ২ বছর

ব্যবহার শুরুর পর সর্বোচ্চ ২ বছর একটি ব্রা পড়া স্বাস্থ্য সম্মত। তা না হলে এটি স্তনের আকার পরিবর্তন এবং পিঠে ব্যথার মত স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাছড়া এর ফ্রেব্রিকসও ঢিলে হয়ে যায়।

বালিশ: ২-৩ বছর

বালিশ বেশি পুরোনো হলে তেল চিটচিটে হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ তো ছড়ায়ই, সঙ্গে পরজীবী পোকামাকড়ের নিরাপদ আশ্রয়ও হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ছারপোকার জন্য বালিশ বড় আরামদায়ক স্থান। এ ছাড়া পুরোনো হলে বালিশের আকার ঠিক থাকে না। যে কারণে হতে পারে ঘাড়ব্যথা।

কম্বল: ৭ বছর

বালিশের মত এর পরিবর্তনগুলোও একই রকম। যদিও বালিশের চেয়ে এর মেয়াদ বেশি দিন থাকে-৭ বছর। সঠিক ব্যবহার এবং যথাযথ যত্ন করলে এর মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তারপর আপনাকে নতুন কম্বলের কথা ভাবতে হবে।

ম্যাট্রেস: ৮-১০ বছর

নতুন ম্যাট্রেস কেনার আগে মাথায় রাখবেন এটি ৮-১০ বছরের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। প্রতি ৬ মাস অন্তর ১ বার ম্যাট্রেস উল্টিয়ে দিতে ভুলবেন না।

স্লিপার: ৬ মাস

অনেক দিন ধরে পায়ে স্লিপার বা চপ্পল ব্যবহারে এমন সংক্রমণ হতে পারে, যা থেকে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। ছয় মাসের বেশি পুরোনো হলেই ফাঙ্গাস বাসা বাঁধে এর মধ্যে। আর তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে আমাদের শরীরে। তাই স্লিপার জোড়া সব সময় পরিষ্কার রাখুন। মেয়াদ পার হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

স্পঞ্জ বা শাওয়ার পাফ: ২ সপ্তাহ থেকে ৬ মাস

গোসলের সময় অনেকেই স্পঞ্জ ও শাওয়ার পাফ ব্যবহার করেন। প্রতিদিন এটি ভেজা থাকে বলে এতে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক জন্ম নিতে পারে। তাই প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম—যে ধরনেরই হোক না কেন, শাওয়ার পাফ গরম পানিতে পরিষ্কার করা জরুরি। এতে জীবাণু দূর হয়। এরপরও জীবাণু কিন্তু একেবারে বিদায় হয় না। এ জন্য একজনের শাওয়ার পাফ আরেকজন ব্যবহার করা উচিত নয়।

তোয়ালে: ১-৩ বছর

কাপড়ের মান অনুযায়ী তোয়ালের মেয়াদ এক থেকে তিন বছর। ভেজা তোয়ালে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। বেশি পুরোনো তোয়ালে নিয়মিত পরিষ্কার করলেও এ সমস্যা থেকে যায়।

টুথপেস্ট: ১ বছর, দাঁতের ব্রাশ: ৩ মাস

টুথব্রাশের ব্রিসল ক্ষয়ে গেলে পাল্টে ফেলুন। এ ছাড়া ঠান্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও টুথব্রাশ পরিবর্তন করা ভালো। নইলে ওই ভাইরাস আবার আক্রমণ করে বসবে। আর টুথপেস্টের মুখ খোলার পর ১ বছরের বেশি সময় ব্যবহার করা যাবে না।

হেয়ার ব্রাশ: ১ বছর

সপ্তাহে এক দিন হেয়ার ব্রাশ পরিষ্কার করুন। আর একেবারে বাতিলের খাতায় ফেলুন এক বছর হলে। প্রাকৃতিক ব্রিসলের ব্রাশ হলে আরও দ্রুত বদলানো জরুরি।

সুগন্ধী: ১-৩ বছর

সুগন্ধীতে একধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়, যার মেয়াদ বদ্ধ অবস্থায় ৩ বছর। আর সুগন্ধীর আধার বোতল বা ক্যানের মুখটা খুলে ফেললে এর মেয়াদ নেমে আসে ২ বছরে। তাই মান অনুযায়ী সুগন্ধী বদলে ফেলুন ১-৩ বছরের মধ্যে।

দৌড়ানোর জুতা: ১ বছর

জুতার বয়স বছর দিয়ে মাপা ঠিক হবে না। হিসাব করে দেখুন, জুতা জোড়া পায়ে দিয়ে কতটুকু পথ দৌড়েছেন। ২৫০-৩০০ মাইল দৌড়ালে জুতা জোড়া আরামদায়ক হওয়ার কথা নয়। এতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে আপনার পায়ে। এ ছাড়া ঘামের কারণে দুর্গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়া তৈরির এক বিদঘুটে কারখানাও হয়ে ওঠে জুতা। তাই জুতার ভেতর-বাইর দুটোই থাক পরিষ্কার।

মসলা: ১-৩ বছর

মসলার বয়স বেড়ে গেলে হারায় সুগন্ধ ও স্বাদ। মসলা তো ব্যবহারই করা হয় এই দুটি গুণের কারণে। অতএব মসলা পুরোনো হলে ফেলে দিন। তবে গুঁড়া মসলার বয়স (হলুদ, মরিচ, জিরা ইত্যাদির গুঁড়া) ৬ মাস হলে ব্যবহার না করাই ভালো।

আটা-ময়দা: ৬-১২ মাস

সাধারণ মানের আটা-ময়দা ছয় মাস খাওয়া যায়। ভালো মানের বেলায় সেটা ১২ মাস পর্যন্ত হতে পারে।

অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র: ১৫ বছর

অতিপ্রয়োজনীয় এই যন্ত্রটির মেয়াদ ১৫ বছর বলে হাঁপ ছাড়বেন না। যন্ত্রটি নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ফায়ার এক্সটিংগুইশারের হোসপাইপ ফেটে গেলে কিন্তু বিপদে কোনো কাজেই আসবে না!

মাল্টি প্লাগ: ১-২ বছর

অতিপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক জিনিসপত্রের মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতিদিনই হয়তো একটা মাল্টি প্লাগ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পায় টিভি-ফ্রিজ-মোবাইল ফোন-ওয়াশিং মেশিন-ইস্তিরির মতো যন্ত্রগুলো। প্রতিটি মাল্টি প্লাগই নির্দিষ্ট মাত্রার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন। ফলে অতিরিক্ত চাপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে দ্রুতই। মাল্টি প্লাগ নষ্ট হলে ঘরের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রও নষ্ট হয়ে যেতে পারে অনায়াসে। এ ছাড়া শর্টসার্কিট হয়ে আগুন লাগার মতো দুর্ঘটনাও ঘটে এর থেকে।

মশানিরোধক স্প্রে: ২ বছর

Hand holding mosquito spray on nature background

মশানিরোধক স্প্রে দুই বছর পর আর কাজ করে না। অতএব শুধু শুধু স্প্রে করলে মশা মরবে না। উল্টো ক্ষতি হবে আপনারই।